‘বিএনপি নেতাকে টেনে-হিঁচড়ে আটকের ভিডিও ভাইরাল, সমালোচিত পুলিশ’

আপলোড তারিখঃ 2022-12-25 ইং
‘বিএনপি নেতাকে টেনে-হিঁচড়ে আটকের ভিডিও ভাইরাল, সমালোচিত পুলিশ’ ছবির ক্যাপশন:
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের অসৌজন্যমূলক আচরণ রীতিমতো মানবাধিকার লঙ্ঘন : জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবু খান   নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির গণমিছিলের প্রস্তুতির সময় জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব শরীফুজ্জামান শরীফসহ ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা এ গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে। এছাড়া জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার হওয়ার ইস্যু। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফুজ্জামান শরীফের পাঞ্জাবির কলার ধরে টেনে-হেচড়ে গাড়িতে ওঠানোর একটি ভিডিও ক্লিপ। এ ঘটনার পর শহরজুড়ে যেমন থমথমে অবস্থা, ঠিক তেমনি তীব্র নিন্দা জানিয়ছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামজিক নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষ। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবু খান বলছেন, ‘পুলিশের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত শান্তিপূর্ণ রাজনীতির অন্তরায়। আর জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও তাকে পাঞ্জাবির কলার ধরে টেনে-হেচড়ে গাড়িতে ওঠানো, রীতিমতো মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমারা এর তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ এছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান কমিটির সদস্য খন্দকার আব্দুল সোনাও এ কথা বলেছেন। `` জানা গেছে, শনিবার বেলা তিনটায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে জেলা বিএনপির গণমিছিল বের হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু মিছিল শুরুর আগে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শরীফসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের আট নেতাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এতে নেতা-কর্মীরা মুহূর্তে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব থেকে সাহিত্য পরিষদ পর্যন্ত পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত নেতারা হলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফুজ্জামান শরীফ, জেলা বিএনপি সদস্য আবু বকর সিদ্দিক আবু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক (রোকন চেয়ারম্যান), আইলহাঁস ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু হানিফ (হানিফ মেম্বার), জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইমরান হোসেন, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ রানা ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরমান খান। এরমধ্যে আদালতের মাধ্যমে নাশকতায় মামলায় ৭জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খানের উক্ত মামলায় হাইকোর্টর আগাম জামিন থাকায়, পুলিশ বলেছে, তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ৪ ডিসেম্বর সদর থানা-পুলিশের করা নাশকতা মামলায় সাতজন এবং নিবারণমূলক মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান ওরফে বাবু খান। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছি। পুলিশের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত শান্তিপূর্ণ রাজনীতির অন্তরায়। আর জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও তাকে পাঞ্জাবির কলার ধরে টেনে-হেচড়ে গাড়িতে ওঠানো, রীতিমতো মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমারা এর তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ `` দলীয় একাধিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শরীফুজ্জামান শরীফসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বেলা আড়াইটা থেকে প্রেসক্লাবের আশপাশে জড়ো হতে থাকেন। পরে পৌনে তিনটার দিকে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান কাজলের নেতৃত্বে সদর থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা প্রেসক্লাবের সামনে এসে পৌঁছান। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপির নেতাদের বলা হয় সড়কে না উঠে বরাবরের মতো সাহিত্য পরিষদ চত্বরে কর্মসূচি পালন করতে। কিন্তু বিএনপির নেতারা কেন্দ্রীয় কর্মসূচী অনুযায়ী ঘোষণা দেন, তারা  সীমিত পরিসরে সড়কে গণমিছিল করবেন। এরপর পুলিশ প্রেসক্লাবের সামনে ও আশপাশ এলাকা থেকে ছয়জন ও চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সামনে থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তারের পর গণমিছিলে যোগ দিতে আসা নেতা-কর্মীরা ছোটাছুটি করে পালাতে থাকেন। এরপর পুরো এলাকা সদর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। শহরে পুলিশের জোর টহল অব্যাহত রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও বর্তমান কমিটির সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গণমিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এসময় কোনো কারণ ছাড়া পুলিশ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিবসহ ৮ জনকে আটক করে। নেতাদের সাথে পুলিশ অসৌজন্যমূলক আচরণ করে, যা মেনে নেওয়া যায় না।’ `` অপরদিকে, জেলাজুড়ে পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাতে বিভিন্ন স্থানে মশাল মিছিল করতেও দেখা গেছে নেতাকর্মীদের। বিভিন্ন স্লোগানে পাড়ায় পাড়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ সভা করে। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে জেলা বিএনপির সদস্য সচিবের পাঞ্জাবির কলার ধরে টেনে-হেচড়ে গাড়িতে ওঠানোর ভিডিও ক্লিপ। এই ভিডিও ছড়িড়ে পড়লে পুলিশের এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করতে দেখা যায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে। তবে কেউই মিডিয়ার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সবাই বলেন- ‘এবিষয়ে পুলিশের সমালোচনা করলে, তারা আমাদেরও গ্রেপ্তার করবে।’ এদিকে, তীব্র প্রতিবাদ ও নিঃশর্ত মুুক্তির দাবি জানিয়েছেন সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-কোষাধ্যক্ষ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান পল্টু, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক বকুল, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝন্টু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম পিটু, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজান খাঁন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিন মালিতা, সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আজিজুল রহমান ও জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ বিএনপি ও এর অংগসহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিবাদ ও নিঃশর্ত মুুক্তির দাবিয়ে পুলিশের এহেন কান্ডের সমালোচনা করেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ৩৯ জনের নাম উল্লেখসহ ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বিএনপি, ছাত্রদলসহ সহযোগি সংগঠনের ১১ নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর থানার পুলিশ চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান ও সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম মহাবুলকে গ্রেপ্তার করে। এদের গ্রেপ্তারের পরই প্রতিবাদমূখর হয়ে উঠে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)