ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা:
বগুড়া থেকে সামাজিক স্বীকৃতির দাবি নিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ্ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের বোরহান মেম্বারের ছেলে নাসির আহমেদ লিপুর (২৮) বাড়িতে অনশন করেছেন রাজিয়া সুলতানা (২৫) নামের এক নারী। গতকাল বুধবার এ ঘটনা ঘটে। তবে রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে। কথিত আছে সে কোনো এক প্রতারক চক্রের সদস্য।
এবিষয়ে রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমার সাথে নাসির আহমেদ লিপুর সাত বছরের সম্পর্ক। আমাদের পরিচয় ফেসবুকের মাধ্যমে। ফেসবুকে পরিচয়ের পর ঢাকায় আমাদের দেখা হয়। এরপর মোবইল ফোনে শুরু হয় প্রেমালাপ। ৬ বছর যাবত বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে লিপু। আমি বিয়ের কথা বললে নানাভাবে এড়িয়ে যায় সে। এর মাঝে আমার গর্ভে সন্তান আসে। বিষয়টি লিপুকে বললে সে সন্তান নষ্ট করতে বাধ্য করে। এভাবে ৬ বছর পেরিয়ে গত জুনে মাসে আমি ধর্ষণের অভিযোগে তুলে তেঁজগাও থানায় মামলা দায়ের করি। নাসির আবার আমার সাথে যোগাযোগ করে ও আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখায়। আমরা ইসলামি শরিয়া অনুযায়ী বিবাহ করেছি। কিন্তু হঠাৎ নাসির আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে পরিবারের চাপে। কিন্তু লিপুর পরিবারের সবাই জানতো আমাদের সম্পর্কের কথা। আমি এখানে আসার পর নাসিরের পরিবার নাসিরকে সরিয়ে দিয়েছে বাড়ি থেকে। আমার ওপর লিপুর বাবা বোরহান মেম্বার আজ অমানবিক নির্যাতন করেছে। আমি এখানে আসার সাথে সাথেই সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে চুল ধরে এলোপাতাড়িভাবে রাস্তায় ফেলে পিটিয়েছে। তার প্রমাণ আমার শরীরের দাগ দেখলেই আপনারা বুঝতে পারবেন’।
এবিষয়ে প্রেমিক লিপুর বাবা বোরহান মেম্বার বলেন, ‘আমার ছেলেকে মিথ্যাভাবে ফাঁসিয়ে, আমার ছেলের নামে মিথ্যা মামলা করে এই প্রতারক মেয়ে। ওই মামলায় আমার ছেলে দুই মাস জেলহাজতে থাকার পর জামিনে ছাড়া পেয়ে নিজ বাড়িতে ফিরেছে। আজ এই প্রতাক মেয়ে হঠাৎ আমার বাড়িতে এসে আমাদের মান-সম্মান নিয়ে খেলা করার চেষ্টা করছে।’ মারপিটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বা আমার পরিবারের কেউ এই মেয়েকে মারপিট করেনি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।’
এদিকে, আগামী শুক্রবারে অন্য এক পাত্রীর সাথে লিপুর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার দিন-তারিখ ধার্য্য হয়েছে। এ তথ্য প্রেমিকা জানতে পেরেই ছুটে এসেছেন প্রেমিক লিপুর বাড়ি। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ঘোলদাঁড়ি ক্যাম্প পুলিশ। এ বিষয়ে আদালতে বিচারাধীন মামলা থাকায় সন্ধ্যায় ঘোলদাঁড়ি ক্যাম্প পুলিশের হস্তক্ষেপে ভিকটিমকে আলমডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করে ক্যাম্প ইনচার্জ রাসেল আহমেদ।
এবিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ‘প্রেমিকের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণ মামলা বিচারাধীন থাকায় আপাতত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হতে পারে।’ পরবর্তীতে রাজিয়া সুলতানা চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসে। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের মহিলা সার্জারি বিভাগে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহরাব হোসেন বলেন, হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স দ্বারা মেয়েটির শরীরের আঘাতের স্থান পরীক্ষা করানো হয়েছে। মেয়েটির মুখে ও গলায় চর থাপ্পরের শরীরের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জরুরি বিভাগ থেকে তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা হাসপাতালের মহিলা সার্জারি বিভাগে ভর্তি রাখা হয়েছে।
এবিষয়ে ধর্ষণ মামলার দায়িত্বে থাকা তেঁজগাও থানার এসআই নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমার কাছে রাজিয়া সুলতানা ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে আসলে আমি অভিযোগ নিই এবং নাসির আহমেদ লিপুকে গ্রেপ্তার করি। পরে রাজিয়ার ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করি। ডাক্তারি রিপোর্টে কোনো ধর্ষণের আলামত না পাওয়াই আমি রাজিয়ার বিষয়ে তদন্ত শুরু করি। তদন্তে বেরিয়ে আসে রাজিয়ার একাধিক জন্ম নিবন্ধনের কাগজ, যার এক একটিতে এক এক রকম বয়স, বেরিয়ে আসে রাজিয়া বিবাহিত, তার ৯ বছরের একটি সন্তান আছে। অবশেষে জানা যায়, রাজিয়া এক প্রতারক চক্রের সদস্য। সে বিভিন্নভাবে ছেলেদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়।’
