ছবির ক্যাপশন:
করোনার ভয়ঙ্কর হানা: ধরন-ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা
সমীকরণ প্রতিবেদন:
দেশে হঠাৎ দ্রুতই করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে বৃদ্ধি পাচ্ছে রোগী। আইসিইউতে সিট খালি নেই। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন করোনার নতুন কোনো ধরন এই সংক্রমণ বাড়ার পেছনে কারণ হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি। এ ছাড়া নতুন আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির হারও বেড়েছে কিনা এমন কোনো গবেষণাও নেই। এসব কারণে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে সর্বত্র। বৃটেন থেকে নতুন স্ট্রেইন দেশে আমদানির কথা বলেছে আইইডিসিআর। খবর আছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের নতুন ধরনের করোনা প্রবেশের। দেশের গবেষকরাও করোনাভাইরাসের ৩৪টি নতুন ধরনের বার্তা দিয়েছেন। সবমিলে করোনার এসব নতুন ধরন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে সংক্রমণের হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সংক্রমণের এই উল্কাবেগে দুশ্চিন্তায় মানুষ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই নিয়ে দেশে বেশি বেশি গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও চারজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৮৬ জন। গতকাল বুধবার রাত আটটায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল জেলায় নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬১৯ জন। গতকাল নতুন আক্রান্ত চারজনই চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাসিন্দা। আক্রান্তদের মধ্যে ৩জন পুরুষ ও একজন মহিলা। আক্রান্তদের বয়স ৩০ থেকে ৬২ বছর।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ১৪ টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিট জন্য ও চুয়াডাঙ্গা জ্বীন এক্সপার্ট ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল এরমধ্যে পূর্বের পেন্ডিং নমুনাসহ মোট ১৫ নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিসে প্রেরণ করে। প্রাপ্ত ১৫ টি নমুনার মধ্যে ৪টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকী ১১টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল জেলা থেকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে সদর উপজেলা থেকে ১৮টি, আলমডাঙ্গা থেকে ২টি ও দামুড়হুদা থেকে ১টি নমুনাসহ ২১টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিট ল্যাবে ও চুয়াডাঙ্গা জ্বীন এক্সপার্ট ল্যাবে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৮ হাজার ৪০৯টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৮ হাজার ১৯৮টি, পজিটিভ ১ হাজার ৬৮৬টি, নেগেটিভ ৬ হাজার ৬৪টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। আক্রান্তদের মধ্যে ১১জন হোম আইসোলেশন ও অন্য ৩জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন ১ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের। এর মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
এদিকে, দেশে হঠাৎ করে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার পেছনে কী কারণ দেখছেন- জানতে জাইলে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, দেশে দ্রুত সংক্রমণ ফের বেড়ে যাচ্ছে। এতে সন্দেহ হচ্ছে বৃটেনের নতুন স্ট্রেইন আমাদের এখানে ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ বৃটেনে নতুন স্ট্রেইনে তরুণরা বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এই নতুন স্ট্রেইনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই ভাইরোলজিস্ট পরামর্শ দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। স্কুল-কলেজ এই মুহূর্তে খোলা যাবে না। তিনি মনে করেন, কোন স্ট্রেইনে আক্রান্ত বাড়ছে তা জানার জন্য দেশে বেশি বেশি গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ৩ হাজার ৫৬৭ জনসহ দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে মোট শনাক্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৮০ হাজার ৮০৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট মারা গেছেন ৮ হাজার ৭৬৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯১৫ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ২৭ হাজার ৯০৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ২৭ হাজার ৬৮৩টি এবং নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৭ হাজার ৫০২টি। এ পর্যন্ত দেশে করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮৬টি। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ। দেশে বর্তমানে ২২১টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এরমধ্যে আরটি-পিসিআরের মাধ্যমে পরীক্ষা হচ্ছে ১১৮টি পরীক্ষাগারে, জিন-এক্সপার্ট মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা হচ্ছে ৩০টি পরীক্ষাগারে। আর র্যাপিড অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে পরীক্ষা হচ্ছে ৭৩টি পরীক্ষাগারে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৫ জনের মধ্যে পুরুষ ১৮ জন এবং নারী ৭ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় পুরুষ মারা গেছেন ৬ হাজার ৬২৫ জন এবং নারী ২ হাজার ১৩৮ জন। শতকরা হিসাবে যা পুরুষ ৭৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং নারী ২৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২৫ জনের মধ্যে বয়স বিবেচনায় দেখা যায়, ৬০ বছরের উপরে ১৪ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে আছেন ২ জন। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৫ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে আছেন ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ জন, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগের আছেন ১ জন করে। এরা সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন।
