ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টয়লেট থেকে মালেকা খাতুন (৬০) নামের এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টয়লেট থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। মালেকা খাতুন আলমডাঙ্গা উপজেলায় হারদী ইউনিয়নের কুয়াতলা গ্রামের গোলাম রসুলের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।
জানা গেছে, মালেকা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ডাক্তার ও হাসপাতালে গিয়েও তিনি সুস্থ হননি। গত বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) পেটে জ্বালা-যন্ত্রণা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (হারদী) ভর্তি হন। হাসপাতালে মালেকা খাতুনের সাথে তাঁর স্বামী থাকতেন। গত শুক্রবার বিকেল থেকে পেটের যন্ত্রণা বেড়ে গেলে তাঁর শরীরে স্যালাইন দেওয়া হয়। মালেকা খাতুনের স্বামী গোলাম রসুল তাঁর সাথেই ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিতে তাঁর স্যালাইন শেষ হয়। মহিলা ওয়ার্ডে পুরুষ থাকা নিষেধ, তাই গোলাম রসূল স্ত্রীকে বেডে রেখে হাসপাতালের নিচে যান। রাত ১২টার দিকে ওই ওয়ার্ডের একটি রোগী টয়লেটে গিয়ে দেখতে পান মালেকা খাতুন তাঁর ওড়না গ্রিলের সাথে পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর লাশ ঝুলতে দেখে চিৎকার করে ওই মহিলা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে অন্যান্য রোগীর চেঁচামেচিতে গোলাম রসূল ওপরে গিয়ে দেখতে পান তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মালেকা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসে। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আলমডাঙ্গা থানা পুলিশকে সংবাদ প্রদান করেন। সকালে আলমডাঙ্গা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। পরে সুরাতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ দাফনের অনুমতি পেয়ে বেলা ২টার সময় দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদ রহমান বলেন, ৮ তারিখে পেটে ইনফেকশন ও মানসিক অস্থিরতা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন মালেকা খাতুন। গত দু’দিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। শুক্রবার রাতে পৌনে ১২টার সময় জানতে পারি মালেকা খাতুন বাথরুমে নিজের ওড়না গ্রিলে পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার সাথে তার পরিবারের কোনো লোক থাকত না।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবীর জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাথরুমে নারী রোগীর আত্মহত্যার ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। পরিবারের লোকজনের কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ দাফনের জন্য হস্তাস্তর করা হয়েছে।
