নিজের ঘর অন্যকে দিয়ে ভাসছেন প্রশংসায় জমির উদ্দীন

আপলোড তারিখঃ 2022-02-16 ইং
নিজের ঘর অন্যকে দিয়ে ভাসছেন প্রশংসায় জমির উদ্দীন ছবির ক্যাপশন:

মিঠুন মাহমুদ:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ঘর ও জমি পেয়ে জমির উদ্দীন এখন নিজেই স্বাবলম্বী। নিজের বসবাসের ঘরটি এলাকার অন্য দরিদ্র অসহায় মানুষকে দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট ঘর ও জমির দলিল হস্তান্তর করে প্রশাংসায় ভাসছেন তিনি। জমির উদ্দিন বিশ্বাস (২৮) জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের মৃত খেদের বকসোর ছেলে। এক মেয়ে, স্ত্রী নিয়ে সংসার তাঁর।

জমির উদ্দিন বিশ্বাস পেশায় ছিলেন একজন দিনমজুর। সারা দিনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে কোনো রকমে চলছিল সংসার। তবে ভূমিহীন হওয়ায় ঠাঁই হয়েছে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া শাহাপুর গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে। এতে কিছুটা আর্থিক কষ্ট লাঘব হলেও স্বাচ্ছন্দ্য আসছিল না। তবে এবার মাথা গোজার ঠাঁই হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে কলা ক্রয় করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রয় করে প্রতিদিন আয় করছেন ৫ শ থেকে ১ হাজার টাকা। এতে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ফলে পরিবারে এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা। পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন ভালোই আছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শাহপুর গ্রামে ভূমিহীন পরিবারগুলোর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে একটি আদর্শ আশ্রয়ণ প্রকল্প। এ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার দেওয়া ঘর পান ভূমিহীনরা। প্রকল্পে রয়েছে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত মাঠ, পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষার্থে ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ, বসত-ভিটায় সবজি চাষ, বাড়তি আয়ের জন্য গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগী পালন করছেন সুবিধাভোগীরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর জমির উদ্দিন বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী আফরোজা খাতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার বসত-ঘর ও জমির দলিল জমা দিয়ে আসেন। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ন কবির, আন্দুলবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তারসহ জমির উদ্দিনের বাড়িতে হাজির হন এবং তাঁর সাথে কথা বলেন।

এসময় জমির উদ্দিন বলেন, ‘এক সময় আমার কিছুই ছিল না, নিজের মাথা গোজার ঠাঁই ছিল না, ছিল না এক শতক জমি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মাথা গোজার জন্য ঘর ও জমি দিয়েছিল। সেখানে থেকেই আমি কলার ব্যবসা শুরু করি। আজ আমি স্বাবলম্বী। এখন আমি নিজে অর্থ আয় করে জমি কিনেছি এবং ঘরও তৈরি করেছি। আমার তো এখন নিজের মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে। সমাজে আমি ছাড়া এখনও অনেক দরিদ্র, ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তি আছে, এই ঘরটা আমি তাদের দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আমাকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়েছে। তাই আমি স্বাবলম্বী হয়ে জমি ও ঘর তৈরি করে ফেলেছি। এখন এই ঘর ও জমি আমার আর প্রয়োজন নেই। তাই আমি চাই, এই ঘরটা অন্য কোনো দরিদ্র মানুষ পাক।’

আশ্রয়ন প্রকল্পের অন্যান্য বাসিন্দারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্রয়স্থল দিয়েছেন। আগে আমাদের খুব খারাপ দিন গেছে। এখন আমাদের থাকার জায়গা হয়েছে, সেই সঙ্গে সংসারের স্বচ্ছলতার জন্য আয়ের সুযোগও হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।’

আন্দুলবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার বলেন, জমির উদ্দিন একজন দিনমজুর। তাঁর ঘর-বাড়ি, জমি-জায়গা কিছুই ছিল না। যার কারণে মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ঘর ও জমি দিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন। এ জন্য তিনি তাঁর পরিশ্রমের টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন এবং ঘর করে অন্য স্থানে চলে গেছেন। তাই তিনি নিজ উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট বাড়ি ও জমির কাগজ হস্তান্তর করেছের। তাঁর এই মহতী উদ্যোগটা অনেক ভালো।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম রাসেল বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি স্বপ্ন, দেশে যাতে কেউ গৃহহীন না থাকে, সে জন্য তিনি ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তিদের জমি এবং ঘর প্রদান করেছেন। সে ধারাবাহিকতায় জীবননগর উপজেলার শাহপুর গ্রামের দিনমজুর জমির উদ্দিনকে একটি ঘর দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘরে বসবাস করে নিজে পরিশ্রম করে আজ তিনি স্বাবলম্বী। এ জন্য তিনি নিজ নামে অন্য স্থানে জমি কিনে ঘর করে বসবাস করায় নিজে লিখিতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া জমি ও ঘর হস্তান্তর করেন। এবং অন্য দরিদ্র ব্যক্তিকে দেওয়ার জন্য বলেন। তাঁর এই মহতী উদ্যোগের জন্য জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)