ছবির ক্যাপশন:
মাহবুবুর রহমান মনি, কার্পাসডাঙ্গা: দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে ক্রেতা সাধারণ। মাছ বাজার, কাঁচা বাজার, মশলাদির বাজারসহ যাবতীয় দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশছোঁয়া। প্রতিটি পণ্য কেজিতে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে সংসার পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।
গতকাল সোমবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সয়াবিন তেল ১৯৫-২০০ টাকা, মসুরি ডাল ১১০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ৬০ টাকা, পোলট্রি মুরগির মাংস ২৫০ টাকা, ডিম ৪৪ টাকা হালি, শুকনা মরিচ ৪০০ টাকা, মরিচ গুড়ো ৪০০ টাকা, হলুদ গুড়ো ২০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, চিনি ৯০ টাকা ও পাঙ্গাশ মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সামসুল হক নামে এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, ‘কিছুদিন আগে পকেট করে টাকা আনতাম, বস্তা ভরে বাজার করতাম তাও পকেটে টাকা থাকত। বর্তমানে বস্তায় করে টাকা এনেও এক বস্তা বাজার হচ্ছে না। এ যেন লাগামহীন পাগলা ঘোড়া। এভাবে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়তে থাকলে আমরা কীভাবে জীবনধারণ করব।’
এছাড়া প্রতিটি পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের পরিবারের মানুষ দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়েছে। বাজার করতে আসা পাখিভ্যান চালক ডালিম সময়ের সমীকরণকে বলেন, ‘১৫ দিন আগে পোল্ট্রি মুরগির মাংশ কিনেছি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। সেই মাংশ এখন ২৫০ টাকা কেজি। যে মাছ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় কিনেছি, সেই মাছ বর্তমানে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে বাচ্চাদের মাছ-মাংস খাওয়াতে পারব না। কোনোরকম ডাল-শাক দিয়েই চালিয়ে নিচ্ছি।’
আরেক পাখিভ্যান চালক জানান, ‘আমার পরিবারে ৬ জন সদস্য, আমি সারাদিন পাখিভ্যান চালাই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভ্যান চালিয়ে ২৫০ থেকে ৩ শ টাকা ইনকাম করি। পানি বাদে সবকিছু কিনতে হয়। ৩ কেজি চাল কেনার পর অল্প কিছু টাকা থাকে, সেই টাকা দিয়ে বাজার হয় না। কোনো রকম টালমাটাল করে সংসার চালাতে হচ্ছে। নিত্যপন্যের দাম বাড়াতে সামনের দিনগুলোতে সংসার কীভাবে চলবে জানি না। আমাদের কান্না দেখার মতো কেউ নেই।’
কার্পাসডাঙ্গা বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক রাজু জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব অন্যান্য খাতসহ সরাসরি নিত্যপণ্যের বাজারে এসে পড়েছে। তাই জ্বালানি তেলের দাম যতদিন না কমবে, ততদিন নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া থাকবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে নিত্যপণ্যের দামও কমে আসবে।
