ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেখ সামসুল আবেদীন খোকন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনের পরিচালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস, উপ-প্রচার সম্পাদক মো. শওকত আলী বিশ্বাস, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন হেলা, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. সাইফুল হাসান জোয়ার্দ্দার টোকন, জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি মো. আফজালুল হক বিশ্বাস, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কবির, কৃষক লীগ নেতা মাসুম, জেলা যুবলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল হোসেন দিপক, শরীফ হোসেন দুদু, সাজ্জাদুল ইসলাম স্বপন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা তানিম হাসান তারেক, মো. ফিরোজ জোয়ার্দ্দারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেখ সামসুল আবেদীন খোকন বলেন, ‘আমি ছাত্রবস্থা থেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। আমি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। দীর্ঘদিন যুবলীগ করেছি। তিনবার যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলাম। আমাদের একটাই আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নির্দেশকে আমরা প্রতিপালিত করব। একটা পর্যায়ে গতবার আমি জেলা পরিষদের নির্বাচন করেছি। গতবারের নির্বাচনের জন্য আমি অনুতপ্ত।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ, জেলা আওয়ামী লীগের অভিভাবক ও মাননীয় সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, আত্মীয়-স্বজন সকলেই নির্বাচনের ব্যাপারে আমাকে বলেছেন। আমি মনে করি দলের বাইরে যাওয়া ঠিক নয়। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখে দলের বাইরে না যেয়ে আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক রাজপথে থাকব। আমি দল করি, দলের আদর্শকে আমি মানি। আমার দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক সময়ে বিভিন্ন সরকার বদলেছে। অনেক জায়গা থেকে অফার দেওয়া হয়েছে। আমি দল ছেড়ে অন্য কোথাও যায়নি। আমি যতদিন বাঁচব, দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে কাজ করব।’
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি সবাইকে সাথে নিয়ে। এখন থেকে খোকন ভাইকে জেলা আওয়ামী লীগের সকল প্রোগ্রামে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আমরা যারা মান-অভিমান করি, তাদের লস হয়। সংগঠন, সংগঠনের গতিতেই চলে। আমরা সবাই মিলে পথচলায় বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন ভাই সেই দুর্দিন থেকেই সবাইকে সাথে নিয়ে পথ চলেন। জেলা আওয়ামী লীগের ডাকে খোকন ভাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। তেমনি আমাদের সংগঠনের থেকেই অন্য কেউ যদি এরকম থাকে, তাঁদেরকেও আমরা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ করব এই অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে।’
