ছবির ক্যাপশন:
রাত পোহালে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সারা দেশের ১ হাজার ৭টি ইউপির সঙ্গে আলমডাঙ্গার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে কাল। রোববার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। ইতঃমধ্যে গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণাও শেষ হয়েছে। ভোট নেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
স্থানীয় নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি এ নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান পদে দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। একই দলের স্বতন্ত্রভাবে মাঠে রয়েছেন একাধিক প্রার্থী। সবাই প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নন। এর কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ক্ষমতার লড়াই।
১৩টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা প্রার্থী ১৪২ জন ও মেম্বার প্রার্থী ৪৪৮ জন অংশগ্রহণ করে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এর মাধ্যমে খাদিমপুর ইউনিয়নের মেম্বার প্রার্থী সাজাপ্রাপ্ত ও গাংনী ইউনিয়নের মেম্বার প্রার্থী অপ্রাপ্ত বয়স হওয়ায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
১১ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ১৩টি ইউনিয়নে মোট ৬৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে। তাদের মধ্যে ভাঙবাড়িয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী হলো- দেলোয়ার হোসেন, গাংনী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের ও খাদিমপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইদুর রহমান ।
এছাড়া, সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৪৪৭ জন। তাদের মধ্যে ১৫ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। গাংনী ইউনিয়নে সাধারন সদস্য ৩ জন, কুমারী ইউনিয়নে সাধারন সদস্য ২ জন, খাসকররা ইউনিয়নে সাধারন সদস্য ১ জন, জেহালায় সাধারন সদস্য ২ জন, জামজামি সাধারন সদস্য ১ জন, কালিদাসপুর সাধারন সদস্য ১জন, হারদী ইউনিয়নে সাধারন সদস্য ২ জন ও চিৎলা ইউনিয়নে সাধারন সদস্য ৩ জন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, শেষ সময়ের প্রচারণায় ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রার্থীরাসহ তাদের কর্মী-সমর্থকরা। হৈ-হুল্লোড়, মিছিল-স্লোগান আর প্রচার মাইকের আওয়াজে শেষ মুহূর্তে জমে ওঠে প্রচারণা। শুক্রবার বিভিন্ন ইউনিয়নের দলীয় প্রার্থীদের গণসংযোগ করেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা। ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাড়াও ব্যস্ত সময় পার করছেন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর, সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী। বসে নেই তাদের পক্ষে বিপক্ষে থাকা কর্মী-সমর্থকরা।
এদিকে, ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কর্মকর্তারা। ভোট গ্রহণের কক্ষ থেকে শুরু করে প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাসহ সার্বিক বিষয়ে সজাগ রয়েছে ইসি।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এজিএম মোস্তফা ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা চাই একটা সুষ্ঠু নির্বাচন। এ জন্য বৃহৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবাই আমাদের সহযোগিতা করবে।’ তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট নেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন। আজ কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে ব্যালট পেপারসহ সব ধরনের নির্বাচনী সামগ্রী। শঙ্কা ছাড়াই ভোটারদের কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ইউপি নির্বাচন ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। ভোটারদের নিরাপত্তাসহ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নেওয়ার জন্য পুলিশের সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। এছাড়া ভোটের দিন ও ভোট পরবর্তী সময়ে তারা সার্বিক নিরাপত্তায় থাকবেন।
