ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর উপজেলার বেনীপুর বাওড়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে নৈশপ্রহরী বাদল হোসেন গোলদারের (৩২) মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্যের জট বেধেছে। তিনি উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গঙ্গাদাসপুর গ্রামের শনু গোলদারের ছেলে এবং দুই খুনের মামলার আসামি। গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, গতকাল রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিহত বাদল হোসেন গোলদারের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে বিকেল চারটার দিকে পরিবারের কাছে তাঁর লাশ হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে বেনীপুর বাওড়ের ইজারাদাররা বাওড় পাহারা দেওয়ার জন্য একটি টিনের নৌকায় ইঞ্জিন লাগায়। ওই নৌকা নিয়েই গঙ্গাদাশপুর গ্রামের বাদল, জীবননগরের সাজু ও মাসুম পাহারা দিতেন। গত শনিবারও তাঁরা তিনজন একই সাথে ওই ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে নৌকার গতি বেড়ে যাওয়ায় বাদল নৌকা ঘুরাতে যেয়ে পানির মধ্যে ডুবে যায়। স্থানীরা অভিযোগ করেন, যে নৌকায় ইঞ্জিন লাগিয়েছে, এটাতে যদি একজনও চড়ে, তাও ডুবে যাবে। তাহলে এরা কীভাবে এই নৌকায় ইঞ্জিন লাগালো এবং কার অনুমতি নিয়ে এই নৌকায় ইঞ্জিন লাগালো। যে ব্যক্তি মারা গিয়েছে, এর দায়ভার কে নেবে। যদি কাটের তৈরি নৌকাতে এই ইঞ্জিন লাগাতো, তাহলে এ দুর্ঘটনা ঘটত না। এই টিনের নৌকায় ইঞ্জিন লাগানোই কাল হয়ে গেল। যার কারণে অকালে ঝরে গেল নৈশপ্রহরী বাদলের প্রাণ। বাওড়ের মালিকদের খাম-খেয়ালীপনায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বেনীপুর গ্রামের পুণ হালদার বলেন, ‘শনিবার রাতে আমরা সবাই টিভিতে খেলা দেখছিলাম। এসময় বাওড়ের মধ্যে থেকে একটি চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। শব্দ শুনে আমরা বাওড়ে লাইট মারতেই দেখি দুইজন পানির মধ্যে পড়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছে। আমি নৌকা নিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে বাওড়ের পাড়ে নিয়ে আসি। পরে তাঁদের মুখ থেকে জানতে পারি তাঁদের সাথে আরও একজন ছিল, সে পানির নিচে ডুবে গেছে। এসময় বাওড়ের জেলেরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে বাওড়ের মধ্যে জাল টেনে তাঁর লাশ উদ্ধার করে। এবং আহত দুইজনকে চিকিৎসার জন্য জীবননগর হাসপাতালে নিয়ে যায়।’
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত বাদল গোলদারের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গঙ্গাদাশপুর গ্রামের বহুল আলোচিত এক দিনে ডাবল মার্ডারের মামলা চলমান রয়েছে। যার জেআর মামলা নম্বর ৫/১৬ এবং জজ কোর্টের সেশন মামলা নম্বর ৪৪৭/১৯।
বেনীপুর বাওড়ের সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো দিন এই ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালাইনি। যে দিন থেকে এই নৌকা তৈরি করা হয়েছে, সেই দিন থেকেই বাদল ও সাজু চালাতো। প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার রাত ৯টার দিকে নৈশপ্রহরী বাদল হোসেন, সাজু ও মাসুম স্যালোইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে বেনীপুর বাঁওড় পাহারা দিচ্ছিল। তারা বিলের মাঝখানে পৌঁছালে হঠাৎ করেই নৌকা উল্টে যায়। এসময় নৌকায় থাকা সাজু ও মাসুম চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন তাদের দুইজনকে উদ্ধার করলেও বাদল হোসেন পানির মধ্যে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে বাওড়ের জেলে ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বাওড়ে জাল টানায় অংশ নিয়ে ২ ঘণ্টা পর বাদল হোসেনের মরদেহ পানির মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হয়।’
৪ নম্বর সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাবুল হক মিল্টন বলেন, ‘বেনীপুর বাওড়ের নৈশপ্রহরী বাদলের মৃত্যর কথা শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে স্থানীয়দের সাথে বলে জানতে পারি, বাদল, সাজু ও মাসুম তিনজন ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে পাহারা দেওয়ার সময় নৌকা উল্টে তার মৃত্যু হয়েছে এবং তার সাথে থাকা বাকি দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে।’
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল খালেক বলেন, নিহত বাদল হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা আছে। বেনীপুর বাওড়ে যে ঘটনা ঘটেছে, এ ঘটনায় জীবননগর থানায় একটা অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিহত বাদল হোসেন গোলদারের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে বিকেল চারটার দিকে পরিবারের কাছে তাঁর লাশ হস্তান্তর করা হয়।
