ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, তিতুদহ: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দর্শনা থানাধীন গড়াইটুপি ইউনিয়নের দাস পাড়ায় একই পরিবারের ৩ জন হিন্দু ধর্ম থেকে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁরা নোটারি পাবলিক চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ে হাজির হয়ে সনাতন ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের দাস পাড়া গ্রামের শ্রী রাজকুমারের ছেলে ষষ্ঠী কুমার তার স্ত্রী রুপালী রানী ও তাদের একমাত্র কন্যা সংগীতা রানী হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সনাতন ধর্ম পরিবর্তন করে ষষ্ঠী কুমার তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখেন আল আমিন, তার স্ত্রী রুপালী রানীর নাম পরিবর্তন করে রাখেন সুমাইয়া ও তাদের একমাত্র কন্যা সংগীতা রানীর নাম পরিবর্তন করে রাখেন মারিয়াম। এর আগেও ২০১০ সালে সনাতন ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তবে নানা চাপে তাঁকে পূর্বের ঠিকানাতে ফিরতে দেখলেও সনাতন ধর্ম-কর্ম করতে দেখেননি কেউ।
এ বিষয়ে নতুন ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী আল আমিন বলেন, ‘আমি ছোট বেলা থেকে সনাতন ধর্মের অনুসারী হয়েও ধর্মীও দৃষ্টিকোন থেতে বুঝতে পারি যে ইসলাম ধর্মের শরিয়ত মোতাবেক চলাফেরা এবং তাদের সামাজিক ব্যবস্থা অত্যান্ত সুচিন্তিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে আমি এই সিদ্ধান্ত নিই যে ইসলাম ধর্মই সত্য ধর্ম, শান্তির ধর্ম। তাই আমার ভবিষ্যৎ ও আখিরাতের কথা চিন্তা করে আমি একজন মুসলমান ইমাম দ্বারা তওবা করে কালেমা তৈয়বা পাঠ করে বাপ-দাদার সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি। আমাদের ধর্মান্তরের ব্যাপারে কেউ আমাদের জোর জবরদস্তি করে নাই, বা ধর্মীয় লোভ দেখায় নাই। আমরা স্বেচ্ছায় এবং অন্যের বিনা প্ররোচণায় পবিত্র ইসলাম ধর্মের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে এই ধর্ম গ্রহণ করি। তবে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক পরিবারের সকলকে আমি পাশে রেখে ও খেদমত করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।’
এ বিষয়ে খাড়াগোদা জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অবশ্যই ভালো। কারণ জান্নাতে প্রবেশের পথটা তাঁর জন্য অনেক সহজ হয়ে গেছে। তবে যে মুসলিম হয়েছে, তাঁকেও ইসলামের পথে কাজ করতে হবে। এছাড়াও সমাজের সচেতন মুসলিম মানুষগুলোর উচিৎ নবমুসলিম পরিবারটির ওপর নানা ধরনের উপকারের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।’
ইসলাম গ্রহণের পর ধর্মান্তরিত তিনজন তাদের পরিবার ছেড়ে পার্শ্ববর্তী জেলার সাফদারপুরে আছেন বলে জানান আলামিন। বিষয়টি নিয়ে গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা মন্তব্যের ঝড় উঠে চলেছে।
