ছবির ক্যাপশন:
ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত-সংঘর্ষ, খুনোখুনি থামছেই না তৃণমূলে। কাছাকাছি সময়ে দুই ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে অস্থিরতা বাড়ছে তৃণমূল আওয়ামী লীগে। প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ এখন আওয়ামী লীগ। ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষে প্রায় প্রতিদিনই ঝরছে রক্ত। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বারবার হুঁশিয়ারি এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিলেও নিজেদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ ক্রমেই প্রকট আকার ধারণ করায় ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে গলদঘর্ম অবস্থা ক্ষমতাসীন দলটির। নিজ দলের নৌকার প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সংঘাত ও হতাহতের বেশিরভাগ ঘটনা ঘটছে আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী দমনে দুই রকম কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ। জোর করে বিদ্রোহী প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিলে সে ক্ষেত্রে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হতে পারে। এটি চায় না আওয়ামী লীগ। আবার বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় প্রতিদিনই তৃণমূলে সংঘাত-সংঘর্ষ ও রক্ত ঝরছে। এসব ঘটনা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটিকে। নির্বাচনী দ্বন্দ্ব সংঘাতে রূপ নেয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি দলগতভাবেও কঠোর এ্যাকশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদদাতা, সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িতদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মতোও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।
দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থী দমনে দুই ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতারা। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে কোথাও কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছাড় দেয়া হচ্ছে। দলীয় প্রতীক নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে না গেলেও অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলটির নেতারা। যে সব এলাকায় বিএনপি প্রার্থীদের অবস্থান ভাল বা আওয়ামী লীগের জন্য বৈরী আসন- সে সব জায়গা চিহ্নিত করে সে সব এলাকার ইউপিতে দলের বিদ্রোহী র্প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। কিন্তু, নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ ও প্রাণহানীর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ-উৎকন্ঠার সৃষ্টি করেছে কেন্দ্রীয় নেতাদের। তৃণমূল নেতারাও এর সমাধানের পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। মনোনয়নের ক্ষেত্রে জেলা-থানার নেতাদের অনৈতিক হস্তক্ষেপ, অর্থ বা নিজস্ব বলয় সৃষ্টিতে ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত-অজনপ্রিয় এবং নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ।
এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একাধিক অনুষ্ঠানে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে যারা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন, নিজেদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছেন- তাদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ও তাদের মদদদাতা, উস্কানীদাতা নেতা ও জনপ্রতিনিধিরাও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার সম্মুখীন হবেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ও তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে দলীয় প্রধানের নির্দেশে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। অপকর্ম করলে কেউ রেহাই পাবেন না, শাস্তি তাদের পেতেই হবে।
