ঝিনাইদহে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

আপলোড তারিখঃ 2022-09-21 ইং
ঝিনাইদহে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের কার্ড প্রতি ৩০ কেজি চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে ১৫ টাকা কেজি দরের চাল না পেয়ে এলাকার চালের কার্ডধারীরা শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছে। নিম্ন আয়ের মানুষ ও গরিবের জন্য বরাদ্দ এসব চাল কারসাজি করে খোদ চেয়ারম্যান ও কিছু ইউপি সদস্য হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন এলাকার কার্ডধারী আমজনতা। এ নিয়ে এলাকার বঞ্চিত শত শত হতদরিদ্র সুবিধাভোগীদের মধ্যে প্রচণ্ড অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আবার এলাকার মানুষের চালের কার্ড অনলাইন করেতে দু’শ, তিন’শ ও চার’শ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফুরসন্ধি ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মোসাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তবে উদ্যোক্তা মোসাইদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সরকারি চাল বিতরণকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্ধি ইউনিয়নের সোনাতনপুর গ্রামের কালামের ছেলে ছাত্রলীগের সভাপতি সেলিম হোসেন সাংবাদিকেদের কাছে অভিযোগ করে জানান, ফুরসন্ধি ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চাল ক্রয়ে সুবিধাভোগীর মূল তালিকায় ৮২৭টি কার্ড থাকলেও অজ্ঞাত কারণে ফুরসন্ধি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম শিকদার, ডিলার ও কিছু ইউপি সদস্যদের কারসাজির কারণে শত শত কার্ডধারীরা সরকারের এ বিশেষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, দুটি ডিলার মিলে ৮২৭টি কার্ডের মধ্যে সর্বমোট ১০৯ জন সরকারি চাল পেয়েছে। আর বাকি শত শত কার্ডধারীরা হতাশ হয়ে বাড়িতে ফিরে গিয়েছে। তাহলে ফিরিয়ে দেওয়া বাকি কার্ডধারীদের চাল কোথায়? এদিকে ফুরসন্ধি ইউনিয়নের মোক্তারপুরসহ উক্ত এলাকার সাজু, মহিউদ্দি, পচি, কাশেম, জলীল ও একাধিক নারী ভোক্তাসহ সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চালের কার্ডধারীরা সাংবাদিকদের জানান, ‘আমাদের গত দুইবার চাল দেওয়ার পর এখন অজ্ঞাত কারণে আমাদের কার্ডে চাল দিচ্ছে না।’ ভুক্তভোগীরা আরও জানান, পূর্বের চেয়ারম্যানের আমলে এ প্রকল্পের চাল দেয়ার আগে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাধ্যমে তাদের নাম বিবেচনা করে উঠে আসে মূল তালিকায়। তবে বর্তমানে অনেকের চালের কার্ড থাকলেও ফুরসন্ধি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম শিকদার, ডিলার ও কিছু ইউপি সদস্যদের কারসাজিতে আমাদের কার্ড অনলাইন করে দেয়া হয়নি। সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেছে, ফুরসন্ধি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও কিছু ইউপি সদস্য এবং কুশাবাড়িয়া বাজারের ডিলার তৈয়ব আলী মিনার যোগসাজসে কার্ডধারীরা এসব সরকারি চাল না পেয়ে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।’ এবিষয়ে ইউনিয়নের কুশাবাড়িয়া বাজারের ডিলার তৈয়ব আলী মিনা অজ্ঞাত কারণে সাংবাদিকদের কাছে কোনো প্রকার বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে মোক্তারপুর এলাকার ডিলার কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা ওয়াজেদ হোসেন জানান, ফুরসন্ধি ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের ব্যাপারে কার্ডধারী এলাকাবাসীর অভিযোগ সম্পূর্ণ সঠিক। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. এস এম শাহিন বলেন, আমি সহিদুল ইসলাম শিকদারকে ফোনে ও সরাসরি বলেছি উপস্থিত কার্ডধারী সবাই সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চাল পাবে। তিনি আমার কথা মেনে নিয়ে কোনো প্রকার অনিয়ম হবে না মর্মে কথা দিয়েছেন। এখন অবশ্যই চেয়ারম্যানের সাথে কথা না বলে কিছু বলতে পারছি না। আর উদ্যোক্তা মোসাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। এদিকে, একাধিকবার ফোন দিয়েও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফুরসন্ধি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম শিকদারের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মহিদুল ইসলাম বলেন, অনলাইন করার পর সবাই কার্ডের চাল পাবে। এখানে চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম শিকদার ও ইউপি সদস্যদের কারসাজির কোনো প্রকার সুযোগ নেই।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)