ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় শ্বাসরোধ করে সুফিয়া খাতুন (৩২) নামের দুই সন্তানের জননীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের জুড়ানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে দামুড়হুদা থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহত সুফিয়া বেগম জুড়ানপুর গ্রামের মাদ্রাসাপাড়ার জাকির হোসেনের স্ত্রী ও একই গ্রামের বড় মসজিদপাড়ার মৃত ইসলাম মল্লিকের মেয়ে।
নিহত সুফিয়ার বড় ভাই আব্দুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘১৬ বছর পূর্বে আমার বোনের সঙ্গে একই গ্রামের জাকিরের বিবাহ হয়। সাংসারিক জীবনে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় জাকির আমার বোনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। গত পাঁচ-ছয় মাস পূর্বে জাকির অন্য একটি নারীর সঙ্গে বিবাহ করে। এরপর থেকে সে আমার বোনের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। জাকির অন্য নারীর সঙ্গে বিবাহ করলে আমরা ওর বিরদ্ধে একটি মামলাও করেছিলাম। এরপর থেকে জাকিরের সঙ্গে আমাদের কারো কথা হতো না। জাকিরই আমার বোনকে হত্যা করেছে। আমি তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করবো।
তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে আমি ও আমার মা সুফিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যায়। এসময় সুফিয়ার স্বামী জাকির আমাদেরকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। আমরা তারপর বাড়িতে চলে আসি। পরে রাত ১২টার দিকেও মোবাইলে সুফিয়ার সঙ্গে আমাদের কথা হয়। কিন্তু রাত তিনটার দিকে খবর পাই সুফিয়া মারা গেছে।’
জুড়ানপুর ইউপি সদস্য ও একই এলাকার বাসিন্দা মকলেছুর রহমান বলেন, ‘২০০৪ সালে সুফিয়া খাতুনের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত ইসলাম আলির ছেলের বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলনে সুফিয়া। তাঁর স্বামী জাকির হোসেন চিকিৎসাও করাচ্ছিলনে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। অসুস্থতার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, নাকি হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত বলেতে পারবো না।’
এদিকে, গতকাল দুপুরের পর সদর হাপসাতাল মর্গে নিহত সুফিয়ার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দুই সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্তটি সম্পন্ন করা হয়। সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সোহানা আহমেদের সভাপতিত্বে মেডিকেল বোর্ডে সদস্য ছিলেন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন। বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘নিহত সুফিয়ার পরিবারের সদস্যদের এই মৃত্যুর বিষয়ে অভিযোগ থাকায় লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুফিয়ার স্বামী ও ছেলেকে থানায় নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদশেষে তাদেরকে পরিবারে জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। নিহত সুফিয়ার ছেলেসহ স্থানীয়রা জানায় সুফিয়া দীর্ঘদীন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার রাতেও সুফিয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্যও ভ্যানে তোলেন জাকির হোসেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’
