ছবির ক্যাপশন:
কালীগঞ্জে কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে ১৩টি ভেড়ার মৃত্যু
প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ওষুধ খেয়ে ১৩টি ভেড়ার মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দরিদ্র খামার দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ বিভাগ। বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের আইজিপি বেনজির আহম্মেদের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত খামারীকে ৪টি ভেড়া ও নগদ অর্থ সহায়তা করা হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম কালীগঞ্জে এসে ক্ষতিগ্রস্ত আফজাল হোসেন দম্পতির হাতে এ সহায়তা তুলে দেন।
এসময় পুলিশ সুপার বলেন, একজন দরিদ্র খামারীর অনেকগুলো ভেড়া মৃত্যুর খবরটি মাননীয় আইজিপি মহোদয় অবগত হয়েছেন। তিনি সহমর্মিতা প্রকাশ এবং পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে ওই অসহায় পরিবারকে সহায়তাসহ পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। পুলিশ সুপার আরও জানান, যে ওষুধ সেবনের পর ভেড়াগুলো মারা গেছে, সেই ওষুধের নমুনা নিয়ে পুলিশ বিভাগ তাদের ল্যাবে পরীক্ষা করাবে। তারা মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনসহ পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করে দরিদ্র খামারীর আইনি সহায়তা দিবেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার কালীগঞ্জ প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দেওয়া রেনেটা কোম্পানির কৃমিনাশক এভিনেক্স পাউডার খেয়ে উপজেলার কমলাপুর গ্রামের দরিদ্র খামারী আফজাল হোসেনের ১৩টি ভেড়া মারা যায়। এতে হতদরিদ্র পরিবারটি সর্বশান্ত হয়ে পড়ে।
গত শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত খামারী আফজাল হোসেনের বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রী আরজিনা বেগম জানান, তাঁদের খামারে ৩০টি ভেড়া পালন করছিল। এ খামার করতে গিয়ে তারা উপজেলা পরিষদের ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ অফিস থেকে ২০ হাজার ও বিআরডিবি অফিস থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। বসতভিটে ও খামারের মোট ৮ শতক জায়গা ছাড়া মাঠে তাদের আর কোনো চাষের জমা-জমি নেই। ওই খামারটিই ছিল তাদের একমাত্র সম্বল। এখন কীভাবে ওই ঋণ পরিশোধ করবেন, তা নিয়েই চিন্তিত পরিবারটি।
পুলিশের দেওয়া অর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান মিয়া, কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জামির হোসেন, সম্পাদক সাবজাল হোসেন, থানার এসআই জাকারিয়া হোসেন, রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় গণমাধ্যমের কর্মীবৃন্দ।
