ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী হাসানাত কবির দিপু (৩৫) ও মফিজ (৪০) নামের দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ছয় মাইল ও ঝিনাইদহ জেলার ডাকবাংলা এলাকায় এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হিঙ্গেরপাড়ার আবু নছর বিশ্বাসের ছেলে কুয়েত প্রবাসী হাসানাত কবির দিপু ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আট মাইল নবীনগর গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মফিজ।
জানা যায়, গতকাল সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ থেকে ইকরামুল হকের (২৪) আলমসাধুযোগে মাছ কেনার জন্য যশোর যাচ্ছিলেন মফিজ। পথের মধ্যে ঝিনাইদহ জেলার ডাকবাংলা বিএডিসি ফার্মের সামনে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলকে পাশ কাটানোর সময় আলমসাধুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এসময় আলমসাধু চালক ইকরামুল ও আরোহী মাছ ব্যবসায়ী মফিজ গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। মফিজের জখম গুরুতর হওয়ায় সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি রাখেন। সেখানে চিকিৎসধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মফিজের মৃত্যু হয় ও আলমসাধু চালক ইকরামুল হককে জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
আলমসাধু চালক ইকরামুল হক বলেন, ‘আলমসাধু নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ডাকবাংলার কৃষি ফার্মের সামনে পৌঁছালে সামনে থেকে হঠাৎ করে একটি মোটরসাইকেল চলে আসে। মোটরসাইকেলেটিকে বাঁচাতে গেলে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে আলমসাধুর ধাক্কা লাগে।’
এদিকে, গতকাল সকালে ঝিনাইদহ থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজের মাকে চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার নীলমণিগঞ্জে বোনের বাড়িতে রাখতে আসেন প্রবাসী হাসানাত কবির দিপু। দুপুর একটার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। পথের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ তেঁতুল শেখ কলেজের অদূরে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কে পৌঁছালে চুয়াডাঙ্গামুখী জেরআর পরিহবনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুথোমুখী সংঘর্ষ হয়। এসময় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে হাসানাত কবির দিপু গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত হাসতান কবির দিপুর নিকট আত্মীয় চাঁন মিয়া বলেন, ‘আমি ও আমার চাচা হাসানাত কবির দিপু কর্মসূত্রে কুয়েতে বসবাস করে আসছি। গত ছয় মাস পূর্বে ছুটিতে দুজনেই দেশে ফিরে আসি। এ মাসের ২৭ তারিখ আমাদের কুয়েতে ফেরার কথা ছিল। আজ দিপু চাচা তার মাকে বোনের বাড়িতে রাখতে মোটরসাইকলেযোগে চুয়াডাঙ্গায় আসেন। কিন্তু ফেরার সময় জেআর পরিবহণের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরজাহান খাতুন বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার মফিজ নামের এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তার মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল। অবস্থা শঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, দুপুর দেড়টার দিকে হাসানাত কবির দিপু নামের অপর এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তবে জরুরি বিভাগে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বে তার মৃত্যু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাব্বুর রহমান জানান, ‘সদর থানাধীন ছয়মাইলে জেআর পরিবহনের ধাক্কায় হাসতান কবির দিপু নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বাসটিকে জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় ও তাদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
