অবৈধভাবে ভৈরব নদের পাড় কেটে মাটি ও বালি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়

আপলোড তারিখঃ 2023-02-02 ইং
অবৈধভাবে ভৈরব নদের পাড় কেটে মাটি ও বালি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায় ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদক: দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় ভৈরব নদের বালি ও মাটি অবৈধভাবে উত্তোলন করে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রির ধুম পড়েছে। উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সুবলপুর ঘাট, কার্পাসডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের নিচে, খাবলিপাড়া এবং মিশনপাড়ায় রাতদিন ভৈরব নদের বালি ও মাটি ইটভাটাসহ বিভিন্ন জায়গায় চড়া দামে বিক্রি করছে একটি চক্র। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়েকটি ভেকু মেশিন দিয়ে ট্রাক্টরের মাধ্যমে ভৈরব নদীর মাটি ও বালি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে তারা। অভিযোগ রয়েছে, ভৈরব নদীর মাটি ও বালি বিক্রয়ের নেপথ্য রয়েছেন রঘুনাথপুর গ্রামের চিহ্নিত ভূমি দস্যু জনি ও কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের লাল্টু। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকে অভিযোগ করেন, জনি এলাকার ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার নাম ভাঙিয়ে ভৈরব নদ দখলে নিয়ে প্রতিনিয়ত বালি ও মাটি উত্তোলন করে বিভিন্ন ইটের ভাটায় বিক্রি করছেন। ভৈরব নদের পাড় কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার কারণে ভৈরব নদ খনন করার থেকে না করাই ভালো ছিল। কারণ পাড় কাটার কারণে ভৈরব নদ যেমন তার সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে, তেমনি নিচু হয়ে যাচ্ছে নদীর এলাকা। যার ফলে এ নদীতে অনেক পানি ধরে রাখা ও পানির প্রবাহ ঠিক রাখা কোনোদিনই সম্ভব হবে না। জনি ও লাল্টুর প্রভাবের কাছে অসহায় স্থানীয়রা। তাদের ভয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছে না। এরই মধ্যে গত সোমবার কার্পাসডাঙ্গার কয়েকজন যুবক মাটি বহনের ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর থামিয়ে চাবি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেয়। ট্রাক্টরের চাবির জন্য মাটি ও বালি বিক্রির অন্যতম হোতা জনি বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করতে শুরু করে। ভৈরব নদ থেকে অবৈধভাবে বালি ও মাটি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে জনি বলেন, ‘আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। আমি কখনই মাটি উত্তোলের স্থানে যায়নি।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাল্টু সঠিক কোনো উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যান। গ্রামবাসী জানায়, অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী একটি চক্র ভৈরব নদের বালি ও মাটি বিভিন্ন নেতাদের নাম ভাঙিয়ে উত্তলোন করছেন ও ইটের ভাটায় বিক্রি করছেন। এর ফলে ক্ষমতাসীন দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। জনি, লাল্টুসহ এর সঙ্গে জড়িত সকল ভূমিদস্যুসের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে দামুড়হুদায় উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবু, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোকসানা মিতা ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল। এ বিষয়ে দামড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোকসানা মিতা বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অবৈধভাবে নদী থেকে বালু ও মাটি কেটে বিক্রি করা যাবে না। আমি বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করব।’ চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ জানান, ‘আমরা বেশ কয়েকজনকে আইনের আওতায় এনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছি। থানা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানানো হচ্ছে। অবৈধভাবে কেউ মাটি কেটে বা বালি কেটে বিক্রি করলে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হবে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)