ছবির ক্যাপশন:
কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বানচাল করতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেপ্তার করছে- বিএনপি নেতা শরীফুজ্জামান শরীফ
সমীকরণ প্রতিবেদক:
‘নাশকতা মামলায়’ বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে আদালতের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর থানার পুলিশের একটি টীম শহরের টিঅ্যান্ডটি এলাকার একটি ছাত্রাবাস ও সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত দুজন হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান ও সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম মহাবুল।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘শনিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি দেশব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচি বানচাল করতেই পুলিশ পূর্বপরিকল্পিতভাবে মহাবুল ও ক্লিন ইমেজের ছাত্রদল নেতা আমানউল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের নামে কোনো মামলা না থাকলেও হয়রানিমূলকভাবে তাঁদের ছাত্রাবাস ও বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকাকালীন সময়ে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির কর্মসূচির আগে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় নেতাকর্মীদের আসামি করে তিনটি মামলা করে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা সদর, দর্শনা ও জীবননগর থানায় করা এসব মামলায় এর আগেও ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সবাই বর্তমানে কারাভোগ করছেন। সব মিলিয়ে চুয়াডাঙ্গায় এখন গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫।
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ছাত্রদল করেই বলেই ছাত্রাবাস থেকে তুলে নিয়ে ‘নাশকতা’ নামক মিথ্যা মামলায় আমানউল্লাহর মতো মেধাবী ও ক্লিন ইমেজের ছাত্রনেতা পূর্বপরিকল্পিতভাবেই গ্রেপ্তার করে আসামি করা হয়েছে। যেটা সত্যিই দু’খজনক।’
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘নাশকতার অভিযোগে ৪ ডিসেম্বর পুলিশের করা মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে মহাবুল ইসলাম ও আমানউল্লাহ আমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান ও সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম মহাবুলকে নাশকতা মামলার আসামী করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-কোষাধ্যক্ষ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু, সদস্য সচিব শরীফুজ্জামান শরীফ, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান পল্টু, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক বকুল, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক জায়েদ মোহাম্মদ রাজীব খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিন মালিতা, সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আজিজুল রহমান ও জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ বিএনপি ও এর অংগসহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
