প্রতিবেদক, তিতুদহ:
কোটি টাকার লোভ কার নেই। তবে তক্ষক বিক্রি করে কোটি টাকা আয়? প্রথমে একটু বিস্মিত হলেও চুয়াডাঙ্গার গড়াইটুপি এলাকায় তক্ষক ধরে বিক্রি করে কোটিপতি হওয়ার জন্য এক শ্রেণির মানুষ এখন তক্ষক সাপ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। দিনে প্রাণিটির বসবাসের জায়গাগুলো দেখে এসে রাতের আঁধারে মানুষের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যক্তি। কোটি টাকা দিয়ে এখন তারা বাড়ি-গাড়ির কেনারও স্বপ্ন দেখছেন। একটি তক্ষকই পারে তাদের ওই স্বপ্ন পূরণ করতে। তাই তারা এখন বনে-বাদাড়ে ছুটছেন সেই তক্ষকের খোঁজে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদরের গড়াইটুপি অম্রবর্তী (মেটেরি) মেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকা থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তক্ষক ধরে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে গড়াইটুপি গ্রামের ইবাদত মণ্ডল ও ঈমান আলীর বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাঁদের ধাওয়া করে। ধাওয়ায় ঈমান আলী ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেলেও ইবাদত আলীকে আটকিয়ে রাখেন স্থানীয়রা। পরে তিতুদহ ক্যাম্প পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁকে এমন কাজ পুনরায় না করার শর্তে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরে ঈমান আলী পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি অম্রবর্তী মেলার বটগাছ থেকে কোটিপতি হওয়ার জন্য তক্ষক ধরতে যান গড়াইটুপি গ্রামের ওয়াজেদের ছেলে ইবাদত ও দাউদ মণ্ডলের ছেলে ঈমান আলী। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বটগাছের একাংশ কেটে জাল, গাছ থেকে প্রাণিটি খুঁচিয়ে বের করার মোটা তারসহ প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যান। পরে গাছকাটার একপর্যায়ে স্থানীয় কিছু যুবক তাঁদের কাছে গেলে ঈমান আলী পালিয়ে যান এবং ইবাদত আলীকে আটক করেন। পরে স্থানীয় তিতুদহ ক্যাম্পে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তাঁকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়।
তিতুদহ ক্যাম্পের এএসআই নুর হোসেন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এটাকে নিধন করে মানুষ অন্যায় করছে। অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন লালসায় এ ঘটনা ঘটে। এ দফায় মুচলেকা দিয়ে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুনরায় এরুপ ঘটনা শুনলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
