ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়নত বেড়েই চলেছে। করোনা প্রজাতির সপ্তম ভাইরাস সার্স-কভ-২ এর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টসহ অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টে পর্যুদস্তু বৈশ্বিক জনজীবন ও অর্থনীতি যখন জাগতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই নতুন ভ্যারিয়েন্ট অমিক্রন দিগন্তে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এতদিন কোভিড-১৯ এর চেয়ে করোনার নামে বৈশ্বিক মহামারী বেশি পরিচিতি পেয়েছে। তবে অমিক্রন আবার এ পরিচিতিকে কিছুটা দুর্বোধ্য করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিট সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ দিনে অর্থাৎ চলতি মাসে হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৮০ জন নারী-পুরুষ। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত ৩৫ জন এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৫ জন। এসময় করোনা আক্রান্ত কারও মৃত্যু না হলেও হাসপাতালের ইয়োলো জোন চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপসর্গ নিয়ে এক নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের বড়বাজারপাড়ার নিতা আগরওয়ালা (৬২), পৌর এলাকার তালতলাপাড়ার হরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস (৭৫), সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের শুকুর আলী (৭৫), দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের বজলুর রশিদ ৭২ ও আলমডাঙ্গা উপজেলার মোচাইনগর গ্রামের আবুল কালাম (৭৬)।
এদিকে গতকাল চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ১০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্ত সাত জনের মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলর ১ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৭ জন ও জীবননগর উপজেলার ২ জন রয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের প্রত্যেকেই নিজ বাড়িতে হোম আইসোলেশনে আছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মোট ২৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে রেড জোনে চিকিৎসাধীণ রয়েছেন ১৮ জন। রেড জোনে চিকিৎসাধীন এই ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জনই দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে প্রবেশের সময় র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়াও করোনা উপসর্গ নিয়ে ইয়োলো জোন চিকিৎসাধীণ রয়েছেন আরও ৯ জন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, ‘হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। করোনা ইউনিটে সর্ব্বোক্ষণিক একজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও ওয়ার্ডবয় দায়ীত্বরত অবস্থায় থাকছেন। বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমানে অক্সিজেন সাপ্লাইও রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের নতুন ঢেউ আসার সম্ভাবনার জন্য আমাদের সকলকেই প্রস্তুত ও সতর্ক থাককে হবে। অবশ্যয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এই ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ঠেকাতে যেসব শিক্ষা আমরা ইতোমধ্যে পেয়েছি নতুন এই ভ্যারিয়ন্ট মোকাবেলায় তা কাজে লাগাতে হবে।’
