সড়কই যেন কৃষকের উঠান, দুর্ঘটনার শঙ্কা!

আপলোড তারিখঃ 2022-05-21 ইং
সড়কই যেন কৃষকের উঠান, দুর্ঘটনার শঙ্কা! ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দখল করে চলছে ভুট্টা, লালশাক, বোরো ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজ। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ছেন যানবাহনের চালক ও পথচারীরা। এভাবে চললে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। গতকাল শুক্রবার মেহেরপুর সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ভুট্টা, লালশাক, বোরো ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজ করার চিত্র চোখে পড়ে। সরেজমিনে দেখা যায়, মেহেরপুর সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা ও রামনগর থেকে গাংনী উপজেলার নওপাড়া, খোকসা-মদনাডাঙ্গা ও আমঝুপি-গাড়াডোব পাকা সড়ক ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে বোরো ধান ও লালশাকের গাছ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এ যেন এক ধান মাড়াইয়ের উঠান হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকরা পাশেই স্যালো চালিত ইঞ্জিন দিয়ে মাড়াই করছেন এসব ধান। মাড়াই শেষে অনেকে ধান বাড়িতে নিয়ে গেলেও খড়গুলো সড়কের ওপরেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছেন শুকানোর কাজে। এছাড়াও কেউবা আবার ভুট্টা শুকাচ্ছেন সড়কে। তবে অনেকেই লালশাক থেকে বীজ তৈরিতে লালশাক শুকাতে দিয়েছেন সড়কের ওপর। বৃষ্টির পানিতে ভিজে কোথাও কোথাও তা পচে দুর্গন্ধে পরিণত হয়েছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এসব ফসল শুকানোর পর সড়কের পাশেই স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রাক, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, আলগামন, নসিমন, পাখিভ্যান, মোটরসাইকেল, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহন। যানবাহন চালকরা বলছেন, সড়কজুড়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ করছেন কৃষকরা। সড়কের ওপর ধান মাড়াইয়ের কাজ করায় তারা যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালাতে নানা সমস্যায় পড়ছেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েই চলেছে। গাংনী উপজেলার মাইলমারী গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘সপ্তাহে ৩-৪ দিন মেহেরপুর মাছের বাজারে যেতে হয় আমাকে। এ বছরে লালশাক বিছানো সড়কে মাছের গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। তাছাড়া মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কে বিছানো লালশাকে পিছলে পড়ে আহতের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের ইউপি সদস্য প্রার্থী রেজাউল হক বলেন, ধান মাড়াই শেষে কৃষকরা তাঁদের ধানের অবশিষ্ট খড় সড়কে ফেলে রাখেন শুকানোর জন্য। বৃষ্টি হলে ওই খড় সড়কে কর্দমাক্ত হওয়ার পর সেগুলো অপসারণ করা হয় না। পরে পচে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে প্রায়ই দেখা যায়। তাছাড়া লালশাক শুকানো তো রয়েছেই। তবে এতে কৃষকদের কোনো দোষ নেই বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, কৃষকরা উপায়হীন হয়েই মূলত রাস্তাগুলোকে তাদের ফসল মাড়াইয়ের কাজে ব্যবহার করছেন। কারণ বৃষ্টিতে চারদিকে পানি আর কাঁদা। ফসল পচনরোধে বাধ্য হয়ে তারা পাকা সড়ক ব্যবহার করছেন। এছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।   আব্বাস আলী নামের এক ট্রাক্টর মালিক বলেন, সড়কের দুই পাশে খড়, ধান শুকানো, লালশাক শুকানো ও মাড়াইয়ের কারণে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এতে করে সড়কে ট্রাক্টর চালনায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। জ্যামে আটকা পড়লে অনেক সময় ধান অন্য জায়গায় সরিয়ে তারপর গাড়ি নিয়ে যেতে হয়। মোটরসাইকেল আরোহীরা অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, কৃষকরা সড়কে লালশাক শুকানো, বোরো ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর জন্যই বর্তমান সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা যদি সড়কে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ না করতেন, তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমে যেত। মোটরসাইকেল আরোহীরা কৃষকদের প্রতি সড়কে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। মেহেরপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সাঈদ বলেন, সড়ক দখল করে এ ধরণের কর্মকাণ্ড করা বেআইনি। তবে তিনি কোনো মন্তব্য না করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলার আহ্বান জানান। মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মুনসুর আলম খান বলেন, যারা সড়ক দখল করে ধান মাড়াই বা লালশাক শুকাতে রাস্তায় যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, তাদেরকে নিষেধ করা হচ্ছে। লালশাক শুকানোর জন্য কিছুটা শিথিল করা হচ্ছে কারণ চারিদিকে বৃষ্টির পানিতে কাঁদা থাকায় তাদের মাড়াই কাজ ব্যহত হচ্ছে। তবুও সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গায় মাড়াই হচ্ছে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)