ছবির ক্যাপশন:
তিতুদহ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীকের সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের ৯ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাতে তিতুদহ ইউনিয়নের ৬২ আড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা ও দর্শনা থানা পুলিশ আহতদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতদের মধ্যে স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) মিজানুর রহমান টিপুর কর্মী-সমর্থকেরা হলেন- ৬২ আড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৬০), একই এলাকার আহাদ আলীর স্ত্রী রাফিয়া বেগম, মৃত রহমানের ছেলে মহেদ আলী, আহাদের ছেলে শিমুল হোসেন, জিয়াউর রহমানের স্ত্রী মাছুরা খাতুন, জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মমতাজ ও জিয়ারুলের স্ত্রী আশানুর রহমান। অপরদিকে, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শুকুর আলীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আহতরা হলেন- তিতুদহ গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে হোসেন মিয়া (৪৫) ও একই এলাকার আছির উদ্দীনের ছেলে শামীম (২২)। এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ দুজনতে আটক করে দর্শনা থানা পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় হামলা কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র। এছাড়াও একটি আলমসাধু ও দুইট মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
মিজানুর রহমান টিপুর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে আহতদের পরিবারের সদস্যরা জানায়, ‘গতকাল রাতে তারা রাতের খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এসময় ভোট কেন্দ্রীক পূর্ব বিরোধের জেরে বিজয়ী নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা আলমসাধু ও দুটি মোটরসাইকেলযোগে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে বাধা দিলে তাদেরকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় আমাদের মোট সাতজন নারী-পুরুষ জখম হয়েছে।
তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শুকুর আলী বলেন, ‘আমার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে হোসেন ও শামীম জাহাঙ্গীরের পরিবারের নিকট কিছু টাকা পেত। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সেই টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও টাকা না দেওয়ায় আজ (গতকাল ৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পরে টাকা নেওয়ার জন্য ৬২ আড়িয়াতে তাদের বাড়িতে যায়। এসময় জাহাঙ্গীর পক্ষের লোকজন হোসেন ও শামীমকে মেরে গুরুতরভাবে আহত করে। তবে এ ঘটনায় আমরা কোনো মামলা করতে চাই না। মামলা করলে এতে দুইপক্ষের মধ্যে শত্রুতা বাড়বে। এনিয়ে পরবর্তীতে নতুন করে যেন কোনো ঝামেলা না হয়, সেই জন্য বিষয়টি দর্শনা থানা পুলিশের সাহায্যে মিমাংসা করে দেওয়া হবে।’
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান টিপু বলেন, ‘শুকুর আলীর বেশকিছু কর্মী-সমর্থক আলমসাধুযোগে আমার কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের বাড়িতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। আহতরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ধরণের ন্যাক্কারজনক হামলার তিব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে আমি থানা-পুলিশের সহযোগিতা চাই।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহাবুব-এ খোদা বলেন, ‘রাত সাড়ে আটটার পর থেকে একই ঘটনায় ৬ জন জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। আহতদের মধ্যে দুজনের জখম গুরুতর। আহতদের প্রত্যোককেই জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। জখম গুরুতর হওয়ায় দুজনকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হতে পারে।’
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম লুৎফুল কবীর বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী বিরোধে দর্শনা থানাধীন ৬২ বাড়িয়া গ্রামে দুইপক্ষের মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এসময় উভয়পক্ষের আহত ৬ জনকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটকও করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। তারপরেও ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এছাড়া যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শুকুর আলী ৫ হাজার ৫৫৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (আ.লীগের বিদ্রোহী) মিজানুর রহমান টিপু (আনারস) পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
