ছবির ক্যাপশন:
শহিদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্রচিত্তে বীর সন্তানদের স্মরণ
সমীকরণ প্রতিবেদন:
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা/ আমরা তোমাদের ভুলব না/ দুঃসহ বেদনার কণ্টক পথ বেয়ে/ শোষণের নাগপাশ ছিঁড়লে যারা/ আমরা তোমাদের ভুলব না... যাদের আত্মদানে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে এসেছে স্বাধীনতা, মুক্ত আকাশে উড়েছে বিজয় কেতন- সেই বীর সন্তানদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে জাতি। বাঙালির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য ও বীরত্বের অবিস্মরণীয় দিন মহান বিজয় দিবসের ৫১ বছর উদ্যাপন করল দেশ। আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার। শহিদদের স্বপ্ন পূরণে উগ্রবাদের মূলোৎপাটন ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করার প্রত্যয় জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। এদিন গণতান্ত্রিক, শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত দেশ গড়ারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। প্রথমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ স্মৃতিসৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল রাষ্ট্রীয় সালাম জানান। পরে বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।
মহান বিজয় দিবস ও বিজয়ের ৫১ বছর পেরিয়ে ৫২ বছরে পদার্পণে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনি, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণ।
চুয়াডাঙ্গা:
মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর বিজয়ের আনন্দে সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গায় উদ্যাপিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস-২০২২। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান বিজয় দিবস-২০২২ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনি, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল আটটায় পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চার আয়োজন করা হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলার সব সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, ব্যাংক-বীমা অফিস, দোকানপাটগুলো বর্ণিল আলো ঝলমলে সাঁজে সজ্জিত করা হয়। একই সঙ্গে সঠিক মাপ ও রঙয়ের জাতীয় পতাকা এবং রঙিন পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানানো হয়। দুপুরে সদর হাসপাতাল, জেলা কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। জেলার সব মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। বেলা সাড়ে তিনটায় পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের ডিসি সাহিত্য মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বিজয় দিবসের আনন্দমুখর আয়োজন সমাপ্ত হয়।
প্রথম প্রহরে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন:
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা মাথাভাঙ্গা নদীর কূলঘেষা শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তর্বক অর্পণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান ও পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, দেশ এবং জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। এরপর পৌর পরিষদের পক্ষ থেকে মেয়র খোকন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. একেএম সাইফুর রশিদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, সড়ক বিভাগ, এনজিও, সামাজিক ও সংস্কৃতিক সংগঠন এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি:
মহান বিজয় দিবস-২০২২ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল চারটায় বড় বাজার শহীদ হাসান চত্বরে মুক্তমঞ্চে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশকে স্ব^ল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেন, আর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার পর বিগত ৫১ বছরে যা কিছু অর্জন তা বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে। আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে।’
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আসাদুল হক বিশ্বাস বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হলো বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠতম অর্জন। এই অর্জনকে অর্থবহ করতে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সবাইকে জানতে ও জানাতে হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. শফিকুল ইসলাম শফির সঞ্চলনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল মালেক, জেলা কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি ও মোমিনপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার, জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান মতি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ, জেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান, আইনবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল খালেক, সদর উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য গাজী ইমদাদুল হক সজল, জেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন মিলন, পৌর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সামি তাপু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা রাশিদুল ইসলাম পাপেল, ছাত্রলীগ নেতা ফারহান রাব্বি, আরেফিন সজিব, সালেকিন, সাইফুলসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
পৌর আওয়ামী লীগের কর্মসূচি:
১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগ-এর আয়োজনে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ-এর কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌর আওয়ামী লীগ-এর সভাপতি আলাউদ্দিন হেলার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ-এর সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন ও অ্যাড. শামসুজ্জোহা বিশ্বাস, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান ও মুফতি মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, সাবেক দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস, সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. তালিম হোসেন, সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আরশাদ উদ্দিন আহমেদ চন্দন, সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক শওকত আলী বিশ্বাস, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাড. বেলাল হোসেন, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আফজালুল হক বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক রিপন মণ্ডল, জেলা কৃষকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তহিদুর রহমান চন্দন, জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক যুবলীগ নেতা আরেফিন আলম রঞ্জু ও পৌর আওয়ামী লীগের ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগ-এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের।
এছাড়াও সকাল ৭টায় জেলা আওয়ামী লীগ-এর কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ-এর সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনসহ নেতৃবৃন্দ। এছাড়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা নুরুন্নাহার কাকলী, মহিলা নেত্রী শাহাজাদী মিলি, নাবিলা রুকসানা ছন্দাসহ নেত্রীবৃন্দ, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদিকা গিণি ইসলামসহ নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাড. বেলাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন, পৌর আওয়ামী লীগের ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, মহিলা নেত্রী রিনা, কাজল রেখা, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া সাহাব, জেলা যুবলীগ নেতা শেখ সেলিম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম ও সাবেক সহ-সভাপতি শাহাবুল হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা মিন্টুসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পতাকা উত্তোলন শেষে নেতৃবৃন্দ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুুন্সি আলমগীর হান্নান-এর নেতৃত্বে শহীদ মিনার পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির কর্মসূচি:
চুয়াডাঙ্গায় বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা বিএনপিসহ সকল অঙ্গসংগঠন সমূহের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে পুষ্পম্যাল্য অর্পণ করা হয়েছে। পুষ্পম্যাল্য অর্পণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা মহিলাদলের সভাপতি রউফুন নাহার রিনা, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সসদ্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক আবু, জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, জেলা বিএনপির সদস্য নুর নবী সামদানি। এছাড়াও জেলা যুবদল, জেলা সেচ্ছাসেবক দল, জেলা মহিলা দল, জেলা কৃষক দল, জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শহিদ বেদীতে পুষ্পম্যাল্য অর্পণ করা হয়।
জেলা যুবলীগের কর্মসূচি:
যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী যুবলীগ। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সূর্যদয়ের সাথে সাথে জেলা যুবলীগের কার্যালয়ের সামনে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার ও নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে সেখানে বঙ্গবন্ধু মুরালে পুস্পমাল্য অর্পণ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নঈম হাসান জোয়ার্দ্দারের নেতৃত্বে বিজয় র্যালি বের হয়। র্যালিটি বড় বাজার শহিদ হাসান চত্বরে গিয়ে শেষে হয়ে মাথাভাঙ্গা নদীর কূলঘেষা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তর্বক অর্পণের মধ্যদিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের সদস্য সাজেদুল ইসলাম লাভলু, আজাদ আলী, হাফিজুর রহমান হাপু, আবু বক্কর সিদ্দিক আরিফ ও আলমগীর আজম খোকা।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ নেতা মাসুদুর রহমান মাসুম, হাসানুল ইসলাম পলেন, কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল ইমরান শুভ, চুয়াডাঙ্গা পৌর ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার কামরুজ্জামান চাঁদ, বিপ্লব হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রামীম হোসেন সৈকত, শেখ রাসেল, দিপু বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি রানা, সাধারণ সম্পাদক খান জাহান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আলিম, সাধারণ সম্পাদক মিঠুন, ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আসাদ, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব, লোকমান, জামাল খান, জাকির, মিন্টু, লিপ্টন, আমান, রুবেল, সোহাগ, সঞ্জ, ইমরান, সোহাগ, রুবেল, সঞ্জু, মিণ্টু, সাদিক, ছাত্রলীগ নেতা শেখ আনোয়ার, কবির, আশিক, বিপুল, মিলন, ইমরান, সুজন, মাহফুজ, আরাফাত হাসিব, আলী প্রমুখ।
পুরাতন স্টেডিয়ামে সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, শরীরচর্চা ও পুরস্কার বিতরণ:
জাতিরাষ্ট্র গঠনের জন্মযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের ৫১ বছর পূর্তিতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে প্রধান অতিথি থেকে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় শান্তির প্রতীক শ্বেত কপোত অবমুক্ত করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তাঁরা। এরপর গার্ড অব অনারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে চৌকস প্রহরায় কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করান। প্যারেড কমান্ডার ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনের রিজার্ভ ইনচার্জ (আরআই) আমিনুল ইসলাম। পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সবার উদ্দেশে দেশের মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সুখী, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ভাষণ দেন।
বক্তব্য শেষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মনোজ্ঞ মার্চপাস্ট ও সালাম গ্রহণ করেন প্রধান অতিথি। এরপর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্তৃক শরীরচর্চা প্রদর্শনী উপভোগ করেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্য ছিল বাংলাদেশ পুলিশ, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার-ভিডিপি, বয়েজ স্কাউটস, গার্লসগাইড, শিশুপরিবার, মুকুলফৌজ, হলদে পাখি, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠন। কুচকাওয়াজ শেষে রকমারী সাঁজে নান্দনিক শরীরচর্চা প্রদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাজিয়া আফরিন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গির আলম, সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাৎ হাসান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. একেএম সাইফুর রশিদ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আজিজুর রহমানসহ জেলার সবপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লেসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের ডিসি সাহিত্য মঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সী আবু সাঈফের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মঞ্জু, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার মেজর (অবঃ) খোন্দকার সাইদুর রহমান (বীর প্রতীক), জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল মালেক, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম মালিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাবুদ জোয়ার্দ্দার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ছারোয়ার সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি করে কম্বল প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি বলেন, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের কথা ভাবতেন। এদেশের মানুষের জন্য তিনি জীবনের বেশিরভাগ সময় তাকে জেলে কাটাতে হয়েছে। পাকিস্থানীদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধৃুর ডাকে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এদেশকে স্বাধিন করেছি। আমরা পেয়েছি একটি স্বাধিন ভুখন্ড একটি লাল-সবুজের পতাকা। আজ আমরা বলতে পারি বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা।
উন্নত খাবার পরিবেশন:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল, সরকারি শিশু পরিবার (এতিমখানা), জেলা কারাগার ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খানসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের মধ্যে উন্নতমানের খাবার বিতরণের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা:
চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় বিকেল সাড়ে তিনটায় প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সোনালী অতীত ক্লাব বনাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা একাদশ এবং দ্বিতীয় খেলায় জেলা প্রশাসন একাদশ ও মুক্তিযোদ্ধা একাদশের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ। প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকনের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত রহমান, এনডিসি শাহাদাত হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন শাহেদুল আলম, নজরুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফ আলী, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উপ-পরিচালক জামিল সিদ্দিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্থ ও প্রশাসন আবু তারেক, সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মাহাব্বুর রহমান কাজল।
মহিলাদের আলোচনা ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান:
জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে বিকেল ৩ টায় সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মহিলাদের আলোচনা সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক পত্নী মেহেনাজ খান বাঁধন।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান:
সন্ধ্যা ছয়টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের ডিসি সাহিত্যমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।
সরোজগঞ্জ:
চুুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ১৬ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দোয়া অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সকালের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মহান বিজয় দিবসের র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে অংশ নেয় সরোজগঞ্জ তেঁতুল শেখ কলেজ, ছাদেমান নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, আবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসা, সরোজগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরোজগঞ্জ বেবি নাসিং স্কুল, সরোজগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুল, সরোজগঞ্জ সোনামনি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, সরোজগঞ্জ আন নূর ইসলামী একাডেমি স্কুল, নবীন নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাসানহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহাম্মদজমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুবদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সূর্যদয়ের সাথে সাথে ৩১ তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিনের শুভ সূচনা করা হয়। আলমডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বরে জাতীয় ও মুক্তিযোদ্ধা পতাকা উত্তলন ও বঙ্গবন্ধু মুরালে পুস্পমাল্য অর্পন ও পরে উপজেলা চত্বরে শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, পৌরসভা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ, সরকারি স্কুল, ব্রাইট স্কুল, আলইকরা ক্যাডেট স্কুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংষ্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে উপজেলা চত্তরে বঙ্গবন্ধুর মুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর মুরালে প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রনি আলম নূর, উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু। পরে একে একে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, মহিলা পরিষদ, প্রেসক্লাব, আরই অফিস, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পরবর্তীতে উপজেলায় বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
এছাড়াও দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে সকাল ৯টায় উপজেলা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি আলম নূর ও আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম। এরপরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ, শরীর চর্চা ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি আলম নূর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র হাসান কাদের গনু, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার সালমুন আহমেদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, থানা অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাক্তার হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোল্লা আব্দুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান জোয়ার্দ্দার সুলতান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নূর মোহাম্মদ জকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭১ এর অগ্নিসেনা মইনুদ্দিন পারভেজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান লাল্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওহিমুদ্দন, বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, আলমডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সাঈদ আল মামুন রেজা, মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আশুরা খাতুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন কলেজিয়েট স্কুলের উপাধ্যক্ষ শামীম রেজা। আলোচনা সভার শেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয় ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান উপজেলা প্রশাসন।
অপরদিকে সকাল আটটায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামীলীগ, কৃষকলীগ, যুবলীগ, গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, কামালপুর আলাউদ্দিন আহমেদ পাঠাগার, বৈদ্যনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জেলা-উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, কলেজ মাদ্রসা, মসজিদ, মন্দির, ব্যাক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিনটি পৃথক পৃথক ভাবে উদযাপন করে।
দামুড়হুদা:
যথাযোগ্য মর্যাদায় দামুড়হুদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে প্রত্যুষে চৌরাস্তার মোড়ে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটির শুভ সূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি বেসরকারি অফিসসহ সকল শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা। সকাল সাড়ে সাতটায় নাটুদহ আটকবরের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর পক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তলোন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা বেগম। পতাকা উত্তোলন শেষে বীর শহীদের স্মরনে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দামুড়হুদা মডেল থানা, দর্শনা থানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সকাল ৯ টায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে সাথে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু। পতাকা উত্তোলন শেষে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা বেগম শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শন। এতে অংশগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, বাংলাদেশ পুলিশ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র - ছাত্রী, বাংলাদেশ স্কাউট, গার্লস গাইড, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে সকল প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও বেলা সাড়ে এগারোটায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নির্বাহী অফিসার সানজিদা বেগম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, দোয়া অনুষ্ঠান, শোক প্রস্তাব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার শীর্ষক আলোচনা সভা। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী শহিদুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কামাল উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আছির উদ্দিন, রুস্তম আলী।
পরবর্তীতে দিবসটি উপলক্ষে দুপুর ১ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী সাধারণের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। এ দিনের সকল শহীদের স্মরনে তাদের আত্বার মাগফেরাত কামনাসহ দেশ ও জাতির কল্যাণে সকল মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা করার ব্যবস্তা করা হয়। বেলা ৩ টার দিকে দামুড়হুদা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা বনাম উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা'র মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী। সন্ধ্যা ৬ টার দিকে একই স্থানে বিজয় সন্ধ্যা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
দর্শনা:
দর্শনায় জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সকালে মহান বিজয় দিবসে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পতাকার পাশপাশি দলীয় প্রতিষ্ঠানের পতাকা উত্তোলন করেন অনেকেই। দর্শনা পৌরসভার উদ্যোগে রাত ১২টা ১মিনিটে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের শুভ-সূচনা করা হয়। সকাল ৯টায় দর্শনা পৌরভার আয়োজনে দর্শনা ডাকবাংলো চত্বরে বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবি সংগঠনের উপস্থিতিতে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পতাকা উত্তোলন ও শপথ বাক্য পাঠ করা হয়। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা করে বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
দর্শনা পৌরসভার আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান মনজু। অনুষ্ঠানে দর্শনা পৌর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক আরিফের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- দর্শনা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলীসহ মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ। এরপর উপস্থিত সকল সংগঠন শোভাযাত্রা নিয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যান। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগ, দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, দর্শনা পৌর বিএনপি, পৌর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দর্শনা প্রেসক্লাব, দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, বাংলাদেশ জাসদ, দর্শনা পৌর জাতীয় পার্টি, দর্শনা থানা জাতীয় পার্টি, দর্শনা পৌরসভা, গণ-উন্নয়ন গ্রন্থাগার, অনির্বাণ থিয়েটার, সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, হিন্দোল সংগীত পরিষদ, দর্শনা উদীচি শিল্পোগোষ্ঠি, দর্শনা সরকারি কলেজ, মেমনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দর্শনা ডিএস মাদরাসা, কেরু উচ্চ বিদ্যালয়, দর্শনা বালিকা বিদ্যালয়, দক্ষিন চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পরানপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়, আজমপুর, ঈশ্বরচন্দ্রপুর, শ্যামপুর, পশ্চিম রামনগর, শান্তিনগর, পূর্ব-রামনগর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়, লিটিল এনজেলস্ স্কুল, অংকুর আর্দশ বিদ্যালয়, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভৈরবী সাংস্কৃতিক সংগঠন, রেল-বাজার দোকান মালিক সমিতি, ফরিয়া সংগঠন, দর্শনা রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন, কেরুজ শ্রমিক ইউনিয়ন, মটর শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন।
এছাড়াও ‘লাল সবুজের নিশানে, বিজয় আমার গৌরবের’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দর্শনায় ৭দিন ব্যাপী সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে বিজয় মেলা ও নাট্যাৎসব শুরু হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি টিপু সুলতানের সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী দিনের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা করেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দামুড়হুদা উপজেলা আ. লীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান মনজু।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসাবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার সম্পাদক নুর হাকিম, দামুড়হুদা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী, সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মল্লিক। আলোচনা অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পারকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়ন্তী এলিজাবেথ, আরতি হালসানা ও মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কুমকুম আলম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন, দর্শনা সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহসভাপতি হারুন অর রশিদ জুয়েল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাকি বিল্লাহ।
জীবননগর:
৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে জীবননগরে মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকালে শহিদ বেদিতে জীবননগর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌরসভা, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পরে জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোকুনুজ্জামানের সভাপতিত্বে জীবননগর থানা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তিথি মিত্র, জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেক, জীবননগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েসা সুলতানা লাকী, বাকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান প্রমুখ।
আন্দুলবাড়ীয়া:
সারা দেশের ন্যায় আন্দুলবাড়ীয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে গতকাল দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ, আন্দুলবাড়ীয়া কলেজ, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া আশরাফিয়া আলীম মাদরাসা, পাঁকা দারুস সালাম দাখিল মাদরাসা, শাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাশীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজিয়েট স্কুলসহ অত্র ইউনিয়নের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ, আন্দুলবাড়ীয়া সাহিত্য পরিষদ, আন্দুলবাড়ীয়া বাজার পরিচালনা কমিটি, আন্দুলবাড়ীয়া ভৈরব সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিওসহ নানা সংগঠন পৃথক- পৃথক ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও জনিয়ে শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, ফাতেহা পাঠ, বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি, আলোচনা সভা, খেলাধুলা ও পুরস্কার বিতরণী।
সকাল ৯ টায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালিটির নেতৃত্বেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার, সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম মধু, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এসএম আশরাফুজ্জামান টিপু, শেখ আতিয়ার রহমান, খান তারিক মাহমুদ, হাফিজুর রহমান হাফিজ, মোল্লা ফখরুল হাসান টুটুল, শেখ সামাদুল ইসলাম, ডা. মীর মাসুদুল খালেক বুলু, মুন্সী আমিনুল বাশার কবু, এসআই জাহাঙ্গীর হুসাইন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, নাসিম, জুব্বার প্রমুখ।
এদিকে, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে দৃষ্টি নন্দন, স্বনামধন্য ও আধুনিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আন্দুলবাড়ীয়া কলেজিয়েট স্কুলের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় ১৬ ডিসেম্বর ৫১ তম মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টায় আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের সরকার প্লাজায় তৃতীয় তলায় অবস্থিত কলেজিয়েট স্কুলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আন্দুলবাড়ীয়া কলেজিয়েট স্কুলের সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক- শিক্ষিকা, কর্মকর্তা- কর্মচারীবৃন্দের স্বর্তঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনে কলেজিয়েট স্কুলের নিজস্ব দুইটি মিনিবাস, দুইটি মাইক্রোবাস, একটি পাজেরো গাড়ি, অর্ধ শতাধিক ইজিবাইক, ২০ টি মোটরসাইকেলের বিশাল বহর সহকারে বিজয় র্যালি বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিজয় র্যালির নেতৃত্বদেন আন্দুলবাড়ীয়া কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল মোস্তফা আমজাদ।
র্যালিতে অংশ নেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, আন্দুলবাড়ীয়া কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার, সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম মধু জিহাদী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আন্দুলবাড়ীয়া আশরাফিয়া আলীম মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি এসএম আশরাফুজ্জামান টিপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ, আন্দুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নারায়ণ ভৌমিক, শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর হুসাইন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শেখ আরোজ আহাম্মেদ বিল্লাল, আন্দুলবাড়ীয়া বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি মুন্সী আমিনুল বাশার কবু, সহ সাধারণ সম্পাদক এসএম জাভেদ লাল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপালের সহোদর মোস্তফা শাকিল সামাউল, মোস্তফা তাজওয়ার ওরফে ছোট মনি, লতিফ ব্রিকস এর ম্যানেজার বিল্লাল হোসেন, কলেজিয়েট স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল শেখ জিহাদী ইসলাম সোহাগ, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান, সহকারী শিক্ষক হারুণ অর- রশীদ, এনামুল ইক, হুমায়ন কবির সিজার, আবুল কালাম আজাদ, আক্তার হোসেন, কানিজ ফাতিমা, আয়েশা খাতুন, মুসলিমা খাতুন, আসমা খাতুন, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক- শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ।
মেহেরপুর:
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহরের কলেজমোড়ে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক ড. মুনছুর আলম খান। এর পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার রাফিউল আলম ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে জেলার বিভিন্ন অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল সাড়ে ৮ টার সময় জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সাড়ে ৮ টার সময় জেলা স্টেডিয়াম মাঠে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা আয়োজন করা হয়। এছাড়াও দিনব্যাপী রয়েছে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালা।
আমঝুপি:
আমঝুপিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি পালনের লক্ষে গতকাল সকাল ৭ টায় আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান। এরপর সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সদর থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আমঝুপি ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন আহম্মেদ চুন্ন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত, কৃষক লীগের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধ মাহবুব রহমান, সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সেলিম রেজা জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক আলফাজ হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য আসাদুল হক মন্ট, ৭ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, ফারুক হোসেন, প্রফেসর সাইদুর রহমান, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল মজিত, ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়াও আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকাল ৭ টায় পতাকা উত্তোলন করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজুজ্জামান। পরে ভারপ্রপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজুজ্জামান ও সহকারী শিক্ষক আবুল হাসানের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি আমঝুপির প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয় প্রঙ্গনে এসে শেষ হয়।

গাংনী:
গাংনীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গাংনী উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, গাংনী পৌরসভাসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। দিবসের শুরুতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৩১ বার তোপধ্বনি ও উপজেলা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এতে নেতৃত্ব প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম। এসময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক, গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
দিবসের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। সকাল ৯টায় গাংনী হাইস্কুল ফুটবল মাঠে প্রশাসন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম।
এছাড়াও কেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বীর মুক্তিযােদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান, বিকেলে গাংনী হাইস্কুল ফুটবল মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও বীর মুক্তিযােদ্ধাদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোাগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে গাংনী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সংগঠন স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচি পালন করে।
ঝিনাইদহ:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সূর্য্যদয়ের সাথে সাথে ঝিনাইদহ সদর থানা চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিনের শুভ সুচনা ঘটে। সূর্য্যদয়ের সাথে সাথে সব সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭টার ঝিনাইদহ মুক্তিযুদ্ধ সৃতিসৌধে জেলা জেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, জেলা বিএনপি, প্রেসক্লাব এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেন করেন জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম, পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান ।
সকাল ৯টার ঝিনাইদহ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কুচকাওয়াজ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ও শিশু একাডেমিতে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এছাড়া ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট চত্বরে ১৫ দিন ব্যাপী বিজয় মেলা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলমান থাকবে। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বিজয় র্যালি করা। বিজয় র্যালির নেতৃত্ব দেন পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু ও জেলা বিএনপির সভাপতি এড এম এ মজিদ।
চুয়াডাঙ্গা:
মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর বিজয়ের আনন্দে সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গায় উদ্যাপিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস-২০২২। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান বিজয় দিবস-২০২২ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনি, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল আটটায় পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চার আয়োজন করা হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলার সব সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, ব্যাংক-বীমা অফিস, দোকানপাটগুলো বর্ণিল আলো ঝলমলে সাঁজে সজ্জিত করা হয়। একই সঙ্গে সঠিক মাপ ও রঙয়ের জাতীয় পতাকা এবং রঙিন পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানানো হয়। দুপুরে সদর হাসপাতাল, জেলা কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। জেলার সব মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। বেলা সাড়ে তিনটায় পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের ডিসি সাহিত্য মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বিজয় দিবসের আনন্দমুখর আয়োজন সমাপ্ত হয়।
প্রথম প্রহরে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন:
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা মাথাভাঙ্গা নদীর কূলঘেষা শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তর্বক অর্পণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান ও পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, দেশ এবং জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। এরপর পৌর পরিষদের পক্ষ থেকে মেয়র খোকন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. একেএম সাইফুর রশিদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, সড়ক বিভাগ, এনজিও, সামাজিক ও সংস্কৃতিক সংগঠন এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি:
মহান বিজয় দিবস-২০২২ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল চারটায় বড় বাজার শহীদ হাসান চত্বরে মুক্তমঞ্চে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশকে স্ব^ল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেন, আর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার পর বিগত ৫১ বছরে যা কিছু অর্জন তা বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে। আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে।’
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আসাদুল হক বিশ্বাস বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হলো বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠতম অর্জন। এই অর্জনকে অর্থবহ করতে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সবাইকে জানতে ও জানাতে হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. শফিকুল ইসলাম শফির সঞ্চলনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল মালেক, জেলা কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি ও মোমিনপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার, জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান মতি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ, জেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান, আইনবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল খালেক, সদর উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য গাজী ইমদাদুল হক সজল, জেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন মিলন, পৌর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সামি তাপু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা রাশিদুল ইসলাম পাপেল, ছাত্রলীগ নেতা ফারহান রাব্বি, আরেফিন সজিব, সালেকিন, সাইফুলসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
পৌর আওয়ামী লীগের কর্মসূচি:
১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগ-এর আয়োজনে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ-এর কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌর আওয়ামী লীগ-এর সভাপতি আলাউদ্দিন হেলার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ-এর সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন ও অ্যাড. শামসুজ্জোহা বিশ্বাস, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান ও মুফতি মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, সাবেক দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস, সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. তালিম হোসেন, সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আরশাদ উদ্দিন আহমেদ চন্দন, সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক শওকত আলী বিশ্বাস, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাড. বেলাল হোসেন, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আফজালুল হক বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক রিপন মণ্ডল, জেলা কৃষকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তহিদুর রহমান চন্দন, জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক যুবলীগ নেতা আরেফিন আলম রঞ্জু ও পৌর আওয়ামী লীগের ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগ-এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের।
এছাড়াও সকাল ৭টায় জেলা আওয়ামী লীগ-এর কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ-এর সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনসহ নেতৃবৃন্দ। এছাড়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা নুরুন্নাহার কাকলী, মহিলা নেত্রী শাহাজাদী মিলি, নাবিলা রুকসানা ছন্দাসহ নেত্রীবৃন্দ, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদিকা গিণি ইসলামসহ নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাড. বেলাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন, পৌর আওয়ামী লীগের ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, মহিলা নেত্রী রিনা, কাজল রেখা, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া সাহাব, জেলা যুবলীগ নেতা শেখ সেলিম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম ও সাবেক সহ-সভাপতি শাহাবুল হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা মিন্টুসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পতাকা উত্তোলন শেষে নেতৃবৃন্দ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুুন্সি আলমগীর হান্নান-এর নেতৃত্বে শহীদ মিনার পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির কর্মসূচি:
চুয়াডাঙ্গায় বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা বিএনপিসহ সকল অঙ্গসংগঠন সমূহের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে পুষ্পম্যাল্য অর্পণ করা হয়েছে। পুষ্পম্যাল্য অর্পণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা মহিলাদলের সভাপতি রউফুন নাহার রিনা, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সসদ্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক আবু, জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, জেলা বিএনপির সদস্য নুর নবী সামদানি। এছাড়াও জেলা যুবদল, জেলা সেচ্ছাসেবক দল, জেলা মহিলা দল, জেলা কৃষক দল, জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শহিদ বেদীতে পুষ্পম্যাল্য অর্পণ করা হয়।
জেলা যুবলীগের কর্মসূচি:
যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী যুবলীগ। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সূর্যদয়ের সাথে সাথে জেলা যুবলীগের কার্যালয়ের সামনে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার ও নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে সেখানে বঙ্গবন্ধু মুরালে পুস্পমাল্য অর্পণ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নঈম হাসান জোয়ার্দ্দারের নেতৃত্বে বিজয় র্যালি বের হয়। র্যালিটি বড় বাজার শহিদ হাসান চত্বরে গিয়ে শেষে হয়ে মাথাভাঙ্গা নদীর কূলঘেষা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তর্বক অর্পণের মধ্যদিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের সদস্য সাজেদুল ইসলাম লাভলু, আজাদ আলী, হাফিজুর রহমান হাপু, আবু বক্কর সিদ্দিক আরিফ ও আলমগীর আজম খোকা।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ নেতা মাসুদুর রহমান মাসুম, হাসানুল ইসলাম পলেন, কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল ইমরান শুভ, চুয়াডাঙ্গা পৌর ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার কামরুজ্জামান চাঁদ, বিপ্লব হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রামীম হোসেন সৈকত, শেখ রাসেল, দিপু বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি রানা, সাধারণ সম্পাদক খান জাহান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আলিম, সাধারণ সম্পাদক মিঠুন, ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আসাদ, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব, লোকমান, জামাল খান, জাকির, মিন্টু, লিপ্টন, আমান, রুবেল, সোহাগ, সঞ্জ, ইমরান, সোহাগ, রুবেল, সঞ্জু, মিণ্টু, সাদিক, ছাত্রলীগ নেতা শেখ আনোয়ার, কবির, আশিক, বিপুল, মিলন, ইমরান, সুজন, মাহফুজ, আরাফাত হাসিব, আলী প্রমুখ।
পুরাতন স্টেডিয়ামে সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, শরীরচর্চা ও পুরস্কার বিতরণ:
জাতিরাষ্ট্র গঠনের জন্মযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের ৫১ বছর পূর্তিতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে প্রধান অতিথি থেকে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় শান্তির প্রতীক শ্বেত কপোত অবমুক্ত করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তাঁরা। এরপর গার্ড অব অনারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে চৌকস প্রহরায় কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করান। প্যারেড কমান্ডার ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনের রিজার্ভ ইনচার্জ (আরআই) আমিনুল ইসলাম। পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সবার উদ্দেশে দেশের মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সুখী, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ভাষণ দেন।
বক্তব্য শেষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মনোজ্ঞ মার্চপাস্ট ও সালাম গ্রহণ করেন প্রধান অতিথি। এরপর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্তৃক শরীরচর্চা প্রদর্শনী উপভোগ করেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্য ছিল বাংলাদেশ পুলিশ, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার-ভিডিপি, বয়েজ স্কাউটস, গার্লসগাইড, শিশুপরিবার, মুকুলফৌজ, হলদে পাখি, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠন। কুচকাওয়াজ শেষে রকমারী সাঁজে নান্দনিক শরীরচর্চা প্রদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাজিয়া আফরিন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গির আলম, সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাৎ হাসান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. একেএম সাইফুর রশিদ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আজিজুর রহমানসহ জেলার সবপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লেসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের ডিসি সাহিত্য মঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সী আবু সাঈফের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মঞ্জু, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার মেজর (অবঃ) খোন্দকার সাইদুর রহমান (বীর প্রতীক), জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল মালেক, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম মালিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাবুদ জোয়ার্দ্দার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ছারোয়ার সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি করে কম্বল প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি বলেন, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের কথা ভাবতেন। এদেশের মানুষের জন্য তিনি জীবনের বেশিরভাগ সময় তাকে জেলে কাটাতে হয়েছে। পাকিস্থানীদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধৃুর ডাকে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এদেশকে স্বাধিন করেছি। আমরা পেয়েছি একটি স্বাধিন ভুখন্ড একটি লাল-সবুজের পতাকা। আজ আমরা বলতে পারি বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা।
উন্নত খাবার পরিবেশন:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল, সরকারি শিশু পরিবার (এতিমখানা), জেলা কারাগার ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খানসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের মধ্যে উন্নতমানের খাবার বিতরণের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা:
চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় বিকেল সাড়ে তিনটায় প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সোনালী অতীত ক্লাব বনাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা একাদশ এবং দ্বিতীয় খেলায় জেলা প্রশাসন একাদশ ও মুক্তিযোদ্ধা একাদশের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ। প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকনের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত রহমান, এনডিসি শাহাদাত হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন শাহেদুল আলম, নজরুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফ আলী, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উপ-পরিচালক জামিল সিদ্দিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্থ ও প্রশাসন আবু তারেক, সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মাহাব্বুর রহমান কাজল।
মহিলাদের আলোচনা ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান:
জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে বিকেল ৩ টায় সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মহিলাদের আলোচনা সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক পত্নী মেহেনাজ খান বাঁধন।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান:
সন্ধ্যা ছয়টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের ডিসি সাহিত্যমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।
সরোজগঞ্জ:
চুুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ১৬ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দোয়া অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সকালের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মহান বিজয় দিবসের র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে অংশ নেয় সরোজগঞ্জ তেঁতুল শেখ কলেজ, ছাদেমান নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, আবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসা, সরোজগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরোজগঞ্জ বেবি নাসিং স্কুল, সরোজগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুল, সরোজগঞ্জ সোনামনি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, সরোজগঞ্জ আন নূর ইসলামী একাডেমি স্কুল, নবীন নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাসানহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহাম্মদজমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুবদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সূর্যদয়ের সাথে সাথে ৩১ তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিনের শুভ সূচনা করা হয়। আলমডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বরে জাতীয় ও মুক্তিযোদ্ধা পতাকা উত্তলন ও বঙ্গবন্ধু মুরালে পুস্পমাল্য অর্পন ও পরে উপজেলা চত্বরে শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, পৌরসভা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ, সরকারি স্কুল, ব্রাইট স্কুল, আলইকরা ক্যাডেট স্কুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংষ্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে উপজেলা চত্তরে বঙ্গবন্ধুর মুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর মুরালে প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রনি আলম নূর, উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু। পরে একে একে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, মহিলা পরিষদ, প্রেসক্লাব, আরই অফিস, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পরবর্তীতে উপজেলায় বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
এছাড়াও দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে সকাল ৯টায় উপজেলা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি আলম নূর ও আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম। এরপরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ, শরীর চর্চা ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি আলম নূর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র হাসান কাদের গনু, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার সালমুন আহমেদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, থানা অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাক্তার হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোল্লা আব্দুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান জোয়ার্দ্দার সুলতান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নূর মোহাম্মদ জকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭১ এর অগ্নিসেনা মইনুদ্দিন পারভেজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান লাল্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওহিমুদ্দন, বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, আলমডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সাঈদ আল মামুন রেজা, মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আশুরা খাতুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন কলেজিয়েট স্কুলের উপাধ্যক্ষ শামীম রেজা। আলোচনা সভার শেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয় ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান উপজেলা প্রশাসন।
অপরদিকে সকাল আটটায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামীলীগ, কৃষকলীগ, যুবলীগ, গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, কামালপুর আলাউদ্দিন আহমেদ পাঠাগার, বৈদ্যনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জেলা-উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, কলেজ মাদ্রসা, মসজিদ, মন্দির, ব্যাক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিনটি পৃথক পৃথক ভাবে উদযাপন করে।
দামুড়হুদা:
যথাযোগ্য মর্যাদায় দামুড়হুদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে প্রত্যুষে চৌরাস্তার মোড়ে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটির শুভ সূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি বেসরকারি অফিসসহ সকল শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা। সকাল সাড়ে সাতটায় নাটুদহ আটকবরের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর পক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তলোন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা বেগম। পতাকা উত্তোলন শেষে বীর শহীদের স্মরনে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দামুড়হুদা মডেল থানা, দর্শনা থানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সকাল ৯ টায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে সাথে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু। পতাকা উত্তোলন শেষে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা বেগম শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শন। এতে অংশগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, বাংলাদেশ পুলিশ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র - ছাত্রী, বাংলাদেশ স্কাউট, গার্লস গাইড, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে সকল প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও বেলা সাড়ে এগারোটায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নির্বাহী অফিসার সানজিদা বেগম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, দোয়া অনুষ্ঠান, শোক প্রস্তাব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার শীর্ষক আলোচনা সভা। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী শহিদুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কামাল উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আছির উদ্দিন, রুস্তম আলী।
পরবর্তীতে দিবসটি উপলক্ষে দুপুর ১ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী সাধারণের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। এ দিনের সকল শহীদের স্মরনে তাদের আত্বার মাগফেরাত কামনাসহ দেশ ও জাতির কল্যাণে সকল মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা করার ব্যবস্তা করা হয়। বেলা ৩ টার দিকে দামুড়হুদা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা বনাম উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা'র মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী। সন্ধ্যা ৬ টার দিকে একই স্থানে বিজয় সন্ধ্যা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
দর্শনা:
দর্শনায় জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সকালে মহান বিজয় দিবসে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পতাকার পাশপাশি দলীয় প্রতিষ্ঠানের পতাকা উত্তোলন করেন অনেকেই। দর্শনা পৌরসভার উদ্যোগে রাত ১২টা ১মিনিটে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের শুভ-সূচনা করা হয়। সকাল ৯টায় দর্শনা পৌরভার আয়োজনে দর্শনা ডাকবাংলো চত্বরে বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবি সংগঠনের উপস্থিতিতে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পতাকা উত্তোলন ও শপথ বাক্য পাঠ করা হয়। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা করে বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
দর্শনা পৌরসভার আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান মনজু। অনুষ্ঠানে দর্শনা পৌর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক আরিফের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- দর্শনা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলীসহ মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ। এরপর উপস্থিত সকল সংগঠন শোভাযাত্রা নিয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যান। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগ, দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, দর্শনা পৌর বিএনপি, পৌর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দর্শনা প্রেসক্লাব, দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, বাংলাদেশ জাসদ, দর্শনা পৌর জাতীয় পার্টি, দর্শনা থানা জাতীয় পার্টি, দর্শনা পৌরসভা, গণ-উন্নয়ন গ্রন্থাগার, অনির্বাণ থিয়েটার, সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, হিন্দোল সংগীত পরিষদ, দর্শনা উদীচি শিল্পোগোষ্ঠি, দর্শনা সরকারি কলেজ, মেমনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দর্শনা ডিএস মাদরাসা, কেরু উচ্চ বিদ্যালয়, দর্শনা বালিকা বিদ্যালয়, দক্ষিন চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পরানপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়, আজমপুর, ঈশ্বরচন্দ্রপুর, শ্যামপুর, পশ্চিম রামনগর, শান্তিনগর, পূর্ব-রামনগর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়, লিটিল এনজেলস্ স্কুল, অংকুর আর্দশ বিদ্যালয়, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভৈরবী সাংস্কৃতিক সংগঠন, রেল-বাজার দোকান মালিক সমিতি, ফরিয়া সংগঠন, দর্শনা রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন, কেরুজ শ্রমিক ইউনিয়ন, মটর শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন।
এছাড়াও ‘লাল সবুজের নিশানে, বিজয় আমার গৌরবের’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দর্শনায় ৭দিন ব্যাপী সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে বিজয় মেলা ও নাট্যাৎসব শুরু হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি টিপু সুলতানের সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী দিনের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা করেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দামুড়হুদা উপজেলা আ. লীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান মনজু।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসাবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার সম্পাদক নুর হাকিম, দামুড়হুদা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী, সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মল্লিক। আলোচনা অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পারকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়ন্তী এলিজাবেথ, আরতি হালসানা ও মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কুমকুম আলম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন, দর্শনা সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহসভাপতি হারুন অর রশিদ জুয়েল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাকি বিল্লাহ।
জীবননগর:
৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে জীবননগরে মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকালে শহিদ বেদিতে জীবননগর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌরসভা, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পরে জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোকুনুজ্জামানের সভাপতিত্বে জীবননগর থানা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তিথি মিত্র, জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেক, জীবননগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েসা সুলতানা লাকী, বাকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান প্রমুখ।
আন্দুলবাড়ীয়া:
সারা দেশের ন্যায় আন্দুলবাড়ীয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে গতকাল দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ, আন্দুলবাড়ীয়া কলেজ, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া আশরাফিয়া আলীম মাদরাসা, পাঁকা দারুস সালাম দাখিল মাদরাসা, শাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাশীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজিয়েট স্কুলসহ অত্র ইউনিয়নের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ, আন্দুলবাড়ীয়া সাহিত্য পরিষদ, আন্দুলবাড়ীয়া বাজার পরিচালনা কমিটি, আন্দুলবাড়ীয়া ভৈরব সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিওসহ নানা সংগঠন পৃথক- পৃথক ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও জনিয়ে শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, ফাতেহা পাঠ, বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি, আলোচনা সভা, খেলাধুলা ও পুরস্কার বিতরণী।
সকাল ৯ টায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালিটির নেতৃত্বেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার, সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম মধু, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এসএম আশরাফুজ্জামান টিপু, শেখ আতিয়ার রহমান, খান তারিক মাহমুদ, হাফিজুর রহমান হাফিজ, মোল্লা ফখরুল হাসান টুটুল, শেখ সামাদুল ইসলাম, ডা. মীর মাসুদুল খালেক বুলু, মুন্সী আমিনুল বাশার কবু, এসআই জাহাঙ্গীর হুসাইন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, নাসিম, জুব্বার প্রমুখ।
এদিকে, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে দৃষ্টি নন্দন, স্বনামধন্য ও আধুনিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আন্দুলবাড়ীয়া কলেজিয়েট স্কুলের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় ১৬ ডিসেম্বর ৫১ তম মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টায় আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের সরকার প্লাজায় তৃতীয় তলায় অবস্থিত কলেজিয়েট স্কুলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আন্দুলবাড়ীয়া কলেজিয়েট স্কুলের সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক- শিক্ষিকা, কর্মকর্তা- কর্মচারীবৃন্দের স্বর্তঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনে কলেজিয়েট স্কুলের নিজস্ব দুইটি মিনিবাস, দুইটি মাইক্রোবাস, একটি পাজেরো গাড়ি, অর্ধ শতাধিক ইজিবাইক, ২০ টি মোটরসাইকেলের বিশাল বহর সহকারে বিজয় র্যালি বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিজয় র্যালির নেতৃত্বদেন আন্দুলবাড়ীয়া কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল মোস্তফা আমজাদ।
র্যালিতে অংশ নেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, আন্দুলবাড়ীয়া কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার, সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম মধু জিহাদী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আন্দুলবাড়ীয়া আশরাফিয়া আলীম মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি এসএম আশরাফুজ্জামান টিপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ, আন্দুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নারায়ণ ভৌমিক, শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর হুসাইন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শেখ আরোজ আহাম্মেদ বিল্লাল, আন্দুলবাড়ীয়া বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি মুন্সী আমিনুল বাশার কবু, সহ সাধারণ সম্পাদক এসএম জাভেদ লাল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপালের সহোদর মোস্তফা শাকিল সামাউল, মোস্তফা তাজওয়ার ওরফে ছোট মনি, লতিফ ব্রিকস এর ম্যানেজার বিল্লাল হোসেন, কলেজিয়েট স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল শেখ জিহাদী ইসলাম সোহাগ, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান, সহকারী শিক্ষক হারুণ অর- রশীদ, এনামুল ইক, হুমায়ন কবির সিজার, আবুল কালাম আজাদ, আক্তার হোসেন, কানিজ ফাতিমা, আয়েশা খাতুন, মুসলিমা খাতুন, আসমা খাতুন, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক- শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ।
মেহেরপুর:
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহরের কলেজমোড়ে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক ড. মুনছুর আলম খান। এর পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার রাফিউল আলম ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে জেলার বিভিন্ন অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল সাড়ে ৮ টার সময় জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সাড়ে ৮ টার সময় জেলা স্টেডিয়াম মাঠে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা আয়োজন করা হয়। এছাড়াও দিনব্যাপী রয়েছে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালা।
আমঝুপি:
আমঝুপিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি পালনের লক্ষে গতকাল সকাল ৭ টায় আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান। এরপর সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সদর থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আমঝুপি ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন আহম্মেদ চুন্ন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত, কৃষক লীগের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধ মাহবুব রহমান, সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সেলিম রেজা জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক আলফাজ হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য আসাদুল হক মন্ট, ৭ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, ফারুক হোসেন, প্রফেসর সাইদুর রহমান, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল মজিত, ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়াও আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকাল ৭ টায় পতাকা উত্তোলন করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজুজ্জামান। পরে ভারপ্রপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজুজ্জামান ও সহকারী শিক্ষক আবুল হাসানের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি আমঝুপির প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয় প্রঙ্গনে এসে শেষ হয়।

গাংনী:
গাংনীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গাংনী উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, গাংনী পৌরসভাসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। দিবসের শুরুতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৩১ বার তোপধ্বনি ও উপজেলা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এতে নেতৃত্ব প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম। এসময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক, গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
দিবসের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। সকাল ৯টায় গাংনী হাইস্কুল ফুটবল মাঠে প্রশাসন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম।
এছাড়াও কেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বীর মুক্তিযােদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান, বিকেলে গাংনী হাইস্কুল ফুটবল মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও বীর মুক্তিযােদ্ধাদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোাগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে গাংনী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সংগঠন স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচি পালন করে।
ঝিনাইদহ:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সূর্য্যদয়ের সাথে সাথে ঝিনাইদহ সদর থানা চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিনের শুভ সুচনা ঘটে। সূর্য্যদয়ের সাথে সাথে সব সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭টার ঝিনাইদহ মুক্তিযুদ্ধ সৃতিসৌধে জেলা জেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, জেলা বিএনপি, প্রেসক্লাব এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেন করেন জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম, পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান ।
সকাল ৯টার ঝিনাইদহ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কুচকাওয়াজ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ও শিশু একাডেমিতে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এছাড়া ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট চত্বরে ১৫ দিন ব্যাপী বিজয় মেলা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলমান থাকবে। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বিজয় র্যালি করা। বিজয় র্যালির নেতৃত্ব দেন পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু ও জেলা বিএনপির সভাপতি এড এম এ মজিদ।
