ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার জাফরপুরে মাহিম (১০) নামের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার জাফরপুর গ্রামের ঈদগাহপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। হাসপাতালের জরুরি জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আত্মহত্যার বিষয়টি গোপন করে কাঁঠালগাছ থেকে পড়ে গেছে বলে জানান। নিহত মাহিম চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার জাফরপুর গ্রামের ঈদগাহ পাড়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। চিকিৎসক বলছেন, গলায় ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্ত হলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হবে। তবে পুলিশ বলেছে, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।
জানা যায়, গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয় ব্যক্তিরা শিশু মাহিমকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। এসময় তাঁরা বলতে থাকে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলার সময় কাঁঠাল গাছ থেকে পড়ে গেছে। এসময় মাহিমের ফুফু প্রতিবেশীদের চিৎকার শুনে বাড়ির পাশের কাঁঠালতলায় শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে নিয়ে আসে।
শিশুাটর ফুফু বিলকিস বেগম বালেন, ‘আমি আসরের নামাজ পরছিলাম। এসময় বাড়ির পাশের কাঁঠাল তলায় প্রতিবেশীদের চিৎকার শুনতে পারি। নামাজ শেষ করে কাঁঠাল তলায় যেয়ে দেখি মাহিম অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিবেশীরা বলে মাহিম গাছ থেকে পড়ে গেছে। কিন্তু মাহিমকে গাছ থেকে নিচে পড়ে যেতে কেউ দেখেনি। এসময় শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইদুজ্জামান বলেন, ‘বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কয়েকজন মিলে শিশুটিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরিবারের সদস্যরা জানায় শিশুটি খেলা করার সময় গাছ থেকে পড়ে গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই শিশুটির মৃত্যু হয়। প্রথমে শিশুটিকে দেখে মনে হয়েছিল সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে। তাঁর শরীরে বা মাথায় কোনো আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়নি। তবে তাঁর গলায় দড়ি বা এই জাতীয় কিছুর ফাঁসের মতো চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্ত হলে শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।’
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ খান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর থানাধীন জাফরপুরে মাহিম নামের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শিশুটির লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করা হয়েছে। শিশুটির মাতা রেশমা বেগম মাহিমের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। রেশমা বেগম জানান, তাঁর ওপর অভিমান করে মাহিম নিজ ঘড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’ এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাঁদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।’
