ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় পারিবারিক কলহের জেরে নারগিছ বেগম (৪০) নামের এক নারীর আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পরিবারের সদস্যরা নারগিছ বেগমকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নারগিছ বেগম চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কেশবপুর গ্রামের ক্লাবপাড়ার ভ্যানচালক কুদ্দুস আলীর স্ত্রী ও দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়নের উজলপুর গ্রামের হায়দার মিয়ার মেয়ে।
নারগিছ বেগমের স্বামী কুদ্দুস আলী বলেন, ‘প্রতিদিনের ন্যায় সকালে আমি ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ি। দুপুরে জানতে পারি আমার স্ত্রী পারিবারিক কলোহের জেরে আমার মায়ের ওপর রাগ করে বাপের বাড়ি চলে গেছে। আমি মনে করি রাগ করে গেছে আবার চলে আসবে। কিন্তু দুপুর দুইটার দিকে আমার শ্যালক মোবাইলে জানায় নারগিছ বিষপান করেছে। এসময় আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন নারগিছকে উদ্ধার করে লোকনাথপুরে গ্রাম্য চিকিৎসক চাঁদ গোপালের চেম্বারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে নারগিছকে আবার আমার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় নারগিছ আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাপাতালে নিই। এসময় ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

নিহত নারগিছের মাতা নাজমা বেগম বলেন, `আমার মেয়ের দীর্ঘদিন ধরে ‘ওপর দৃষ্টির’ ভাব ছিল। দুপুরে হঠাৎ করেই সে স্বামীর বাড়ি থেকে আমাদের বাড়ি চলে আসে। এর কিছুক্ষণ পরেই সে বিষপান করে।`
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নারগিছ বলেন, ‘সন্ধ্যা সাতটার দিকে পরিবারের সদস্যরা ওই নারীকে জরুরি বিভাগে নেয়। পরিবারের সদস্যদের নিকট থেকে জানতে পারি তিনি দুপুর দুইটার দিকে বিষপান করেছিল। গ্রাম্য চিকিৎসকের নিকট থেকে তাকে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় পরে তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তবে জরুরি বিভাগে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। হাপসাতালে নেওয়ার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়।’
