৩০ বছরেও হয়নি হত্যার বিচার, পরিবারের করুণ দশা

আপলোড তারিখঃ 2021-04-01 ইং
৩০ বছরেও হয়নি হত্যার বিচার, পরিবারের করুণ দশা ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুরে দলের জন্য জীবন উৎসর্গকারী ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল হকের প্রতিবেদক, মেহেরপুর: দলের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে একটি সাইনবোর্ড ছাড়া কিছুই পাননি ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক রেজাউল হক। রেজাউলের পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্যরা শোকে-তাপে এখন কেউ মানসিক প্রতিবন্ধী, আবার কেউ জীবন-জীবিকা চালান অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে। গত ৩০ বছর ধরে এই পরিবারটি হত্যার বিচার চেয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। কিন্তু কোনো ফল পাননি। বরং তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রদত্ত ১ লাখ টাকার চেক আওয়ামী লীগের এক জনপ্রতিনিধি ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মিলে রেজাউল হকের পিতা আতর আলীর বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনিয়ে নেয়। ১৯৯২ সালের ১৯ আগস্ট, মেহেরপুর শহরের সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে শুরু হয় তুমুল সংঘর্ষ। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অনেকে আহত হন। ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল হকও মারাত্মক আহত হন। আহতাবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ও পরে সেখান থেকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে চিকিৎসক। পরে তাঁর অবস্থা আরও অবনতি হওয়ায় ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ (তৎকালিন পিজি) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেই সময়ের বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেজাউল হককে দেখতে যান। তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন তিনি। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর ১৯৯৩ সালের ৭ নভেম্বর মারা যান রেজাউল। এ ঘটনায় রেজাউল হকের পিতা আতর আলী বাদী হয়ে মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমীর হাজী ছমির উদ্দিন, তৎকালীন শিবিরের মেহেরপুর জেলার সভাপতি চাপাইনবাবগঞ্জের হাসানুজ্জামান, গাংনীর চৌগাছা গ্রামের আব্দুল ওহাব, একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক মুকুল হোসেন, গাংনী উপজেলার ধানখোলা গ্রামের রেজাউল হোসেনসহ ৩৬ জনকে আসামি করেন। মামলার বাদী রেজাউল হকের পিতা আতর আলী ২০০৭ সালে মারা যান। মারা যাওয়ার পর মামলাটি দেখাশোনা করেন তাঁর বোন রিজিয়া খাতুন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইট আর টিনের ছাউনি দিয়ে ছোট ঝুপড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন শহীদ রেজাউল হকের পরিবারের সদস্যরা। সেখানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গাংনী উপজেলা শহরের বিশ্বাসপাড়া এলাকায় রেজাউল হকের বাড়ির সামনে শহীদ রেজাউলের নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে। সেটিও অযত্ন আর অবহেলায় ভেঙে গেছে। রেজাউল হকের বোন রিজিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার ভাই দলের জন্য রক্ত দিয়েছে। অথচ কয়েকজন স্থানীয় নেতা সেই রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের পরিবারকে এক লাখ টাকা প্রদান করেছিলেন। সেটা তৎকালীন জনপ্রতিনিধি ও ছাত্রনেতা আত্মসাৎ করেছিল। আমার বাবার বুকে অস্ত্র ধরে সেই চেকে সই করে নিয়েছিল তারা। বাবাকে মাত্র বিশ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে ঢাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবারও অভিযোগ দেওয়ার পর ঢাকায় ওই দুই নেতাকে ডাকেন। তারা ওই সময় শেখ হাসিনার কাছে মাফ চান। কিছু টাকা প্রদান করেন। এখন মামলার কার্যক্রমও আমরা জানি না। মামলার আসামিরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আমরা দেখা করতে চাই। আমাদের অসহায় পরিবারের সকল সদস্যই এখন প্রতিবন্ধী। এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা আমাদের জন্য আসেনি। গাংনীর সাবেক পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম প্রতিবন্ধী ভাই আনসার আলীকে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড করে দিয়েছেন। এছাড়া মাঝে মাঝে পৌরসভা থেকে চাল প্রদান করেন।’ রেজাউল হকের ভাগ্নে রোকনুজ্জামান জানান, এই পরিবারের খোঁজখবর রাখে না কেউ। অন্যের বাড়িতে কাজ করে এবং অন্যের দয়ায় কোনো রকম বেঁচে আছে পরিবারটি। রেজাউল হকের ভাবি রাশেদা খাতুন জানান, ‘রেজাউলকে নিয়ে বিভিন্ন নেতা বিভিন্নভাবে নিজেদের তকমা নিচ্ছেন। আমরা এসব বুঝি না। দলের প্রধান মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার সাথে আমরা দেখা করতে চাই। তাঁকে দলের জন্য জীবন দেয়া একটি পরিবারের কথা শুনাতে চাই।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)