শিশু আবু হুরায়ার দাফন সম্পন্ন, ঘাতক মোমিন কারাগারে

আপলোড তারিখঃ 2022-02-15 ইং
শিশু আবু হুরায়ার দাফন সম্পন্ন, ঘাতক মোমিন কারাগারে ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের প্রেসবিফ্রিং, হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিার দাবিতে মানববন্ধননিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তালতলা এলাকার নিখোঁজ শিশু আবু হুরায়রা হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। দুই বছর পূর্বে এক ঈদের রাতে উচ্চশব্দে গান বাজানোয় সাউন্ড বক্স ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে শিশু আবু হুরায়রাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রেসবিফিংয়ে পুলিশ জানায়। পুলিশ আরো জানায়, গ্রেপ্তার হওয়ার পর হত্যাকারী আব্দুল মোমিনের স্বীকারাক্তিতেই গত রোববার গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তালতলা এলাকার একটি কবরস্থান থেকে শিশু আবু হুরায়রার বস্তাবন্দি হাত-মুখ বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়। এরপর গতকাল সোমবার দুপুর দুইটায় তিন সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল টিম আবু হুরাইয়রার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। এদিকে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে আবু হুরায়রা হত্যা ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসীসহ আবু হুরায়রার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
হত্যা রহস্য উন্মোচনের বিষয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবু তারেক বলেন, ‘আবু হুরায়রা নিখোঁজের পর ২৫ জানুয়ারি বাবা আব্দুল বারেক বাদী হয়ে প্রাইভেট শিক্ষক রঞ্জু, তাঁর ভাই মঞ্জু, মা মহিমাসহ পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। ওই দিনই রঞ্জু ও মঞ্জুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে তাঁদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এরপর এই ছাত্রের খোঁজে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পর একই এলাকার এক প্রতিবেশির বাড়ি থেকে একটি সিম কার্ড চুরি করেন খুনি মোমিন। সেই সিম কার্ড দিয়ে মোমিনের এক সহযোগী আবু হুরাইরার বাবা আব্দুল বারেকের নিকট ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। এরপর টাকা চেয়ে পাঠানো হয় একটি চিরকুট। পুলিশ আব্দুল বারেকের মোবাইল নাম্বারের কল লিস্টের সূত্রে ধরে তথ্য-প্রযুক্তি কাজে লাগায়। এরপর বিভিন্ন সূত্র ধরে গত রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নিজ এলাকা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোমিনকে আটক করা হয়। প্রথমে দিকে মোমিন মুখ না খুললেও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পরবর্তীতে রাতেই সে খুনের ঘটনার কথা স্বীকার করে। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তালতলা শশ্বানের ভেতরের একটি পরিত্যক্ত কবরস্থানের মধ্যে থেকে মাটি চাপা দেওয়া ও হাত-পা বাধা অবস্থায় আবু হুরায়রার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতে অর্ধগলিত মরদেহটির ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তারেক আরো বলেন, ‘হত্যা ঘটনায় আব্দুল মোমেন একাই অংশ নেন। পরবর্তীতে অন্য একজনের সহযোগিতায় আব্দুল বারেকের নিকট অপহরণের টাকা দাবি করেন। আমরা তার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছি।’
শিশু আবু হুরায়রার মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পরড়লে গতকাল সকালে থকে তালতলা গ্রামবাসীরা ভাঙচুর চালায় হত্যাকারী আব্দুল মোমিনের বাড়িতে। এসময় তারা গাছের সঙ্গে বেধে হত্যাকারী মোমিনের মাকে গাছের সঙ্গে বেধে মারধর করে বলেও জানা যায়। ঘটনার খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় ও মোমিনের মাকে উদ্ধার করে থানা হেফজতে নেয়।
এদিকে, গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা ভিজে সরকারি বিদ্যালয়ের সামনে ও শহরের হাসান চত্বর মোড়ে মানববন্ধন করাসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে আবু হুরায়য়ার সহপাঠিরাসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা আবু হুরাইয়ার হত্যা ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
অপরদিকে, গতকাল দুপুর দুইটার দিকে তিন সদস্য বিশিষ্ট ময়নাতদন্ত মেডিকেল টিম গঠন করে আবু হুরায়রার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সোহানা আহমেদ এই মেডিকেল বোর্ডে সভাপতি ছিলেন। আর অন্য সদস্যরা হলেন সদর হাসপাতালের শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলন ও মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন।
ময়নাতদন্ত শেষে বেলা তিনটার দিকে আবু হুরাইরায় অর্ধগলিত মরদেহ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করে পুলিশ। বিকেলেই আবু হুরায়রার লাশের জানাজা শেষে তালতলা কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল তালতলার আব্দুল বারেকের ছেলে আবু হুরায়রা। ঘটনার দিনেই তাকে খরগোশের লোভ দেখিয়ে পাশ্ববর্তী একটি কবরস্থানে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আব্দুল মোমিন। জানা যায়, পেশায় রাজমিস্ত্রীর সহযোগী মোমিন। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর থানার তালতলা এলাকার শহীদুলের ছেলে। গত ২ বছর আগে এক ঈদের রাতে উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্স বাজাচ্ছিলেন মোমেনসহ তার বন্ধুরা। এতে ক্ষিপ্ত হন আবু হুরায়রার বাবা আব্দুল বারেক। রাগে তিনি সেই সাউন্ডবক্সের টেবিলে লাথি মারেন। এতে সাউন্ড বক্সটির টেবিল ভেঙে যায়। অনুষ্ঠানও পণ্ড হয়ে যায়। এতে মোমিনের তিন হাজার টাকা ক্ষতি হয়। এই ঘটনায় মোমিন মনে মনে ক্ষিপ্ত হন এবং 'প্রতিশোধ' নিতে সুযোগ খুঁজতে থাকেন। আর এজন্য তিনি টার্গেট করেন আব্দুল বারেকের ছেলে আবু হুরায়রাকে। গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে আবু হুরায়রা খেলতে বের হয়। এসময় মোমিন তাকে একা পেয়ে খরগোশের লোভ দেখায়। আবু হুরায়রাকে খরগোশ দিবে বলে তালতলা সরকারি কবরস্থানে নিয়ে যান। এরপর হাত-পা বেঁধে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর প্রথমে লাশ রেখে চলে যান। পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে আবারো এসে লাশ পুঁতে রাখেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দেহমূলকভাবে মোমিনকে গত ১৩ তারিখ তালতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাসে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে তার দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে নিখোঁজ আবু হুরায়রার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)