ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহসভাপতি শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির পাঁচ শির্ক্ষীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ষোলটাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির কক্ষে ক্লাস চলাকালে শিক্ষিকার সামনে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষিকা ও নাইটগার্ড বিদ্যালয়ের সহসভাপতি শহিদুল ইসলামকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি ওই পাঁচ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। এ ঘটনার পর থেকে ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সহসভাপতির ক্রোধের শিকার শিক্ষার্থীরা হলো- রবিন দাশ, প্রান্ত দাশ, পূজা দাশ, বিথী দাশ, স্বপ্না দাশ ও প্রভাতি দাশ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি শহিদুল ইসলামের নাতনী বেবি। গত বৃহস্পতিবার ক্লাসের মধ্যে বেঞ্চে বসা নিয়ে বেবি ও আরও দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। বেবি তার দাদা শহিদুল ইসলামকে বিষয়টি জানালে তিনি একটি ধঞ্চের মোটা লাঠি দিয়ে ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে ওই শিক্ষার্থীদের এলাপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এসময় শ্রেণিকক্ষের শিক্ষিকা ও নাইটগার্ড তাকে ঠেকানোর চেষ্টা করলে নাইটগার্ডকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন তিনি।
শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা জানান, ছোট বাঁচ্চাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হতেই পারে, ‘এ নিয়ে অভিভাবকেরা যেভাবে পিটিয়েছে, তা কাম্য নয়। তবে এর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়েদের পাঠাবো না। শিক্ষিকার সামনে এমন ঘটনার পর ছেলে-মেয়েরাও স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে।’ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসিমা খাতুন জানান, ‘আমি ক্লাস নিচ্ছিলাম, হঠাৎ সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম ধঞ্চের লাঠি নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি মার শুরু করে। আমি তাকে বাঁধা দিই, কিন্তু তিনি কর্ণপাত করেনি। বিদ্যালয়ের কর্মরত নাইটগার্ড সৌরভ হোসেনও তাঁকে বাধা দেয়। এসময় সহসম্পাদক তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এ ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসছে না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা মীমাংসা করে নিয়েছি, আমাদের মধ্যে আর কোনো সমস্যা নেই।’ ষোলটাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা হুসনিয়ারা উষা জানান, ‘সহসভাপতিকে অনেকবার বলেছি ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদের স্কুলে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু তিনি তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে যাননি। ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে বসে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করব।’ সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘এখন পর্যন্ত আমি আমার ঊর্ধ্বতনও কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়নি। প্রয়োজন হলে জানাবো।’
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শফিউল ইসলাম জানান, ‘ঘটনাটি শোনার পর আমি বিদ্যালয়ে এসেছি এবং ওই সকল শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে নিজে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছি। তারপরও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছে না।’ মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক অফিসার ভূপেন চন্দ্র রায় মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। অবশ্যই ওই ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
