ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহ অফিস:
পলি বেগম একজন প্রতিবন্ধী নারী। অসহায়ভাবে দিনানিপাত করেন। তাকে এককালীন মোটা অংকের আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ^াস দিয়ে বাড়ির উপর আসেন দুই যুবক। প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে এককালীন ৫০ হাজার টাকা পাওয়ার আশায় তাদের হাতে তুলে দেন নগত ১২ হাজার টাকা। যাওয়ার সময় প্রতারক চক্র যে কাগজপত্র দিয়ে গেছেন তার কোন ভিত্তি পাওয়া যায়নি। খোজ নিতে তিনি যোগাযোগ করেন ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা অফিসে। তার নিকট থাকা কাগজপত্র যাচায় করার পর সমাজ সেবা অফিস থেকে জানায় তিনি প্রতারিত হয়েছেন। একইভাবে প্রতারিত হয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রতিবন্ধী। এরা হলেন- ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বরিশখালী গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে প্রতিবিন্ধ মেশকাত, শিতলী গ্রামের আব্দুর রহিম মণ্ডলের কন্যা পারুলা বেগম, সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের মাজেদ সরদারের ছেলে গোলাপ আলী সরদারসহ আরও অনেকে।
হরিণাকুণ্ডুর বরিশখালী গ্রামের সালাহউদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২৮ নভেম্বর দুই যুবক তাদের বাড়িতে আসেন। তারা প্রতিবন্ধী মেশকাত হোসেনকে এককালীন ৪৮ হাজার টাকার অনুদান প্রদানের কথা বলে আমার ভাবি রিমি খাতুনের নিকট থেকে ৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। মেশকাত হোসেন রিমি খাতুনের ছেলে। একইভাবে সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের গোলাপ আলী সরদারের কাছ থেকেও হাতিয়ে নেন ৬ হাজার টাকা। টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতারক চক্রটি একটি ফরম দিয়ে যান। তাতে লেখা আছে ‘বিদেশী সংস্থা সৌদিআরব সিসিডিবি অনুদানের তালিকা।’ সার্বিক সহায়তায় জেস ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকারের রেজি নম্বর -২০৮৬৫১। যা সম্পূর্ণ ভুয়া। অনুমোদিত ফরমে আরো লেখা আছে এক গ্রাম থেকে ৬ ব্যক্তি এককালীন আর্থিক সহায়তা পাবে। তাতে সাক্ষর করেন এস এম বাবুল।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, এই প্রতারক চক্রটি ঝিনাইদহের বিভিন্ন প্রতিবন্ধী স্কুলে থেকে তালিকা সংগ্রহ করে তাদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে এবং এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদানের নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এ নিয়ে জেলার বিভিন্ন থানায় মামলা ও জিডি হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গতকাল বুধবার ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা অফিসে একাধিক ব্যাক্তি এমন অভিযোগ নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা অফিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল সামী জানান, একাকালীন আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামে গ্রামে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার খবর আমাদের কাছে আসছে। এই চক্রটি প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে প্রতিবন্ধী পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর তারা শৈলকুপা, সদর উপজেলা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে টাকা নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, শৈলকুপা উপজেলার কামান্না গ্রামের পলি বেগম সমাজসেবা অফিসে এসে টাকা ফেরৎ চান। তিনি মনে করেছিলেন সমাজসেবার কর্মীরা হয়তো এই টাকা নিয়েছে। পরে তার কাছ থাকা ডকুমেন্ট দেখে বোঝা যায় তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
সহকারী পরিচালক আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক জিডি করা হয়েছে। কিন্তু কোন প্রতিকার মিলছে না। ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা অফিসের উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ শেখ গ্রামের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।
