ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, বারাদী:
মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের জাহান মণ্ডলের ছেলে রেজাউল হক জমি ফেরত পাওয়ার আশায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গত বুধবার বেলা ১১টায় মেহেরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে রেজাউল হক বলেন, দলিয়ারপুর গ্রামের দিদার মণ্ডলের পুত্র ফজলু মিয়া আমার জমির সংলগ্ন ১২ কাঠা জমি বিক্রয়ের ঘোষণা দিলে আমি ওই জমি কিনতে মনস্থির করি। ফজলু মিয়া ওই জমি বিক্রয় বাবদ আমার কাছ থেকে ২০ হাজার ৫ শ টাকা সাক্ষীগণের সামনে গ্রহণ করে। এরপরের দিন ফজলু মিয়া দেশান্তর হয়। আমি তাকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে না পেয়ে গ্রামবাসীর পরামর্শে জমির দখল নিই। দীর্ঘ ১৭ বছর আমি এ জমি ভোগ দখল করে আসছি। এ নিয়ে আমাকে ফজলু মিয়ার পরিবারও কোনো দিন বাধা দেয়নি। কিন্তু হঠাৎ গত ফেব্রুয়ারি ২০২১ইং মাসে এএসআই শাকিল আমার বাড়িতে যেয়ে আমাকে ২২ ফেব্রুয়ারি মেহেরপুর থানায় দেখা করতে বলেন। আমি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি মেহেরপুর সদর থানায় উপস্থিত হই। সদর থানায় উপস্থিত হওয়ার পর এসআই শাকিল বলেন ফজলুর জমি তুমি দখল করে খাও জমি তোমাকে ছেড়ে দিতে হবে।
এক পর্যায়ে তিনি আমাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে জোর করে ৫০ হাজার টাকা দিতে চান। আমি সেটাকে নিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি আমার কাছ থেকে জোর করে থানার মধ্যে স্ট্যাম্পে সই করে নেন। আমাকে হুমকি দেন আমি যদি জমিতে যাই তাহলে আমার বিপদ আছে। বর্তমানে ওই জমির দাম প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা। জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ফজলু মিয়া আমার জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে তালবাহানা করছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি লোকজন আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে আমি আপনাদের মাধ্যমে সঠিক বিচার সহ আমার ও আমার পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা দাবি করছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেজাউল হক বলেন, জমি ক্রয়ের জন্য আমি কোন বায়না নামা করিনি বা এর স্বপক্ষে আমার কাছে উপযুক্ত কোন প্রমাণ নেই। এ বিষয়ে এএসআই শাকিল বলেন, রেজাউল হকের বক্তব্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এ বক্তব্য দিয়েছে। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রেজাউল হকের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আমার দায়িত্বে আপোষ মিমাংসা করা হয়েছে। এবং রেজাউল হকের জমি ক্রয়ের স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র না থাকায় ফজলু মিয়া যে টাকা নিয়েছে সেটা ফেরৎ দেবে এবং মাঠের ফসল উঠলে রেজাউল জমি ফেরত দেবে এই মর্মে আপোষ মিমাংসায় বিষয়টি সমাধান হয়।
অপর দিকে, চাঁদপুর গ্রামের জাহান বক্স মন্ডলের ছেলে রেজাউল হকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ এনে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মেহেরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পরিবারটি। ভুক্তভোগীর পক্ষে জামাতা মোঃ ফজলুল হক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার শাশুড়ি জমির মালিক সংসারের প্রয়োজনে দশ বছর আগে রেজাউল হকের কাছে দশ বছরের জন্য জমি টা বন্ধকী দেয়া হয়। এবং দশ বছর পর আমি আমার শাশুড়ির পক্ষে মোঃ রেজাউলের কাছে জমি ফেরৎ চাইলে সে বলে এই জমির মালিক আমি। জমি ফেরৎ চাওয়ার কারণে অনেক ঝামেলার পর সে আমাকে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেই। পরে হুমকির কারণে আমি মেহেরপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। তখন সদর থানার ওসি আমাকে দাঁড় করিয়ে রেখে এ এস আই শাকিলকে বলে এই চাচাদের জমির মিমাংসার দায়িত্ব দিলাম। উভয় পক্ষকে থানা নিয়ে এসে সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে মিমাংসা করে দেবেন। এ এস আই শাকিল উপস্থিতি থেকে উভয় পক্ষের কথা বলার সুযোগ দিলে মোঃ রেজাউল বলে ১৫ দিনের মধ্যে ১৮ হাজার ৫ শ টাকা ফেরৎ দিলে আমি জমি ছেড়ে দেব। এ সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষ মেনে নেয়। থানা থেকে চলে আসার পর রেজাউল বলে আমি এ বিচার মানিনা। তিনি আরও বলেন, এঘটনার পর আমি জমিতে গিয়ে দেখি জমিতে লাগানো ধৌনচি গাছ রেজাউল বিষ দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, এই অন্যায়ের বিচারের দাবিতে এখানে এসেছি। আমি এবং আমার পরিবার এর সুষ্ঠ বিচার চাই।’
