ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ ডেস্ক নিউজ:
চুয়াডাঙ্গায় আমন ধানের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল না থাকলেও কৃষকদের পরিশ্রম, যথা সময়ে জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে এবার আমন ধান চাষের বাম্পার ফলন পেয়েছেন এ জেলার কৃষকরা। তবে বিগত বছরের চেয়ে এবার ধানের বিক্রয় মূল্য নিয়ে দ্বিধায় থাকার কথা বলছেন কৃষকরা। তাহলে এবার আমনে কী লোকসান গুনবেন কৃষকরা? সে উত্তর পেতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে তাদের। তবে কৃষি অধিদফতরের আশা এবার আমন ধানে লাভবান হবেন কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা যায়, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলায় এবার রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩৪ হাজার ৭২৯ হেক্টর জমিতে। সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ১৮৭ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্জিত জমির পরিমাণ ৪৫৮ হেক্টর বেশি। এবার চুয়াডাঙ্গায় উফশি বা ইনব্রিড জাতের ধান আবাদ হয়েছে ৩১ হাজার ১৯৭ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাতের ধান ৩ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ধান আবাদ হয়েছে আলমডাঙ্গা উপজেলায়। এ উপজেলায় আবাদকৃত জমির পরিমাণ হলো ১৬ হাজার ৫১২ হেক্টর। এছাড়া দামুড়হুদা উপজেলায় ৭ হাজার ১৫৫ হেক্টর, জীবননগর উপজেলায় ৬ হাজার ২০০ হেক্টর এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা গ্রামের কৃষক সরোয়ার ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করি। এবার শুরুতে শ্যালো মেশিন দিয়ে ধানে পানি দিলেও পরে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ধানের অনেক উপকার হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। তবে এবার ধানের দাম ভালো পাবো কি না তা বুঝতে পারছি না।’
কালিদাসপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘চার বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। ফলনও বেশ ভালোই হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ধানের বাজার বুঝতে পারছি না, সবকিছু মিলে লোকসান হবে না লাভ হবে জানি না।’
বেলগাছি গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমার তিনবিঘা জমিতে ধানের চাষ। ব্লাস্ট রোগের কারণে ধানের ফলনে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় গত ২০২০/২১ আমন মৌসুমে ৩৩ হাজার ৫ শ ৭ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করে ১ লাখ ১১ হাজার ৫ শ ৭৮ মেট্রিকটন আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আবাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত আরো ১ হাজার ৪ শ ১০ হেক্টরসহ মোট ৩৪ হাজার ৯ শ ১৭ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৫৭ মেট্রিক টন। সেখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ৯ হাজার ৩ শ ৬ মেট্রিকটন ধানসহ মোট ১ লাখ ২০ হাজার ৪ শ ৬৩ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছিল।
একইভাবে ২০২১/২২ মৌসুমে ৩৪ হাজার ৭শ ২৯ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করে ১ লাখ ২০ হাজার ৪শ ৬৩ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চলতি মৌসুমেও আবাদের লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে আবাদ হয় ৩৫ হাজার ১শ ৮৭ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত ১০ হাজার ১শ ১২ মেট্রিক টন আমন ধানসহ মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬শ ৭৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ধানের আবাদ যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে উৎপাদনও সন্তোষজনক বলে কৃষি কর্মকর্তার মন্তব্য।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভা চন্দ্র সাহা বলেন, ‘চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত আমান আবাদ ও উৎপাদন হয়েছে। আশা করছি কৃষকেরা লাভবান হবেন।’
