ছবির ক্যাপশন:
মহেশপুরে রোববারের হট কেক সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নাইট গার্ড
ঝিনাইদহ অফিস:
দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকায় ‘এক দিনে সাড়ে ১১ বিঘা জমি কিনে আলোচনায় এক নাইট গার্ড’ শীর্ষক খবর প্রকাশের পর বিষয়টি মহেশপুরে টফ অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে জীবননগর ও মহেশপুরের দত্তনগর বাজারে সময়ের সমীকরণ পত্রিকা পৌঁছানোর পর কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পত্রিকা শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেককে সংবাদটি ফটোকপি করে পড়তে দেখা গেছে। এক কথায় বলা যায় সময়ের সমীকরণ ছিল রোববারের হট কেক।
এদিকে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহেশপুর শহরের মামুন ক্লিনিকের নিচের চায়ের দোকানে পত্রিকার নিউজ নিয়ে সরব আলোচনায় মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ। একজন নাইট গার্ডের উত্থান নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন। চুন্নিরাইট এলাকার মধ্যবয়সি এক ব্যবসায়ী পত্রিকা পড়তে পড়তে বলে ওঠেন, মহেশপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কি তাহলে মগের মুল্লুকে পরিণত হলো? তাঁর কথায় সাই দেন পাশের মুদির দোকানি ও কিছু পথচারী। নাইটগার্ড তরিকুলের গ্রামের বাড়ি নেপা ইউনিয়নের সেজিয়া গ্রামের মানুষ তাঁর এই কালো সম্পদ অর্জনের খবরে হতবাক। সেজিয়া গ্রামের মানুষ পত্রিকা ও নেট দুনিয়ায় তরিকুলের কোটিপতি হওয়ার খবরটি পড়েছেন আগ্রহ ভরে। এ নিয়ে তাদের নানা নেতিবাচক মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে ফেসবুকে।
এদিকে সকাল থেকেই নাইটগার্ড তরিকুল অফিসে এসে আশপাশ দিয়ে ঘুরেছেন। তাঁকে দলিল লেখকদের সেরেস্তায় বসে থাকতেও দেখা যায়। সাব-রেজিস্টার সঞ্জয় কুমার আচার্য্য শৈলকুপায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় অফিস ফাঁকা ছিল। উপজেলা পরিষদ চত্বরে পত্রিকার নিউজ নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে। দীর্ঘদিন নির্যাতিত মানুষ পত্রিকার নিউজে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে।
ঝিনাইদহ থেকে যাওয়া একজন গণমাধ্যম কর্মী মহেশপুর সাব-রেজিস্টি অফিসের সর্বশেষ অবস্থা জানাতে যুক্ত হন সময়ের সমীকরণ পত্রিকার সঙ্গে। তিনি জানান, একজন নাইট গার্ডের মুখোশ খুলে দেওয়ায় শহরের মানুষ খুব খুশি। এই সাহসী নিউজটি অনেক আগেই মহেশপুরের সাংবাদিকদের করা উচিৎ ছিল বলে মত দেন উপজেলা পরিষদে নানা কাজে আসা সাধারণ মানুষ। কিন্তু তাঁরা করেন নি। ফলে ২০ বছর ধরে জমি রেজিস্ট্রিতে অতিরিক্ত টাকা দিতে দিতে ফতুর জমি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতরা। সংবাদ প্রকাশের পর দুর্নীতিবাজ নাইটগার্ড তরিকুলের বরখাস্ত ও তাঁর উচ্ছিষ্টভোগীদের আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে।
উল্লেখ্য, গতকাল রোববার সময়ের সমীকরণ পত্রিকায় শেষের পাতায় নাইটগার্ড তরিকুলের অবৈধ সম্পদ অর্জনের খবর প্রকাশিত হলে এনিয়ে মহেশপুর শহর আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়। ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর একদিনে মহেশপুর পৌর এলাকার ১১২ নম্বর বগা, ১০৮ নম্বর হামিদপুর ও ১১০ নম্বর জলিলপুর মৌজায় ৬ দলিলের (দলিল নম্বর ৯৩২৬, ৯৩২৭, ৯৩২৮, ৯৩২৯, ৯৩৩০ ও ৯৩৩১) মাধ্যমে সাড়ে ১১ বিঘা জমি (৩৮৪.৭৫ শতক) কিনে তুমুল আলোচনায় উঠে আসেন নাইটগার্ড তরিকুল।
