ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: দর্শনার দোস্ত গ্রামের বসতি পাড়ায় পুত্রবধূর ওপর অভিমান করে নাসিমা খাতুন (৪০) নামে এক নারী বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নাসিমা খাতুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ও দর্শনা থানার বেগমপুর ইউনিয়নের দোস্ত গ্রামের বসতিপাড়ার সালিহিমের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাসিমা খাতুনের ছেলে তারিকের এর আগে দুটি স্ত্রী ছিল। মায়ের কথা মতো দুই স্ত্রীকে তালাক দেন তারিক হাসান। তারিক হাসান তৃতীয় স্ত্রী রতি খাতুনকে নিয়ে সংসার করছিলেন এবার। প্রায় সময় বিভিন্ন কারণে পুত্রবধূ রতির সঙ্গে গণ্ডগোল হত শাশুড়ী নাসিমা খাতুনের। এই নিয়ে গত সোমবার তাদের মধ্যে আবারো ঝগড়াঝাড়ি হয়। স্ত্রীর বিরুদ্ধে ছেলে তারিকের নিকট নালিস করলেও স্ত্রীর পক্ষেই সাফায় গায় তারিক। এ কারণেই ছেলে-পুত্রবধূর সঙ্গে মনোমালিন্য হয় নাসিমা খাতুনের।
মান-অভিমানের এক পর্যায়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সবার অগোচরে বাড়িতে থাকা ঘাষমারা বিষপান করেন নাসিমা খাতুন। অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন বিষের গন্ধ পেয়ে নিকটস্থ দোস্ত গ্রামের পল্লী চিকিৎসক সুদেব কুমার পালের নিকট নেয়। তখন পল্লী চিকিৎসক নাসিমা খাতুনের পাকস্থলি ওয়াশ করেন। অবস্থার অবনতি হলে তিনি তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে আসার কিছুক্ষন পরই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পর সদর হাসপাতালে থাকা আত্মহত্যাকারী নাসিমার স্বজনরা জানান, নাসিমার মাথায় সমস্যার কারণেই বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। তারা প্রথমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে মূল ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নূর জাহান রুমি বলেন, রাত সাড়ে ৭টার দিকে নাসিমা খাতুনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে পরিবারের সদস্যরা। তিনি বিষপান করেছেন বলে আমাদের জানালে আমরা তার পাকস্থলি ওয়াশের সিদ্ধান্ত নিই। এর কিছুক্ষণ পর ওয়াশ করার সময় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়েছে।
দর্শনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম আমান উল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে নিহতের নাসিমার বাড়িতে যায়। প্রাথমিকভাবে তদন্তে আমরা জানতে পারি গত সোমবার রাতে পুত্রবধূর সঙ্গে নাসিমা খাতুনের পারিবারিক কারণে ঝগড়াঝাটি হয়। এ নিয়ে গতকাল বিকেলে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন নাসিমা খাতুন। মরদেহ বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
