ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিন জনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের বানাত খালমাঠে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা আহতদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। আহতরা হলেন- আলমডাঙ্গার খাদিমপুর ইউনিয়েনের খালপাড়া মৃত আমারত আলির ছেলে মজনু জোয়ার্দ্দার (৬০) তাঁর দুই ছেলে মিঠু জোয়ার্দ্দার (৩৫) ও আব্দুল মান্নান জোয়ার্দ্দার (৩১)।
জানা যায়, খাদিমপুর গ্রামের খালমাঠে মজনু জোয়ার্দ্দারে, তাঁর পাঁচভাইসহ বোনের পৈত্রিক জম রয়েছে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাই ও বোন তাঁদের অংশের জমি একই এলাকার মৃত দাউদ মন্ডলের ছেলে সিয়া উদ্দিনের নিকট বিক্রি করে। গতকাল সকালে মজনু জোয়ার্দ্দার ও তাঁর দুই ছেলে তাঁদের অংশের জমিতে বেড়া দিতে গেলে সিয়া উদ্দিন (৪৫), কবির হোসেন (৫০) ও সুলতানের (৪০) সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। কাববিতণ্ডার এক পর্যায়ে সিয়া উদ্দিন, কবির হোসেন ও সুলতান মজনু জোয়ার্দ্দার ও তাঁর দুই ছেলেকে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা আহতদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহানা আহমেদ তাঁদেরকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করেন।
আহত মজনু জোয়ার্দ্দারের ছেলে মিঠু জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘পৈত্রিক পম্পত্তি আমার ফুফু ও চাচারা তাঁদের অংশের জমি একই এলাকার সিয়া উদ্দিনসহ কয়েকজনের কাছে বিক্রি করেছে। আমরা আমাদের অংশের জমিতে বেড়া দিতে গেলে তাঁরা ওই জমিও নিজেদের বলে দাবি করে। এসময় আমরা তাঁদের কথা না শুনে আমাদের অংশের জমিতে বেড়া দিতে সিয়া উদ্দিন, কবির হোসেন, সুলতান তাঁদের সঙ্গে থাকা দা, হাসুয়া দিয়ে আমাদেরকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা আমার বাবা ও আমাদের দুই ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোহানা আহমেদ বলেন, ‘তিনজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে। জরুরি বিভাগ থেকে তাঁদেরকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, আলমডাঙ্গার খাদিমপুরের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিনজন হতাহতের একটি ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আহতরা সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে এ ঘটনায় আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
