বাজারে আগুনে পুড়ছে ক্রেতা, নেই পদক্ষেপ!

আপলোড তারিখঃ 2021-10-18 ইং
বাজারে আগুনে পুড়ছে ক্রেতা, নেই পদক্ষেপ! ছবির ক্যাপশন:
দালাল ফড়িয়াদের পকেট ভারি, মার্কেটিং অফিসারের মনিটরিং নিয়ে প্রশ্ন! ঝিনাইদহ অফিস: ‘সকাল থেকে রিকশা চালিয়ে যে আয় হয়েছে, তাই দিয়ে বাজার করতে এসে দেখি গত সপ্তাহের চেয়ে দাম বেড়েছে সবকিছুর। আমাদের আয় না বাড়লেও দিন দিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। তাই দ্রব্যমূল্যের এমন ঊর্ধ্বগতিতে ভালো নেই আমাদের মতো খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। একটু মুরগীর গোস্ত, সবজি কিনব, তার দামও আকাশ ছোঁয়া।’ বাজার করতে এসে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাজ্জাক হোসেন নামের এক রিকশা চালক। গতকাল রোববার ঝিনাইদহ শহরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় সব জিনিসের। গত সপ্তাহ চিকন চাল প্রতি কেজি ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫৭ টাকা। আর মোটা চালের দাম কেজিতে ২ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকায়। এদিকে লাগামহীন গমের আটার দাম। গত সপ্তহে এক কেজির (প্যাকেট) আটা ৩৪ টাকা থাকলেও রোববার ৩৮ টাকা বিক্রি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আরেক ধাপ বেড়ে ৪২ টাকা হতে পারে বলে বলছেন বিক্রেতারা। আর ময়দার দাম বড়েছে কেজিতে ৯ টাকা। সেই সাথে কেজিতে ৩ টাকা বেড়েছে চিনির দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ২০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৫৪ টাকায়। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী ৫ দিনের ব্যবধানে এই সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৪ শতাংশ। তবে বাজারে ডিমের দাম হালিতে ৩ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে যে ডিমের দাম ছিল ৩৮ টাকা, বর্তমানে ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা হালি। এদিকে, তেজপাতা প্রতি কেজি ২০০ টাকা, আদা ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি হলেও রোববার বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা কেজি। আর রসুন কেজিতে ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা। আলুর দাম সপ্তাহ ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকার মধ্যে। আর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি ৪৫ থেকে ৬৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সবজির বাজার রয়েছে চড়া। ঝিনাইদহের নতুন হাটখোলা বাজারে বাজার করতে এসে বেসরকারি চাকরিজীবী শরিফুল ইসলাম বলেন, বাজার থেকে পণ্য কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে। মানুষের আয়ের যে অবস্থা, তার সাথে ব্যয়ের কোনো মিল নেই। ক্রেতারা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন একটু কম দাম পাওয়ার জন্য। মানুষ বাজারের এমন উত্তাপ টের পাচ্ছেন হাড়ে-হাড়ে। আব্দুল্লাহ নূর তুষার নামের এক দিনমজুর বলেন, ‘আমাদের আয়ের থেকে ব্যয় বেশি হচ্ছে। দিনমজুরি করে সারাদিন যে টাকা আয় করি, বাজার করতে গেলে সব শেষ। তাহলে চলব কী করে। সংসারে আরও খরচ রয়েছে।’ বাজার করতে এসে সোহেল রানা বলেন, সপ্তাহ ধরেই ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের দাম। এতে কারো যেন কোনো মাথা ব্যথা নেই। প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় হতদরিদ্ররা পড়ছে বিপাকে। খাদ্য নিরাপত্তা ও মার্কেটিং অফিসারের বাজার মনিটরিং না থাকায় ভোক্তারা পদে পদে জিনিস কিনে ঠকছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুবেলা দু’মুঠো খেয়ে বাঁচার উপায় থাকছে না মানুষের। মহামারির কারণে কপাল পুড়েছে প্রতিটি মানুষের। যাদের চাকরি চলে গেছে, তাদের বেশির ভাগই চাকরি ফিরে পাননি। এই পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের বাজারের আগুন মূল্যে মানুষ পুড়ে মরছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)