হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে ৭ কাউন্সিলরের অভিযোগ

আপলোড তারিখঃ 2022-09-22 ইং
হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে ৭ কাউন্সিলরের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহ অফিস: ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে গোপনে নিয়োগ বাণিজ্য করার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর পরিষদের ৭ জন কাউন্সিলর। স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এই অভিযোগ করেন তাঁরা। এছাড়া অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসককে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে সাক্ষর করেছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিখিল কুমার হালদার, ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাসির উদ্দীন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবু আসাদ রুনু, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসেম আলী, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শারমীন আক্তার সম্পা এবং ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছায়েরা খাতুন। লিখিত অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে, হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেন অর্ধকোটি টাকার অর্থ বাণিজ্য করার জন্য তাঁর নিকটতম আত্মীয়-স্বজনদের গোপনে চাকরি দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। পৌরসভার নিয়োগবিধি ভঙ্গ ও পৌর সংস্থাপন কমিটির অনুমোদন ছাড়ায় হিসাবরক্ষক পদে মেজবাহ উদ্দীন মিঠুন, নিম্নমান সহকারী পদে হাসানুজ্জামান, সহকারী কর আদায়কারী পদে জামিরুল ইসলাম ও টিকাদানকারী হিসেবে বুলবুলকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়, হরিণাকুণ্ডু পৌরসভা বিএমডিএফ এ ৩০ লাখ টাকার দেনা আছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। অভিযোগকারী কাউন্সিলররা জানান, মেয়র ফারুক হোসেন কাউন্সিলরদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এ কারণে বেশিরভাগ কাউন্সিলর পৌরসভার মিটিংয়ে যান না। অথচ মিটিংয়ে কোরাম সংকট থাকার পরও বিধি ভঙ্গ করে একের পর এক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাসির উদ্দীন অভিযোগ করেন, পৌরসভার সরকারি ট্রাকটি তাঁর নিজের ইটভাটায় দেওয়া হয়েছে। ট্রাক ভাড়ার টাকা জমা হচ্ছে কি না জানতে গেলে দুর্ব্যবহার করেন মেয়র। জন্ম-মৃত্যু সনদ নিতে ৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা গ্রহণ করা হয়। পৌর এলাকায় তাঁর পচ্ছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করাচ্ছেন বলেও নাসির উদ্দীনসহ অভিযোগকারী কাউন্সিলররা উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেন গতকাল বুধবার জানান, ‘মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগেই অভিযোগকারীরা আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছিল। তারা হরিণাকুণ্ডুতে আওয়ামী লীগের অন্য গ্রুপ করে। এ কারণে পৌরসভার ভালো তাঁরা চান না। পরিষদের মিটিংয়ে তাঁরা যোগদান না করে বিরোধিতা করেন।’ তিনি বলেন, নিয়োগ বাণিজ্য করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। যাদের নাম অভিযোগকারীরা দিয়েছেন, তারা আমার কেউ না। মেয়র ফারুক বলেন, ‘আমি দুই কোটি টাকার দেনা নিয়ে পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করে সব দেনা শোধ করেছি। বিএমডিএফ এর দেনা আর অর্ধেক আছে। তিনি বলেন, কাউন্সিলর ও পৌর কর্মচারীরা বেতন পেতেন না, এখন নিয়মিত পাচ্ছেন। পৌরসভার ট্রাকটি মেরামত করে ইটভাটায় ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ভাটা মালিক পৌরসভার ফান্ডে ২০ হাজার টাকা মাসে ভাড়া দেন। ট্রাক মেরামত, তেল, মবিল ও ড্রাইভারের বেতন সবই বহন করেন ইটভাটা মালিক।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)