ছবির ক্যাপশন:
জীবননগরে ঘরজামাইয়ের কাণ্ড, স্ত্রী-সন্তানকে রেখে শ্বশুরের গরু বিক্রির নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন। গত সোমবার সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজে পাচ্ছেন না। ঘটনাটি জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের সদরপাড়া গ্রামে ঘটেছে। নিখোঁজ ঘরজামাই ঝিনাইদহ জেলার ভিটশ্বর গ্রামের মো. ইজারত আলীর ছেলে মো. মিলন (৩৫)। এ ঘটনায় শ্বশুর মো. আয়ুব আলী গত মঙ্গলবার জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে শ্বশুর মো. আয়ুব আলী জানান, ‘আমার মেয়ে মোছা. রুবিনা খাতুনের (২৫) সাথে ৮ বছর আগে ঝিনাইদহ জেলার ভিটশ্বর গ্রামের ইজারত আলীর ছেলে মো. মিলনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ওখানে আমার মেয়েকে তারা নির্যাতন করত, একপর্যায়ে আমার মেয়েকে সেখান থেকে আমার নিজ বাড়ি সদর পাড়ায় নিয়ে আসি। মেয়ের একটি পাঁচ বছরের মিলনা খাতুন নামের এক কন্যা আছে। বিয়ের বেশ কয়েক মাস পরে আমার জামাই আমার এখানে একেবারে ঝিনাইদহ থেকে গুছিয়ে চলে আসে। এখানে সে প্রায় ৭ বছর রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার শিয়ালমারী গরুর হাটে একটা গরু বিক্রি করে ৮৩ হাজার ৫ শ টাকা আমার মেয়ের কাছে রেখেছিলাম। সেই টাকা এবং কিছু স্বর্ণের গহনা নিয়ে আমার মেয়ে এবং নাতনিকে রেখে গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ রয়েছে। আমরা তার পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেছি, তারা বলছে সেখানে সে যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে পরে জানতে পারি প্রতারক মিলন হাসাদাহ ইউনিয়নের পুরন্দরপুর গ্রামের বারেক আলীর মেয়ে ঝুমুরকে (১৭) নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমি গরিব মানুষ, আমার যে টাকা নিয়ে গেছে, এই গুলোই আমার সম্পদ আর কিছু নেই। আমরা তার মোবাইল ফোনে অনেকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তার ফোন বন্ধ রয়েছে।’
ছেলের বড় ভাই উজ্বল হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই অনেক আগেই তার শ্বশুর বাড়ি চলে গেছে। তার সাথে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই এবং সেও কোনো দিন আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। তাই সে কোথায় আছে বা কি করছে এ বিষয় আমরা কিছুই বলতে পারব না।’
সীমান্ত ইউপি সদস্য মো. আব্দুস সালাম তেঁতুল বলেন, ‘মেয়ের বাবা একেবারে দরিদ্র মানুষ। আমি ঘটনাটি শোনার পর তাদের বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি, তার জামাই গরু বিক্রির টাকা নিয়ে চলে গেছে। আমি ওই জামাইয়ের সাথে যোগাযোগের জন্য চেষ্টা করলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।’
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল খালেক বলেন, সদর পাড়া গ্রামে শ্বশুরের টাকা নিয়ে জামাই উধাও হয়েছে এমন একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
