আলমডাঙ্গায় নিহত গৃহবধূর বাবার সংবাদ সম্মেলন

আপলোড তারিখঃ 2021-05-29 ইং
আলমডাঙ্গায় নিহত গৃহবধূর বাবার সংবাদ সম্মেলন ছবির ক্যাপশন:
হত্যামামলা তুলে নিতে হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগ সমীকরণ প্রতিবেদন: গৃহবধূ মুক্তামালা হত্যামামলা তুলে নিতে হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে আলমডাঙ্গা হাইরোডে অবস্থিত প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার গৃহবধূর ১১ বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে নিহতের বাবা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার গ্রামের আব্দুর রশিদ এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রশিদ লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কয়েক বছর আগে আলমডাঙ্গার এরশাদপুর গ্রামের পাণ্টু হুজুরের আস্তানায় মেয়ে মুক্তামালাকে সাথে নিয়ে আব্দুর রশিদ চিকিৎসা হতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মুক্তামালার সাথে ওই আস্তানায় বসবাসকারী ইছাহক আলীর ছেলে জহুরুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মুক্তামালার ১ম বিয়ের সুবাদে ১ কন্যা সন্তান থাকা সত্বেও জহুরুল ইসলাম তাঁকে বিয়ে করে। প্রায় ৭ মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বউকে নিয়ে জহুরুল পাণ্টু হুজুরের আস্তানায় বসবাস শুরু করেন। জহুরুল ইসলামের বাবা-মাও ওই আস্তানায় বসবাস করেন। সকলেই হুজুরের খাদেম। বিয়ের পর থেকেই মুক্তামালাকে তাঁর শাশুড়ী মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এনিয়ে অশান্তি ছিল। তাঁরা আস্তানার অভ্যন্তরে মুক্তামালাকে নির্যাতন করতেন, আটকে রাখতেন। হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে মুক্তামালার বাবা আব্দুর রশিদ মোবাইল ফোনে মেয়েকে তাঁর বাড়ি বেড়াতে যেতে বলেন। মুক্তামালা যাওয়ার জন্য হুজুরের অনুমতি নিয়েছিলেন। কথা ছিল সকালে আস্তানার ভ্যান মুক্তামালা ও তাঁর শিশুকন্যাকে রেখে আসবে। তবে সকালে নয়, দুপুরের দিকে বাপের বাড়ি আস্তানার নিজস্ব ভ্যানে মুক্তামালার লাশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কাউকে কিছু না বলে মাটি দিয়ে দিতে। প্রথমে আব্দুর রশিদ কী করবেন, তা বুঝে উঠতে পারেননি। তবে আত্মীয়দের পরামর্শে পরবর্তীতে মেয়ের লাশ নিয়ে আলমডাঙ্গা থানায় উপস্থিত হন। বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। আসামি করেন জামাই জহুরুল, জামাইয়ের মা-বাবা, ভাই ও পাণ্টু হুজুরকে। এ মামলা দায়েরের পর থেকে পাণ্টু হুজুরের লোকজন মামলা তুলে নিতে নানাভাবে আব্দুর রশিদ ও তাঁর আত্মীয়-স্বজনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিহত মুক্তামালার শিশুকন্যা মিশকাতুল জানায়, ঘটনার দিন সকালে মায়ের সাথে নানাবাড়ি যাবে তাই তাকে মা মুক্তামালা খাওয়ায়ে দিচ্ছিল। সে সময় তার মাকে পাণ্টু হুজুর নিজ রুমে ডাকে। মায়ের সাথে মিশকাতুলও গিয়েছিল। হুজুর মিশকাতুলকে অন্য আরেকটি ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছিল ছারপোকা মারতে। তার আনুমানিক ১৫ মিনিট পর সকলে বলাবলি শুরু করে মুক্তামালা মারা গেছে, মুক্তামালা মারা গেছে। মিশকাতুল গিয়ে মাকে ডেকেও আর সাড়া পায়নি। মায়ের আঙটি পড়ে ছিল হুজুরের চেয়ারের ওপর। পরে লাশ পাঠিয়ে দিলেও শোকাতুর শিশুকন্যাকে মায়ের লাশের সাথে যেতে যেতে দেওয়া হয়নি। আটকে রাখা হয়। এ বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)