ছবির ক্যাপশন:
ভুক্তোভুগী ছাত্ররা বলেন, আমাদের কোয়ার্টার ছাড়তে বলেছিল ইনচার্জ। আমরা ব্যাচেলর হওয়ায় বাড়ি ভাড়া কেউ দিতে চাচ্ছেন না। তাই কোথাও যেতে পারেনি। গতকাল সকাল ১০টার দিলে হঠাৎ ইনচার্জের নির্দেশে অফিসের হিসাবরক্ষক রফিকসহ দুজন কোয়ার্টারের মেন গেটে তালাবদ্ধ করে দেয়। আমরা সারাদিন না খেয়ে আটক ছিলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ইউএনও স্যার ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মহোদয় সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে।
জানা গেছে, করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ আলোমতির অনুমতি সাপেক্ষে নোয়াখালীর তৌফিকুল ইসলাম (২০), নরসিংদীর আজিজুর রহমান সিয়াম (২০), পটুয়াখালী সাকিব (২০) ও টাঙ্গাইলের শওকত (২০) এই স্টাফ কোয়ার্টারে উঠে। গত তিনমাস যাবত তাদের কোয়ার্টার ছাড়তে নির্দেশনা দিলেও বাড়ি ভাড়া না পাওয়া কোয়ার্টার ছাড়েনি তারা।
গতকাল বুধবার সকালে তাদেরকে তালাবন্ধ করে দেয়া হয়। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম ভূইয়া, ভুমি কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেড মাজহারুল ইসলাম, পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান চাঁদের সহযোগিতায় দারোয়ানের কাছে থাকা চাঁবি দিয়ে তালা খুলে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ আলোমতি খাতুন বলেন, স্টাফ কোয়ার্টারের কোনো ছাত্র থাকার বৈধতা নেই। তারা বাড়ি ভাড়া করে থাকবে। করোনার সময় মানবিক কারণে এখানে থাকতে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, গতকাল আমি ছুটিতে ছিলাম। কে বা কারা তালাবদ্ধ করে রেখেছে আমার জানা নেই।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম ভূইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌছে তাদেরকে উদ্ধার করি। আমরা না আসলে হয়তো সারারাত এদের না খেয়ে কাটাতে হতো।
তিনি আরও বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যতদিন তাদের থাকার ব্যবস্থা না হয় তারা এই কোয়ার্টারেই থাকবে।
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আতাউর রহমান বলেন, এ ঘটনা তদন্তে বৃহস্পতিবার আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফাতেহ আকরামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত নার্সিং ইনস্টিটিউটে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে শুধু ছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ ছিল। দুই বছর ধরে সেখানে ছাত্রদের নার্স হিসেবে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ছাত্রীদের জন্য আবাসন সুবিধা থাকলেও ছাত্রদের সে সুবিধা নেই। ছাত্ররা ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন। কিন্তু করোনাকালে বাসামালিকেরা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে পড়ার ভয়ে তাঁদের বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। এরপর থেকে সদর হাসপাতালের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জনের মৌখিক নির্দেশে ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের অব্যবহৃত চারতলা ভবনের একটি কক্ষে তাঁদের থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই থেকে এই ছাত্ররা ভবনটিতে থাকেন।
