গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে তীব্র শীত অনুভূত, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ!

আপলোড তারিখঃ 2022-02-04 ইং
গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে তীব্র শীত অনুভূত, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ! ছবির ক্যাপশন:

সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির সাথে হিমেল বাতাস যোগ হওয়ায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। হঠাৎ বৃষ্টির ঘনঘটায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে মেঘের গর্জনের সাথে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি চলছে। বেলা বাড়লেও রোদের দেখা মেলেনি। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। শীত ও বৃষ্টির অসহনীয় মাত্রায় দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। সকালে কাজের সন্ধানে বের হওয়া নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষ পড়েছেন সব থেকে বেশি বিপাকে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ। সকাল ৯টার আগে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৫-৬ কিলোমিটার। গতকাল সারাদিন বৃষ্টির হবে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছিল জেলা আবহাওয়া অফিস। সেই পূর্বাভাস অনুযায়ী গতকাল দিনভর বৃষ্টিও হয়েছে। যার কারণে ছুটির এই দিনে শীতের সকালে সড়কে তুলনামূলক কম ছিল মানুষের চলাফেরা। একটানা গুড়িগুড়ি বৃষ্টির কারণে খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হয়নি। প্রায় জনশূন্য ছিল জেলার হাট-বাজারগুলো। বাড়ি থেকে কাজের জন্য বের হওয়া অনেকেই বৃষ্টিতে আটকা পড়েন রাস্তায়। তাদের অনেকেই আশ্রয় নেন রাস্তার পাশের যাত্রী ছাউনি ও দোকানে। গত কয়েকদিনের তুলনায় তাপমাত্রা বাড়লেও ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে দুর্ভোগ।

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ পার্ক লেনের বাসিন্দা চাকরিজীবী রেবেকা সুলতানা ভিভা বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে, শুক্রবার ভোর থেকেও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। যেটা চলে দিনভর। সেই সাথে মাঝেমাঝে দমকা হাওয়াও ছিল। সূর্য নেই, তাই বৃষ্টিতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে অনেক। এতে আমাদের স্বাভাবিক সব কাজ-কর্ম ব্যাহত হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী সুমন পারভেজ খান বলেন, ‘ভোর থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সাথে হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতাও বেশি মনে হচ্ছে। দরকার ছাড়া বাড়ি থেকে কেউ বের হচ্ছেন না। তাই সকাল থেকে বিক্রিও নেই। একজন অটোচালক বলেন, দিনভর বৃষ্টির ফলে লোকজন না থাকায় চুপচাপ বসেই দিনপার করছি। এজন নির্মাণ শ্রমিক জানান, ‘আজ সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় কোনো কাজ করতে পারিনি।’
একজন ভ্যানচালক বলেন, খুব সকালে বাড়ি থেকে যখন বের হই, তখন বৃষ্টি ছিল না। বাজারে এসেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে আমরা যাত্রী পাচ্ছি না। তাই আয়-রোজগারও হচ্ছে না। আকাশে মেঘ আছে, বারবার মেঘ ডাকছেও। যেকারণে ভ্যানে উঠছে না কোনো যাত্রী।


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল চত্বর এলাকার শিশুদের খেলনা ও ঝালমুড়ি বিক্রেতা (হকার) শুকুর আলী বলেন, আমি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি ও শিশুদের খেলনা বিক্রি করি। কিন্তু বৃষ্টি আসায় হাসপাতালের বারান্দার ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে আছি। আসার পর এই পর্যন্ত ৩০ টাকার ঝালমুড়ি বিক্রি করেছি। কিন্তু এখন প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, কোনো বিক্রি নেই। বৃষ্টির কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ না থাকায় আমার বিক্রিও নেই।


চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ বলেন, ১২ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় ১৪.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবারেও আকাশ মেঘলা থাকবে। মেঘ কেটে গেলে জেলার উপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
এদিকে, অসময়ের গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে মাঘ মাসের হাড়কাঁপানো শীত জেঁকে বসেছে। আরো দু’-একদিন এ রকম আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানা গেছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)