খেতের জমিতে ঘাষের বেড়া দিয়ে ফসল রক্ষার নতুন কৌশল!

আপলোড তারিখঃ 2021-05-01 ইং
খেতের জমিতে ঘাষের বেড়া দিয়ে ফসল রক্ষার নতুন কৌশল! ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহ অফিস: কৃষকদের উদ্ভাবনী শক্তি দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার খেতের জমিতে ঘাষের বেড়া দিয়ে ফসল রক্ষার কৌশল রপ্ত করেছেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। এতে ফসল রক্ষার পাশাপাশি মিলছে পশুর খাদ্য। কৃষকদের এই উদ্ভাবনী কৌশল কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগে প্রশংসিত হচ্ছে। বাবু মণ্ডল নামের এক কৃষক ১৬ শতক জমিতে পেয়ারার চাষ করেছিলেন। এই পেয়ারার চারা রোপণের সঙ্গে সঙ্গে খেতের আইলে নেপিয়ার ঘাষের চারাও রোপণ করেন। উভয় চারা বড় হতে থাকে। ঘাষের গাছগুলো দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু হলে বাঁশের চটা দিয়ে বেঁধে দেন তিনি। এভাবে এই ঘাষ হয়ে যায় ফসল রক্ষার বেড়া। আর খেতের মধ্যে থাকা পেয়ারার চারাও নিরাপদে বড় হয়ে ওঠে। কৃষক বাবু মণ্ডল জানান, পেয়ারা গাছ থেকে পেয়ারা বিক্রি করে যেমন পঁয়সা পেয়েছেন, তেমনই আইলে থাকা ঘাষও বিক্রি করেছেন। কিছু ঘাষ বাড়িতে থাকা গরু-ছাগলের খাবার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এখনও তাঁর খেতের আইলে এই ঘাষ রয়েছে। আগামীতে ওই জমিতে ঝালগাছ লাগাবেন। ঝাল বিক্রির পাশাপাশি ঘাষও বিক্রি করবেন বলে আশা রয়েছে তাঁর। বাবু মণ্ডল একা নন, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে কৃষকরা তাঁদের খেতের ফসল রক্ষায় বেড়া হিসেবে নেপিয়ার ঘাষ বেছে নিয়েছেন। মাঠের পর মাঠ এই ঘাষ লাগিয়ে তা দিয়ে বেড়া তৈরি করে ফসলের খেত ঘেরা হয়েছে। এতে ফসলের খেতের মধ্যে সহজে কেউ প্রবেশ করতে পারছে না। গরু-ছাগলও প্রবেশ করতে পারবে না। কৃষি বিভাগও বলছেন এটা খুবই ভালো খবর। সরেজমিনে কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষীকুণ্ডু, বলুহর, ফুলবাড়ি, এলাঙ্গী গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য খেত এই বেড়া দিয়ে ফসল রক্ষা করা হচ্ছে। ঘাষের বেড়ার মধ্যে নানা ধরনের সবজির চাষ করা হয়েছে। লক্ষীকুণ্ডুু গ্রামের মাঠে কথা হয় কৃষক বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, কোটচাঁদপুর এলাকায় এই নেপিয়ার ঘাষের চাষ হচ্ছে প্রায় ১৫-১৬ বছর। প্রথমে ফুলবাড়ি এলাকায় এই চাষ শুরু হয়। বর্তমানে গোটা উপজেলার সব এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের এলাকাতেও ব্যাপকভাবে এই ঘাষের চাষ হচ্ছে। সাব্দালপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে এই নেপিয়ার ঘাষের চাষ করলে বছরে তিন দফায় কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকার ঘাষ বিক্রি করা যায়। কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী চলতি বছর কোটচাঁদপুর উপজেলায় প্রায় ১৩ শ বিঘা জমিতে এই ঘাষের চাষ হচ্ছে। বলুহর গ্রামের কৃষক বজলুর রহমান জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে কুলের চাষ করেছেন। সেই জমিতে ঘাষ দিয়ে বেড়া দিয়েছেন। কুল ও ঘাষ বিক্রি করে টাকা পেয়েছেন। কৃষক সামাউল ইসলাম জানান, প্রথমে ২-১ জন কৃষক জমির আইলে এই ঘাষ রোপণ করেছিলেন। এখন অনেক কৃষক এই বেড়া তৈরিতে ঝুঁকে পড়ছেন। এখন মাঠের পর মাঠ এই ঘাষের বেড়া দেখা যায়। কৃষকরা মনে করেন, এটা তাঁদের উদ্ভাবন, যা দিয়ে খেত রক্ষার পশাপাশি পশু খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছেন। এবিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মহাসিন আলী জানান, ঘাষ দিয়ে বেড়া তৈরি করছেন কৃষকরা, এটা তাঁরা দেখেছেন। এটা অবশ্যই ভালো একটা কাজ। কৃষক এতে লাভবান হচ্ছেন। খেতের ফসল রক্ষার পাশাপাশি কৃষকরা জমির আইল থেকে পশুখাদ্য পেয়ে যাচ্ছেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)