মেহেরপুরের গাংনীতে কাজী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

আপলোড তারিখঃ 2022-12-12 ইং
মেহেরপুরের গাংনীতে কাজী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদক: মেহেরপুরের গাংনীতে নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিধি লঙ্ঘনকারী ওই কাজীর নাম মনিরুল ইসলাম। বিধি লঙ্ঘনকারী ওই কাজী গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়নের স্থায়ী কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আবার একই সঙ্গে ১২০ দিনের অস্থায়ী নিয়োগে ৬ বছর ধরে গাংনী পৌরসভায় কাজীর দায়িত্বেও তিনিই রয়েছেন। তবে ১২০ দিনের অস্থায়ী নিয়োগে কীভাবে ৬ বছর ধরে পৌরসভায় কাজীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কাজী মহলে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাংনী পৌরসভার স্থায়ী কাজী কাদের হোসেনের বয়স শেষ হওয়ার কারণে তাঁর লাইসেন্স বাতিল হলে ওই পদটি শূন্য হয়। ফলে গাংনী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৯ জন কাজীর মধ্যে থেকে নিয়োগ উপদেষ্টা কমিটি ১২০ দিনের জন্য সাহারবাটি ইউনিয়নের কাজী মনিরুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়। অস্থায়ী ১২০ দিনের নিয়োগে কীভাবে টানা ৬ বছর ধরে একই ব্যক্তি পৌরসভার কাজীর দায়িত্বে থাকে, তা নিয়ে অন্য কাজীদের মধ্যে গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, নিয়োগ উপদেষ্টা কমিটিকে ম্যানেজ করেই তিনি নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুসলিম তালাক ও বিবাহ (রেজিস্ট্রিকরণ) ৪ এর ক ৫(১) বিধিতে উল্লেখ আছে যে, অস্থায়ী নিয়োগের বিধান বিদ্যমান। নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে শূন্যতা সৃষ্টি হলে জেলা রেজিস্ট্রার জরুরি মনে করলে অস্থায়ী নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ের নিকট প্রস্তাব প্রেরণ করতে পারবেন ও উক্ত প্রস্তাব সরকারের অনুমোদন প্রাপ্ত হলে কার্যকর হবে। বিধিমালার ৪ এর (গ) তে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে এইভাবে বিধি প্রণয়ন করা যেতে পারে যে, সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি (ইউপি চেয়ারম্যান/মেম্বার, সিটি কর্পোরেশন মেয়র/কমিশনার থেকে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখক্রমে মতামত গ্রহণ করা যেতে পারে এবং প্রাপ্ত মতামত বিবেচনাক্রমে জেলা উপদেষ্টা কমিটি কর্তৃক যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করার বিধান করা যেতে পারে। বিধানে এটা উল্লেখ করা যেতে পারে যে, যথাসময়ে মতামত পাওয়া না গেলে জেলা উপদেষ্টা কমিটির তদসংক্রান্তে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করতে পারবেন। সেই আলোকে প্রণীতব্য বিধিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সময়সীমা ১২০ দিন নির্ধারণক্রমে জেলা উপদেষ্টা কমিটিকে উক্ত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য উল্লেখ করা যেতে পারে। এছাড়া উক্ত সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব না হলে অতিরিক্ত দায়িত্ব ১২০ দিনের অধিক বহাল রাখার বিষয়ে সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে জেলা উপদেষ্টা কমিটিকে সরকারের নিকট অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে এবং সরকার ঐরুপ আবেদনের প্রেক্ষিতে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করতে পারবে এবং যার ধারাবাহিকতায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় বৃদ্ধি করিতে পারবে। কিন্তু উল্লেখিত বিধি অনুসরণ না করে বিধি বর্হিভূতভাবে বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘শূন্য পদটিতে যতদিন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে কাউকে নিয়োগ দেওয়া না হয়, ততদিন পর্যন্তই আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ তবে কীসের ভিত্তিতে এমন মনগড়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। এ বিষয়ে জেলা কাজী সমিতির সভাপতি আবুল বাসার বলেন, ‘উক্ত পদটিতে মামলা জটিলতার কারণে স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে আছে, তবে আমার জানা মতে মনিরুল ইসলামকে তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কীসের ভিত্তিতে কোন বিধিতে নিয়োগ দিয়েছিলেন, এ বিয়ষে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)