ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদার গোপালপুরে পরকীয়া প্রেমিকের কাণ্ড, স্ত্রীকে ঘরে তুলে দিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুরে তালাক হয়ে যাওয়া স্ত্রীকে ঘরে তুলে দিতে স্বামীর ওপর বোমা হামলার অভিযোগ উঠেছে ওই নারীর পরকীয়া প্রেমিক একই এলাকার টিলন ও শরিফের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একটি ছাগল মারা গিয়েছে। ওই নারীর পূর্বের স্বামী লাবলু বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপালপুর বিশ্বাসপাড়ায় মৃত দাউদ মণ্ডলের ছেলে প্রবাসী লাভলুর বাড়িতেই তাঁর ওপর বোমা হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার মঙ্গল হোসেন বুড়োর ছেলে টিলন (৩৫) ও নিলা মিয়ার ছেলে গোপালপুরের বিটিভি’র ক্যামেরা পার্সন বলে পরিচয়দানকারী শরিফসহ কয়েকজনের সাথে পারিবারিক বিরোধ চলছিল লাবলুর পরিবারের। ওই বিরোধের জের ধরে গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর লাবলুর বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন টিলনসহ কয়েকজন। এসময় তাঁরা চিৎকার-চেচামেচি করে লাবলুকে গালিগালাজ করাসহ তালাক দেওয়া স্ত্রী চামেলিকে ঘরে তুলে নিতে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। হুমকি-ধামকির একপর্যায়ে লাল স্কসটেপে মোড়ানো একটি হাত বোমা লাভলুর ওপর ছুড়ে মারে তারা। লাভলু সরে গেলে বোমাটি উঠানের ওপর পড়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এসময় লাবলুর একটি ছাগলও নিহত হয়। পরে লাবলুসহ তার পরিবারের লোকজন চিৎকার-চেচামেচি করলে টিলন, শরিফসহ তাদেরে লোকজন পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে দামুড়হুদা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার লাবলু বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লাবলু অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়াতে কর্মরত ছিলেন। আর এই দীর্ঘ সময়ে একই এলাকার মঙ্গল হোসেন বুড়োর ছেলে টিলন তাঁর স্ত্রী চামেলিকে ফুঁসলিয়ে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কলোহ সৃষ্টি হতে থাকে। লাবলু সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন কৌশলে চামেলি ও টিলন তাঁদের অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে লাবলু দেশে ফিরে আসলে তাঁদের সাংসারিক কলোহ আরও বেড়ে যায়। টিলনের সাথে যোগাযোগে বাধা দিলে বেশ কিছুদিন পূর্বে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন চামেলি। উপায় না পেয়ে চামেলিকে তালাক দিতে বাধ্য হন লাবলু। তালাক দেওয়ার এক মাস না যেতেই চামেলিকে ঘরে তুলে নিতে লাবলুর ওপর বোমা হামলা চালায় পরকীয়া প্রেমিক টিলনসহ তাঁর লোকজন।
লাভলু আরও অভিযোগ করে বলেন, টিলনসহ তাঁদের একটি চক্র গোপালপুরের একাধিক প্রবাসী পরিবারের সংসার তছনছ করে দিয়েছে। এই চক্রটির কাজই হলো প্রবাসীর স্ত্রীদের ফুঁসলিয়ে তাদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলা। এ ধরণের একটি ঘটনায় এর আগেও একটি মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। অনেকের সংসার ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে। আবার অনেকেই মান-সম্মানের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। এ ঘটনায় জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেছেন লাবলুসহ তাঁর পরিবার।
এবিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে দামুড়হুদা থানার পুলিশ। এছাড়াও এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী লাবলু। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি দামুড়হুদ থানার পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
