ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় ফিল্মি স্টাইলে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে পালাক্রমে সঙ্গবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার রাতে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নীলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, টানা তিনঘণ্টা সঙ্গবদ্ধ ধর্ষণের ফলে গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষকেরাই মধ্যরাতে তাঁকে বাড়ির সামনে রেখে যায়। ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ লোকলজ্জার ভয়ে দুইদিন চুপ থাকলেও গত সোমবার চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। মামলার পরেই সোমবার রাতেই সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীনের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই ধর্ষককে গ্রেপ্তারও করে। তবে বিল্লাল হোসেন নামের অপর এক অভিযুক্ত ধর্ষক এখনো পলাতক রয়েছেন। তবে তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই ধর্ষক হলেন- চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রুবেল হোসেন (৩২) ও নাজিম হোসেন (৩০)।
মামলার সূত্রে পুলিশ জানায়, গত শনিবার খেজুরের গুড় কিনতে জনৈক আব্দুল আলীমের বাড়ি যান ওই গৃহবধূ। রাত ৮টার দিকে ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যানে করে বাড়ি ফেরার সময় তিনজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে পাখিভ্যানের গতিরোধ করে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় ভ্যানচালক তাদের বাঁধা দিলে তাকেও মারধর করে অভিযুক্তরা। পরে তারা গৃহবধূকে পৌর এলাকার বুজরুক গড়গড়ী মাদারতলা রোড সংলগ্ন ইটভাটার পার্শ্ববর্র্তী আমবাগানে নিয়ে দলবদ্ধভাবে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর ওই গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে ধর্ষকরা তাকে তার বাড়ির সামণে রেখে যায়। এ ঘটনার পর লোকলজ্জার ভয়ে ওই গৃহবধূ দুইদিন চুপ থাকার পর গত সোমবার রাতে তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও বিল্লাল হোসেন নামে অপর এক আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন সময়ের সমীকরণকে বলেন, ‘লোকলজ্জার ভয়ে ওই গৃহবধূ দুইদিন বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে সোমবার রাতে তিনি থানায় এসে তিনজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন। মামলার পর রাতেই এজাহারভুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার আরেক আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে।’
ওসি আরও জানান, ‘ওই গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ (গতকাল) মঙ্গলবার সকালে জেলা সদরের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে নিয়ে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।’
