ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, হরিণাকুণ্ডু:
কোনো প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দিনের পর দিন চলছে হরিনাকুণ্ডুর আলহেরা ক্লিনিক। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে, নেই আবাসিক চিকিৎসক ও নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল। অভিযোগ করেছে, সেখানে চিকিৎসার আড়ালে দেহব্যবসা চালাচ্ছেন ক্লিনিকটির পরিচালক রেজাউল ইসলাম। সম্প্রতি একজন নার্সও এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে গোপনে দেহব্যবসা চালানোর অভিযোগ করেন।
এদিকে ক্লিনিকটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অবস্থিত হওয়ায় এ খবরে ফুসে উঠেছেন এলাকার সচেতন নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্যরা। তারা অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে ক্লিনিকটি অপসারণ এবং মালিক রেজাউল ইসলামের বিচার দাবি করেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে প্রাইভেট ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার জন্য হরিনাকুণ্ডু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নিচতলা ও উপতলার দুটি ফ্লোর ভাড়া নেন রেজাউল ইসলাম। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে ‘আলহেরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। শুরু থেকেই ক্লিনিকে কোনো আবাসিক চিকিৎসক, ডিপ্লোমা নার্স ও ল্যাব টেকনিশিয়ান ছাড়াই তিনি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করে রোগীদের সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত করছেন। গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ আলহেরা প্রাইভেট ক্লিনিক পরিশর্দন করেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তিন জন ডাক্তার ও ছয়জন নার্স থাকার নির্দেশনা থাকলেও পরিদর্শনকালে তিনি ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতি পাননি। যে কারণে সেসময় প্রতিষ্ঠানের মালিককে ব্যাখ্যা তলব করেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন, রেজাউল ইসলাম নিজেই রোগীদের জীবন বিপন্ন করে অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও সিজার করেন।
হরিণাকুণ্ডু মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি সাদিক আহমেদ বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স আমাদের গৌরবের স্থান। তাই এখানে সরকারি আদেশ বহির্ভূত কোনো ক্লিনিক ব্যবসা বা তার আড়ালে দেহব্যবসা পরিচালিত হলে তা আমরা হতে দেব না।’
অনিয়ম ও দেহব্যবসার বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিকের পরিচালক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এখানে দেহব্যবসা হয় বলে আমার জানা নেই। ক্লিনিকে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, এগুলো ঠিক করা হবে।’
হরিনাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুস্মিতা সাহা বলেন, ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনৈতিক কাজ চালানোর অভিযোগ আমিও পেয়েছি। তিনি ঠিকমতো ভাড়াও পরিশোধ করেন না। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ৭ দিনের ভেতর বকেয়া পরিশোধসহ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ছাড়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, তিনি সতর্কতা করার জন্য একবার কৈফিয়েত তলব করেছেন। তিনি পুনরায় ওই ক্লিনিকে পরিদর্শনে যাবেন এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।
