ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সকল প্রকার প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়েছে। আগামীকাল সোমবার জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সকল প্রকার প্রস্তুতিও ইতঃমধ্যে শেষ করেছে নির্বাচন অফিস ও রির্টানিং অফিসারের কার্যালয়। তবে শেষ দিনে প্রার্থীরা মাঠে বেশ সরব ছিলেন। শেষদিনে প্রত্যেক প্রার্থীই ছুটেছেন হাতে গোনা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। শেষ সময়টুকু কাজে লাগাতে দেখা গেছে প্রত্যেক সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদেরও।
আগামী ১৭ অক্টোবর সোমবার ইভিএমএ ভোটগ্রহণ করা হবে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একজন, সদস্য পদে চারজন এবং সংরক্ষিত সদস্য (মহিলা) পদে দুইজন নির্বাচিত হবেন। স্থানীয় সরকারের পৌরসভার মেয়র- কাউন্সিলরবৃন্দ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় এবং ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ নির্বাচিত ৫৬৫ জন জনপ্রতিনিধি ভোট প্রদান করবেন। সদর উপজেলায় ১১৯ ভোট, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২১১ ভোট, দামুড়হুদা উপজেলায় ১১৮ ভোট এবং জীবননগর উপজেলায় ১১৭ ভোট রয়েছে। চারটি ভোট কেন্দ্র হলো- চুয়াডাঙ্গা সরকারি উচ্চবালিকা বিদ্যালয়, আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, দামুড়হুদা আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজ ও জীবননগর থানা পাইলট মডেল বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
জেলা পরিষদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সজাগ আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
বিধি অনুযায়ী গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান। জেলা পরিষদ নির্বাচনের বিধিমালা ২০১৬ এর ৭৪ ধারা অনুযায়ী কোনো নির্বাচনী এলাকার ভোট গ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা, নির্বাচনী এলাকায় কোনো জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান এবং কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে বা তাতে অংশ নিতে পারবে না। ওই সময়ে কোনো আক্রমণাত্মক কাজ বা বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ করতে পারবে না। ভোটার বা নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত বা দায়িত্বরত কোনো ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। কোনো অস্ত্র বা শক্তিও প্রদর্শন বা ব্যবহার করতে পারবেন না কেউ।
এদিকে, সবধরনের ইঞ্জিনচালিত যানবাহন (মোটরসাইকেল, বেবি ট্যাক্সি, মাইক্রোবাস, জীপ, ট্রাক, পিকআপ) চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে, নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী গাড়ি, মহাসড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার গাড়ি, বন্দর ও জরুরি পণ্য পরিবহনের গাড়ি নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া প্রার্থী ও তার এজেন্টদের গাড়ি, সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের গাড়ি, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিযোগাযোগ ও ডাকের গাড়ির ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। জরুরি প্রয়োজনে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে ব্যক্তিগত গাড়িও চলতে পারবে।
এছাড়াও, আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অস্ত্রের লাইসেন্সধারীগণের অস্ত্রসহ চলাচল, বহন ও প্রদর্শন করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, চার সদস্য পদে ১৬ জন প্রার্থী এবং দুই সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু মোটরসাইকেল প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী আরেফিন আলম রনজু ঘোড়া প্রতীকে এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি আব্দুস সালাম চশমা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডের (চুয়াডাঙ্গা সদর) প্রার্থী চুয়াডাঙ্গা শহরের পুরাতন হাসপাতালপাড়ার শহিদুল ইসলাম সাহান (তালা প্রতীক), নীলমণিগঞ্জ গ্রামের মাফলুকাতুর রহমান (হাতি প্রতীক), শ্রীকোল গ্রামের জহুরুল ইসলাম (বৈদ্যুতিক পাখা) ও ধুতুরহাটের আব্দুর রউফ (টিউবওয়েল) প্রতীক পেয়েছেন। সংরক্ষিত সদস্য পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে (চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা) প্রার্থী আলমডাঙ্গার বগাদী গ্রামের কাজল রেখা (বই), শিবপুর গ্রামের মনিরা খাতুন (ফুটবল), এরশাদপুরের সামশাদ রানু (হরিণ), জাহাপুরের বিথী খাতুন (টেবিলঘড়ি) ও বোয়ালিয়া গ্রামের হাসিনা খাতুন (মাইক) প্রতীক পেয়েছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডের (আলমডাঙ্গা উপজেলা) সদস্য পদে প্রার্থী মুন্সিগঞ্জের খলিলুর রহমান (বৈদ্যুতিক পাখা), আলমডাঙ্গার বলেশ্বরপুরের আলতাব হোসেন (হাতি), বৈদ্যনাথপুরের মিজানুর রহমান (টিউবওয়েল), পোয়ামারী গ্রামের মজনু রহমান (তালা), এরশাদপুরের জাফর উল্লাহ (ঘুড়ি) এবং মধুপুরের তপন কুমার বিশ্বাস (উটপাখি) প্রতীকে প্রকিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
সংরক্ষিত সদস্য পদে ২ নম্বর ওয়ার্ডে (দামুড়হুদা ও জীবননগর) প্রার্থী জীবননগরের শিরিনা পারভিন (হরিণ), জীবননগরের কহিনুর বেগম (বই), জীবননগরের সোনদাহ গ্রামের নাহার বানু (ফুটবল), দামুড়হুদার দলিয়ারপুর গ্রামের আদুরী খাতুন (দোয়াত কলম) ও পীরপুরকুল্লা গ্রামের ইয়াসমিন খাতুন দেয়াল (মাইক) প্রতীক পেয়েছেন। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে (দামুড়হুদা উপজেলা) সদস্য পদে প্রার্থী দশমী গ্রামের শফিউল কবির (টিউবওয়েল), হরিশচন্দ্রপুরের লস্কর আলী (তালা) ও সাড়াবাড়িয়া গ্রামের অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম (বৈদ্যুতিক পাখা) প্রতীক পেয়েছেন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে (জীবননগর উপজেলা) প্রার্থী জীবননগরের আলীপুরের মিতা খাতুন (টিউবওয়েল), গঙ্গাদাসপুরের মোসাবুল ইসলাম লিটন (হাতি) ও হাসাদাহ গ্রামের কবির আহম্মদ (তালা) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
