ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: দামুড়হুদায় সাপের দংশনে (কামড়) একই মাদ্রাসার দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল আটটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই সময়ে দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়। এর পূর্বে ভোর চারটার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার চন্দ্রবাস গ্রামে মাদ্রাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় তাদেরকে সাপে কামড়ায়। ফজরের নামাজ পর মাদ্রাসার শিক্ষকরা দুই ছাত্রকে মুর্মূষু অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। নিহত দুই মাদ্রাসাছাত্র চন্দ্রবাস গ্রামের মাঠপাড়ার শওকত আলীর ছেলে জুনায়েদ হোসেন (১৪) ও একই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (১৩)। দুজনেই চন্দ্রবাস দারুল উলুম হাফেজিয়া কাওমি মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ছাত্র।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার ৩০ জন ছাত্রকে নিয়ে শিক্ষক মাওলানা জুলফিকার আলী একটি টিনশেড কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। মাদ্রাসার মেঝে পাকা হলেও দেওয়াল ও চাল টিনের তৈরি। মেঝেতেই ছাত্ররা লেখাপড়া করে ও রাতে বিছানা পেতে সেখানেই ঘুমায়। এই কক্ষেই পাশাপাশি বিছানা পেতে ঘুমিয়ে ছিল জুনায়েদ হোসেন ও আব্দুল্লাহ। ভোর চারটার পরে মাদ্রাসার শিক্ষক কুতুব উদ্দীন তাদের দুজনকে দরজার বাইরে বসে বমি করতে দেখেন। ইদুঁরে কামড়েছে ভেবে এসময় দুজনকেই তাদের বিছানায় রেখে মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা ফজরের নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে শিক্ষকরা জুনায়েদ হোসেন ও আব্দুল্লার অবস্থা খারাপ হচ্ছে বুঝতে পেরে ওই গ্রামের একজন গ্রাম্য চিকিৎসকের নিকটে নেয়। চিকিৎসক দুই ছাত্রকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিতে বলেন। পরবর্তীতে তাদেরকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করেন। হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে জুনায়েদ হোসেন ও আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়।
মাদ্রাসার শিক্ষক কুতুব উদ্দীন বলেন, ‘প্রতিদিনের ন্যায় ভোর চারটার দিকে আমি ঘুম থেকে উঠি। এসময় দেখি দরজার বাইরে জুনায়েদ ও আব্দুল্লাহ বমি করছে। কী হয়েছে জানতে চাইলে ওরা বলে যে ইদুঁরে কামড়েছে। কিন্তু ওদের বমি হওয়ার কারণে আমার সন্দেহ হলে ফজরের নামাজের পর দুজনকেই আমরা চন্দ্রবাস গ্রামের চিকিৎসক রেজাউলের কাছে নিয়ে যায়। তিনি দুজনকেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিতে বললে তখনি তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল কাদের বলেন, ‘সকাল সাতটার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষকেরা দুই ছাত্রকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। এসময় জানতে পারি দুজনকেই ভোর চারটার দিকে একই সমেয় ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে কামড়েছে। জরুরি বিভাগে দুজনকেই মুমূর্ষু অবস্থায় পেয়েছি। একজনের হাতে ও অপরজনের পায়ে সাপে কামড়ের অনুরুপ চিহ্ন ছিল। সাপে কামড়েরও তিন ঘণ্টা পর তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে দুজনকেই হাসপাতালেও ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়। ওয়ার্ডে নেওয়ার পরেই দ্রুত সময়ের মধ্যে দুজনের শরীরেই সাপের বিষের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেমন স্নেক ইনজেকশন দেওয়া হয়। তবে ভর্তির ৫০ মিনিটের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনেরই মৃত্যু হয়। সাপে কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে হাসপাতালে নিলে হয়ত বাঁচনো সম্ভব হতো।’
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, দামুড়হুদা থানাধীন চন্দ্রবাস গ্রামে সাপের কামড়ে একই মাদ্রাসার দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
