ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
মেহেরপুর শহরের কলেজ মোড় গোল চত্বরে ইফতারের আগমুহূর্ত্বে এক অনন্য চিত্র। পুরো গোল চত্বরজুড়ে রয়েছে ইফতারে সমাহার। ছোট ছোট প্যাকেটে সুন্দর করে ইফতার সাজানো রয়েছে। পথচারী অসহায় দুস্থ সকলেই ইফতারের পূর্বমুহূর্তে গোলচত্বরের কাছে এসে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। যে যার ইচ্ছা মতো ইফতার তুলে নিচ্ছেন। কেউ বা রাস্তার পাশে বসেই ইফতার করে নিচ্ছেন। আবার কেউবা নিজের চাহিদা মতো পরিবার পরিজনের জন্য ইফতারের প্যাকেট নিয়ে চলে যাচ্ছেন। এই করোনা মহামারির সময় যাদের সামর্থ্য নেই, তারা যেন ইফতার নিতে লজ্জায় না পড়ে এ কারণে দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর মেহেরপুর ব্যুরো প্রধান ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল মেহেরপুর প্রেসের সম্পাদক মিজানুর রহমান জনির উদ্যোগে রোজাদারদের ইফতার করাচ্ছেন তিনি।
মিজানুর রহমান জনি বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে আর্থিক অনটনের কারণে এই রমজানে অনেকে ইফতার করতে পারে না। এমন অসচ্ছল পরিবার রয়েছে, যারা কারো কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাততে পারে না। আমার জানা মতে, এমন পরিবারেরও সন্ধান আমি পেয়েছি, শুধু এক গ্লাস পানি আর দুচারটে চাল অথবা খেজুর দিয়ে নিজের ও পরিবারের লোকজনকে নিয়ে ইফতার করছে। তাদের কথা ভেবেই কয়েক রোজা পরে এক দিন ভাবলাম এমন একটি কাজ করতে হবে, যাতে এই সকল অসহায় পরিবারগুলো তিপ্তির সাথে ইফতার করবে আবার কোনো লজ্জাও পাবে না। তাই মেহেরপুর কলেজ মোড়ের গোল চত্বরটা শহরের সবচেয়ে বড় পরিসরের মোড় হওয়ায় ওখানে ইফতার রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম। প্রতিদিন ইফতারের এক ঘণ্টা আগে গোল চত্বরে অর্থাৎ আল্লাহু ক্যালিগ্রাফির নিচে ইফতারের প্যাকে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়। এখন থেকে বিভিন্নজন তাদের চাহিদা মতো ইফতার তুলে নেন। কোনো কোনো ব্যক্তি তাঁর পরিবার-পরিজনের জন্য একাধিক প্যাকেট নিয়ে যান, আবার কেউ কেউ একটি প্যাকেট নিয়ে রাস্তার ধারে বসে ইফতার করেন।
প্রতিদিন ৭০-৮০ প্যাকেট ইফতার এখানে রাখা হয়। ইফতারের মেন্যুতে রয়েছে ছোলা, চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু কলা মুড়ি। আবার কোনো কোনো দিন থাকে সবজি খিচুড়ি। ইফতারের প্রতিদিন গড়ে ৬-৭ শ টাকা মতো খরচ হয়। এর পুরো খরচটাই বহন করে মিজানুর রহমান জনি। তাঁকে সহযোগিতা করেন মো. সাইদ, সান মোহাম্মদ, সোহানুর রহমান নামে তিন যুবক।
কলেজ মোড়ের বাসিন্দা ইয়ারুল ইসলাম বলেন, এমন অভূতপূর্ব ইফতার প্রদান এবারই প্রথম দেখলাম। যোখানে মানুষ ইফতার দিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত। সেখানে ইফতারের প্রদানের কোনো ছবি তোলার বিষয় নেই। নেই কোনো হুড়োহুড়ি, যে যার মতো এসে প্যাকেট তুলে নিয়ে তিপ্তি সহকারে ইফতার খুলছেন।
