ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনের নিচে মাথা দিয়ে আব্দুল লতিফ আরিফ (৫২) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা রেলবাজারের রেল গেটের অদূরে ১৩/৯৩ পিলারের নিকট এ ঘটনা ঘটে। এসময় ট্রেনের চাকায় আব্দুল লতিফ আরিফের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আব্দুল লতিফ আরিফ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়ার মৃত গোলাম নবী মল্লিকের ছেলে। তিনি মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে ফাঁড়ি লাশঘরে রাখে।
স্থানীয় একজন জানান, আব্দুল লতিফ আরিফকে গতকাল সকালে তাঁর মুদির দোকান বন্ধ করতে দেখেন। আব্দুল লতিফ আরিফ দীর্ঘদিন যাবত ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ছিলেন। ট্রেন লাইনের ওপর যেভাবে দেহ ও মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত আব্দুল লতিফের শ্যালক টুটুল মোল্লা বলেন, দুলাভাই আব্দুল লতিফ বেশ কিছুদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি মুদি ব্যবসা করতেন। অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো দোকান চালাতে পারতেন না। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। সকালে দোকানও খুলেছিলেন তিনি। এরই মধ্যে তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এ কে এম ইউসুফ পলাশ বলেন, সকালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। ট্রেনটি স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা রেলবাজারের রেল গেটের অদূরে ১৩/৯৩ পিলারের নিকট ট্রেনের চাকায় কেটে আব্দুল লতিফ আরিফ নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ি লাশঘরে রাখা হয়।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের উপ-পরিদর্শক নরেশ চন্দ্র দাস বলেন, সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি চুয়াডাঙ্গা স্টেশন ছেড়ে গেলে রেলবাজারের রেল গেটের অদূরে ট্রেনের চাকায় কেটে আব্দুল লতিফ আরিফের মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে ট্রেনের চাকায় মাথা দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহত আব্দুল লতিফের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়। পরে নিহতের পরিবারের সদস্যদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় নিহতের লাশ হস্তান্তর করে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।
