নিজস্ব প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাই-বোনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একই পরিবারের ছয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ গ্রামের গড়গড়িপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। আহতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জ গ্রামের গড়গড়িপাড়ার আবু বক্কর (৭০), তাঁর স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৬০), তাঁদের দুই ছেলে বাবলু হোসেন (৩৮), মোমিন হোসেন (৩৩), মেয়ে আসমা আক্তার (৩০), আসমার ছেলে অনিক (১৮) ও বাবলুর স্ত্রী পিংকি খাতুন (২৮)।
জানা যায়, কয়েকদিন পূর্বে মোমিন হোসেনের একটি ছেলে সন্তান হয়েছে। গতকাল তাঁদের বাড়িতে হিজড়ার একটি দল আসে মোমিনের ছেলেকে নাচাতে। হিজড়াদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে টাকা দেওয়ার সময় রোকেয়া বেগম দেখেন তাঁর গচ্ছিত ৫ হাজার টাকার মধ্যে ২ হাজার টাকা নেই। খোয়া যাওয়া ২ হাজার টাকা নিয়েছে কি না ছেলের বউ পিংকিকে জিজ্ঞাসা করলে পিংকি রাগন্বিত হয়ে শ্বাশুড়ি রোকেয়াকে ধাক্কা দেয়। রোকেয়া এ ঘটনা মোবাইল ফোনে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে থাকা মেয়ে আসমাকে জানালে গতকালই আসমা খাতুন বাড়িতে এসে মায়ের গায়ে হাত তোলার প্রতিবাদ করে। এসময় পিংকি ও আসমার মধ্যে হাতাহাতির বেধে যায়। পরিবারের সদস্যরা হাতাহাতি ঠেকাতে গেলে আবু বক্কর তাঁর দুই ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে আবু বক্করের স্ত্রী রোকেয়া বেগম তাঁদের ছেলে বাবলু হোসেন (৩৮), মোমিন হোসেন (৩৩), মেয়ে আসমা আক্তার (৩০) আসমার ছেলে অনিক (১৮) ও বাবলুর স্ত্রী পিংকি খাতুনসহ ৭ জন আহত হন। পরে তাঁরাই একে অপরকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। এসময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত আহতদেরকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করেন। আহতদের মধ্যে- বাবলু হোসেন, মোমিন হোসেন আসমা আক্তারের জখম গুরুতর হওয়ায় তাঁদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রাখেন।
এবিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, জেহালার মুন্সিগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারে ভাই বোনেরদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
