টানা দুদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়

আপলোড তারিখঃ 2022-12-17 ইং
টানা দুদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় ছবির ক্যাপশন:
তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন : হিমেল হাওয়ার সাথে বইছে মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ রুদ্র রাসেলের প্রতিবেদন: চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করেই হিমেল হাওয়ার পাশাপাশি শীতের প্রকোপ বেড়েছে। পরপর দুইদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এ জেলায়। গতকাল শুক্রবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গত বৃহস্পতিবারও চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এদিকে, শীতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহের কারণে সকাল ও সন্ধ্যায় কুয়াশাচ্ছন্ন চুয়াডাঙ্গা শহরসহ জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের চলাচল অনেকাংশেই কমে গেছে। রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকসহ শহরের বিভিন্ন মোড়ের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো সন্ধ্যার পর থেকেই কমতে শুরু করে। তবে ভিড় বেড়েছে শহরের নতুন ও পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকানগুলোই। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। প্রাপ্ত বয়ষ্কদের তুলনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। চুয়াডাঙ্গার ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালে শিশুদের জন্য ১৫টি শয্যা বরাদ্দ থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে শয্যার থেকে কয়েকগুর বেশি ঠান্ডাজনিত নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যাজমা আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালের বর্হিবিভাগে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে কোনো কোনো দিন দেড় শতাধিক শিশুও চিকিৎসা নিচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘শীত বাড়ায় গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে শতাধিক শিশু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। আবার প্রতিদিন বহির্বিভাগেও ১৫০ জনেরও বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিয়ে হাসপাতালের সেবিকাদের হিমশিম খেতে হচ্চে। শীতের সময় দেখা যায় যে শিশুরা পোশাক ঠিক মতো পড়তে চায় না, কানটা হয়তো বাইরে থাকে, ঠাণ্ডা পানি খায় ফলে রোগাক্রান্ত হয়ে পরে। শিশুরা এ সময় ঠাণ্ডা পানি ও ঠাণ্ডা বাতাসের সাথে খাপ-খাওয়াতে পারে না। শীতের সময় বাতাসে জীবাণু বেশি থাকে। বিশেষ করে ভাইরাস বেশি থাকে যা শ্বাস নালীর মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে ইনফ্লয়েঞ্জা ও মামসের মতো রোগের সৃষ্টি করে। শীতে ঠাণ্ডাজনিত রোগ থেকে বাঁচতে ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলন পরামর্শ দেন, এ সময় বাইরের খাবার শিশুদের একদমই খাওয়ানো উচিত নয়। শীতজনিত এসব রোগের হাত থেকে রক্ষায় ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের শুধু মাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। সকালে ও সন্ধ্যার পর শিশুদের অযথা বারির বাইরে বের করা যাবে না। শুকনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন গরম কাপড় পড়াতে হবে। তারপরেও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হলে বিলম্ব না করে চিকিৎসকের নিকট নিতে হবে।’ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডাইরিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয়মাস বয়সী শিশু আবিরের দাদী মোমেনা বেগম জানান, ‘নাতীকে নিয়ে দুইদিন ধরে হাসপাতালে আছেন তিনি। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর চাপ ও স্থান সংকটে কোনো মতে ওয়ার্ডের এক কোনে রয়েছেন তিনি। যারা বারান্দায় রয়েয়ে শীতে তাদের বেশি কষ্ট হচ্ছে।’ জীবননগর উপজেলার বাসিন্দা শাহিনা খাতুন বলেন, ‘গত সোমবার থেকে তার মেয়ে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। জীবননগর থেকে চিকিৎসা করালেও সুস্থ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার মেয়েকে সদর হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক ভর্তি রাখে। শিশু ওয়ার্ডে কোনো বেড খালি নেই, তাই শিশু কন্যাকে ওয়ার্ডের ফ্লোরে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতেলের টয়লেট ও ফ্লোর নোংরা। শীতের ঠান্ডা বাতাসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ চুয়াডাঙ্গা পৌর শহেরর একটি ইটভাটায় কর্মরত বৃদ্ধ সাজ্জাদ আলী জানান, ‘তার বাড়ি দিনাজপুরে। পেটের দায়ে বৃদ্ধ বয়সে কাজ করছেন ইটভাটায়। থাকেন ইটভাটার এক খুপড়ি ঘরে। শীতের মধ্যেও অনেক ভোরে উঠে কাদা পানি নিয়ে তাঁকে কাজন করতে হয়। চুয়াডাঙ্গায় কয়েকদি ধরে শীতের প্রকোপ বাড়ায় ঠাণ্ডা পানিতে কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে।’ দামুহুদা উপজেলার ইজিবাইক চালক ইসরাফিল হোসেন বলেন, ‘সংসারের তাগীদে সকাল বেলা গাড়ি নিয়ে বের হলেও শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি থাকায় লোকজন কম থাকে। এজন্য তাকে গাড়ি নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। শীতের তীব্রতা ও গরম কাপড়ের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।’ পাখিভ্যান চালক আলমগীর বলেন, ‘আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। প্রতিদিন ভ্যান না চালালে আমার সংসার চলে না। কয়েকদিন যাবত অতিরিক্ত কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাসের কারণে ভ্যান চালাতে কষ্ট হচ্ছে। ঠাণ্ডায় ভ্যানে যাত্রী উঠতেও যাচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।’ চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল হাসান জানান, এটিই চলতি মৌসুমে সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও কমবে। গত ১০ ডিসেম্বর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন থেকে তাপমাত্রা এর থেকে আর বাড়েনি। তবে ১১ ডিসেম্বর ১৩ দশমিক ৪ তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়। ১২ ডিসেম্বর ১৩ দশমিক ২, ১৩ ডিসেম্বর ১৪ দশমিক, ১৪ ডিসেম্বর ১৩ দশমিক, ১৫ ডিসেম্বর ১১ দশমিক ৫ ও গতকাল শুক্রবার ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আকস্মিক তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং উত্তর থেকে ধেয়ে আসা হিমেল হাওয়ার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই ভোর থেকে কুয়াশা পড়রেও সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিলবে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)